bible
ra
🌐 Language
English
Español
Français
Deutsch
Português
Italiano
Nederlands
Русский
中文
日本語
한국어
العربية
Türkçe
Tiếng Việt
ไทย
Indonesia
All Languages
Home
/
Bengali
/
Bengali Bangladesh MBCL (Kitabul Mukkadas)
/
Lamentations 3
Lamentations 3
Bengali Bangladesh MBCL (Kitabul Mukkadas)
← Chapter 2
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 4 →
1
আমি সেই লোক, যে মাবুদের রাগের শাস্তি পেয়েছে।
2
তিনি আমাকে তাড়িয়ে দিয়েছেন; তিনি আমাকে আলোতে নয়, কিন্তু অন্ধকারে হাঁটিয়েছেন;
3
সত্যিই সারাদিন ধরে তিনি আমার বিরুদ্ধে বারে বারে তাঁর হাত তুলেছেন।
4
আমার চামড়া ও গোশ্তকে তিনি শুকিয়ে ফেলেছেন আর হাড়গুলো ভেংগে দিয়েছেন।
5
তিনি মনোদুঃখ ও কষ্ট দিয়ে আমাকে আটক করে ঘিরে রেখেছেন।
6
যারা অনেক দিন আগে মারা গেছে তাদের মত করে তিনি আমাকে অন্ধকারে বাস করিয়েছেন।
7
আমি যাতে পালাতে না পারি সেজন্য তিনি আমার চারদিক ঘিরে রেখেছেন; আমাকে ভারী শিকল দিয়ে বেঁধেছেন।
8
যখন আমি ডাকি বা সাহায্যের জন্য কাঁদি, তখন আমার মুনাজাত তিনি শোনেন না।
9
ভারী ভারী পাথর দিয়ে তিনি আমার পথ বন্ধ করেছেন; আমার পথ তিনি বাঁকা করে দিয়েছেন।
10
আমার কাছে তিনি ওৎ পেতে থাকা ভল্লুক আর লুকিয়ে থাকা সিংহের মত;
11
পথ থেকে তিনি আমাকে টেনে এনে টুকরা টুকরা করেছেন এবং আমাকে একা ফেলে রেখে গেছেন।
12
তাঁর ধনুকে টান দিয়ে তিনি আমাকে তাঁর তীরের লক্ষ্যস্থান করেছেন।
13
তাঁর তূণ থেকে তীর নিয়ে তিনি আমার দিল ছিদ্র করেছেন।
14
আমার সমস্ত লোকের কাছে আমি হাসির পাত্র হয়েছি; তারা সারাদিন গান গেয়ে গেয়ে আমাকে ঠাট্টা করে।
15
তেতো দিয়ে তিনি আমাকে পূর্ণ করেছেন, বিষ দিয়ে আমার পেট ভরিয়েছেন।
16
তিনি পাথর দিয়ে আমার দাঁত ভেংগেছেন আর ধুলার মধ্যে আমাকে মাড়িয়েছেন।
17
শান্তি আমার কাছ থেকে দূর করা হয়েছে; সুখ কি, তা আমি ভুলে গেছি।
18
তাই আমি বলি, “আমার শক্তি চলে গেছে। মাবুদের কাছ থেকে আমি যা কিছু আশা করেছিলাম তা-ও আর নেই।”
19
আমার কষ্ট ও ঘুরে বেড়াবার কথা মনে কর; মনে কর আমার তেতো ও বিষে পূর্ণ জীবনের কথা।
20
তা সব সময়ই আমার মনে আছে, আর আমার প্রাণ আমার ভিতরে দুঃখিত হয়ে আছে।
21
তবুও আমার আশা আছে, কারণ আমি এই কথা মনে করি:
22
মাবুদের অটল মহব্বতের জন্য আমরা ধ্বংস হচ্ছি না, কারণ তাঁর মমতা কখনও শেষ হয় না;
23
প্রতিদিন সকালে তা নতুন হয়ে দেখা দেয়; তাঁর বিশ্বস্ততা মহৎ।
24
আমি মনে মনে বলি, “মাবুদই আমার সম্পত্তি, তাই আমি তাঁর উপর আশা রাখব।”
25
মাবুদের উপর যারা আশা রাখে ও তাঁর উপর ভরসা করে তাদের তিনি উপকার করেন।
26
মাবুদ উদ্ধার না করা পর্যন্ত নীরবে অপেক্ষা করা ভাল।
27
যৌবন কালে জোয়াল বহন করা মানুষের জন্য ভাল।
28
মাবুদই সেই জোয়াল তার উপর দিয়েছেন, তাই সে একা চুপ করে বসে থাকুক।
29
সে ধুলাতে মুখ ঢাকুক, হয়তো আশা থাকতেও পারে।
30
যে তাকে মারছে তার কাছে সে গাল পেতে দিক, নিজেকে অপমানে পূর্ণ হতে দিক।
31
দীন-দুনিয়ার মালিক তো চিরদিনের জন্য মানুষকে দূর করে দেন না।
32
যদি বা তিনি দুঃখ দেন, তবুও তাঁর অটল মহব্বত অনুসারে তিনি মমতা করবেন,
33
কারণ তিনি ইচ্ছা করে মানুষকে কষ্ট কিংবা মনোদুঃখ দেন না।
34
দেশের সব বন্দীদের পায়ে দলানো,
35
আল্লাহ্তা’লার সামনে মানুষের অধিকারকে অস্বীকার করা,
36
ন্যায়বিচার হতে না দেওয়া- এ সব কি দীন-দুনিয়ার মালিক দেখবেন না?
37
যদি মাবুদ হুকুম না দেন তবে কে মুখে বলে কিছু ঘটাতে পারে?
38
আল্লাহ্তা’লার মুখ থেকেই কি ক্ষতি ও উন্নতি বের হয় না?
39
গুনাহের জন্য শাস্তি পেলে পর মানুষ কেন তা নিয়ে নালিশ করবে?
40
এস, আমরা আমাদের জীবন পথের পরীক্ষা করি ও যাচাই করি এবং মাবুদের কাছে ফিরে যাই।
41
এস, আমরা আমাদের দিল ও হাত বেহেশতে আল্লাহ্র দিকে উঠাই আর বলি,
42
“আমরা গুনাহ্ করেছি, বিদ্রোহ করেছি; তুমি মাফ কর নি।
43
তুমি রাগ দিয়ে নিজেকে ঢেকে আমাদের তাড়া করেছ; মমতা না করে তুমি মেরে ফেলেছ।
44
তুমি মেঘ দিয়ে নিজেকে ঢেকেছ যাতে কোন মুনাজাত তার মধ্য দিয়ে যেতে না পারে।
45
জাতিদের মধ্যে তুমি আমাদের করেছ ময়লা ও আবর্জনার মত।
46
আমাদের সব শত্রুরা আমাদের বিরুদ্ধে মুখ বড় করে হা করেছে।
47
আমরা ভয়, ফাঁদ, সর্বনাশ ও ধ্বংসের মুখে পড়েছি।”
48
আমার লোকেরা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, সেজন্য আমার চোখ থেকে পানির স্রোত বইছে।
49
আমার চোখ থেকে স্রোত বইতেই থাকবে, থামবে না,
50
যে পর্যন্ত না মাবুদ বেহেশত থেকে নীচে তাকিয়ে দেখেন।
51
আমার শহরের সব স্ত্রীলোকদের বিষয়ে আমি যা দেখতে পাচ্ছি, তাতে আমার প্রাণ কাঁদছে।
52
বিনা কারণে যারা আমার শত্রু হয়েছিল তারা পাখীর মত করে আমাকে শিকার করেছে।
53
তারা গর্তের মধ্যে আমার প্রাণ শেষ করে দেবার চেষ্টা করেছে এবং আমার উপর পাথর ছুঁড়েছে।
54
আমার মাথার উপর দিয়ে পানি বয়ে গেছে, আমি ভেবেছিলাম আমি মরে যাচ্ছি।
55
হে মাবুদ, সেই গভীর গর্তের মধ্য থেকে আমি তোমাকে ডাকলাম।
56
তুমি আমার এই মিনতি শুনেছিলে, “সাহায্যের জন্য আমার কান্নার প্রতি তুমি কান বন্ধ করে রেখো না।”
57
আমি যখন তোমাকে ডেকেছি তখন তুমি কাছে এসে বলেছ, “ভয় কোরো না।”
58
হে মালিক, তুমি আমার পক্ষ নিয়েছ, তুমি আমার প্রাণ মুক্ত করেছ।
59
হে মাবুদ, আমার প্রতি যে অন্যায় করা হয়েছে তা তো তুমি দেখেছ। আমার প্রতি ন্যায়বিচার কর।
60
তারা কিভাবে প্রতিশোধ নিয়েছে তা তুমি দেখেছ, দেখেছ আমার বিরুদ্ধে তাদের সব ষড়যন্ত্র।
61
হে মাবুদ, তাদের টিট্কারির কথা তুমি শুনেছ, শুনেছ আমার বিরুদ্ধে তাদের সব ষড়যন্ত্রের কথা।
62
আমার শত্রুরা সারাদিন ধরে আমার বিরুদ্ধে কত ফিস্ ফিস্ করে ও নানা কথা বলে।
63
দেখ, তাদের সমস্ত কাজের মধ্যে তারা গান গেয়ে গেয়ে আমাকে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে।
64
হে মাবুদ, তাদের কাজ অনুসারে তুমি তাদের ফল দাও।
65
তাদের দিল কঠিন কর, আর তোমার বদদোয়া তাদের উপরে পড়ুক।
66
তুমি রাগে তাদের তাড়া কর, তোমার আসমানের নীচ থেকে তাদের ধ্বংস করে ফেল।
← Chapter 2
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 4 →
All chapters:
1
2
3
4
5