bible
ra
🌐 Language
English
Español
Français
Deutsch
Português
Italiano
Nederlands
Русский
中文
日本語
한국어
العربية
Türkçe
Tiếng Việt
ไทย
Indonesia
All Languages
Home
/
Bengali
/
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
/
Lamentations 3
Lamentations 3
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
← Chapter 2
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 4 →
1
একমাত্র আমিই শুধু জানি প্রভু পরমেশ্বরের দণ্ড কী নিদারুণ!
2
নিক্ষেপ করেছেন আমায় তিনি নিবিড় থেকে নিবিড়তর অন্ধকারে।
3
ক্ষত-বিক্ষত করেছেন বারে বারে নিষ্ঠুর আঘাতে।
4
তিনি আমার অস্থি চূর্ণ করেছেন,দেহকে করেছেন জীর্ণ, ক্ষত-বিক্ষত।
5
বন্দী করেছেন আমায় তিনি দুঃসহ দুঃখ ও যন্ত্রণার কারাগারে,
6
নিক্ষেপ করেছেন আমায় নিশ্ছিদ্র অন্ধকারে, করেছেন মৃতলোকবাসীর মত।
7
আমায় শৃঙ্খলিত করেছেন তিনি, বন্দী আমি তাঁর হাতে, পালাবার নেই কোনও পথ।
8
সাহায্যের আশায় আমি করেছি আর্তনাদ, তিনি অগ্রাহ্য করেছেন আমায়।
9
পাথরের দেওয়াল রোধ করে আমার চলার পথ, সোজা হয়ে আমি পারি না চলতে, পা দুখানি করে টলমল।
10
বন্য ভল্লুকের মত তিনি আমার অপেক্ষায় থাকেন, ঝাঁপিয়ে পড়েন সিংহের মত আমার উপর।
11
পথ থেকে টেনে নিয়ে গিয়ে আমাকে খণ্ড-বিখণ্ড করেন তিনি, ছিন্ন-ভিন্ন অবস্থায় করেন পরিত্যাগ।
12
আমি হয়েছি তাঁর ধনুর্বাণের লক্ষ্যস্থল।
13
তাঁর তীক্ষ্ণ শরগুলি বিদ্ধ হয়েছে আমার বক্ষপঞ্জরে।
14
সারাদিন তারা আমায় উপহাস করে, আমি হয়েছি তাদের বিদ্রূপের পাত্র।
15
খাদ্য-পানীয় রূপে আমায় দিয়েছেন তিনি সুতীব্র যন্ত্রণার হলাহল।
16
তিনি আমাকে পদদলিত করেছেন, পাথুরে জমিতে আমার দাঁত গিয়েছে ভেঙে।
17
স্বাস্থ্য, সুখ ও শান্তি কাকে বলে আমি গিয়েছি ভুলে।
18
ফুরিয়ে এসেছে আমার জীবনের দিন, হীনবল হয়েছি আমি, প্রভু পরমেশ্বরের, কাছে প্রত্যাশা আমার হয়েছে নিঃশেষ।
19
নিরাশ্রয়, ছন্নছাড়া অবস্থা আমার, এ চিন্তা তিক্ত বিষের সমান,
20
দুঃখময় এই কথা ভেবে সারাক্ষণ হতাশায় ম্রিয়মাণ হৃদয় আমার।
21
তবু শান্ত মনে এ কথা স্মরণে মনে জাগে আশা–—
22
প্রভু পরমেশ্বরের অবিচল প্রেম আর অপার করুণা স্থায়ী অনন্তকাল।
23
সুর্যোদয়ের মতই তাঁর প্রেম সুনিশ্চিত, ধ্রুব, নূতন প্রভাতের মত সজীব প্রাণময়।
24
প্রভু পরমেশ্বরই আমার সর্বস্ব ধন, তিনিই আমার আশা,আমি তাঁরই পানে চেয়ে থাকি।
25
যারা স্থির বিশ্বাসে করে তাঁর অন্বেষণ, পরম সদয় তিনি তাদের প্রতি, তিনি মঙ্গলময়।
26
তাঁরই পরিত্রাণের প্রতীক্ষায় ধৈর্য ধরে থাকা পরম শ্রেয়।
27
যৌবনেই নিতে হবে সেই ধৈর্যের পাঠ একান্তভাবে।
28
দুঃখ যখন নেমে আসে তীব্র হয়ে, নীরবে সইতে হবে সকল যন্ত্রণা।
29
এখনও আশা আছে, নতশিরে কর আত্মনিবেদন প্রভুর চরণে।
30
আঘাত-অপমান যতই আসুক সয়ে যেতে পারি যেন তাঁরই প্রসাদে।
31
প্রভু পরমেশ্বর করুণার ঈশ্বর, আমাদের দূরে ঠেলে রাখবেন না চিরদিন।
32
দুঃখ বেদনা দিলেও প্রভু, করুণা যে তাঁর অনন্ত অটল,
33
যন্ত্রণা-আঘাত দিয়ে আমাদের পান না তিনি কোন আনন্দ।
34
বন্দীশালার পীড়নে যখন নিপীড়িত হয় আত্মা আমাদের,
35
কেড়ে নেওয়া হয় মানবের সব অধিকার প্রভুরই সাক্ষাতে,
36
যখন বিচারালয়ে বঞ্চিত হই ন্যায়বিচারে প্রভু জানেন সব, এতে তাঁর সায় নেই কোনও।
37
একমাত্র প্রভু পরমেশ্বরের ইচ্ছাই পালিত হয়, তাঁর নির্দেশ বিনা কিছুই পারে না ঘটতে।
38
মঙ্গল ও অমঙ্গল দুই-ই ঘটে নির্দেশে তাঁর।
39
পাপের দণ্ড, সে তো প্রাপ্য আমাদের, কেন তবে এত অভিযোগ?
40
এস, আমরা আপন কর্মের বিচার করি, ফিরে যাই প্রভু পরমেশ্বরের কাছে।
41
এস উন্মুক্ত করে আপন হৃদয়, স্বর্গের অধীশ্বরের কাছে জানাই আকুল প্রার্থনা।
42
বলি, ‘পাপ করেছি, বিরোধিতা করেছি তোমার, এজন্য, হে প্রভু পরমেশ্বর, আমাদের তুমি করনি মার্জনা।
43
করেছ তাড়না প্রভু, করেছ নিধন, তোমার করুণাধারা পড়েছে ঢাকা প্রচণ্ড ক্রোধের আড়ালে।
44
তোমার প্রচণ্ড রোষ যেন ঘন মেঘ, আবরণ করেছে রচনা তোমাকে ঘিরে। ভেদ করে সেই আবরণ প্রার্থনা মোদের পারে না পৌঁছাতে নিকটে তোমার।
45
পরিণত করেছ আমাদের তুমি নিখিল বিশ্বের আবর্জনা স্তূপে।
46
শত্রুর অপমান আর উপহাসের পাত্র হয়েছি আমরা।
47
ধ্বংস আর বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে আমরা চলেছি নিরন্তর, বিপদ ও আতঙ্কের মাঝে আমাদের বাস।
48
স্বজাতির বিনাশে অবিরাম অশ্রুধারায় ভরে গেছে দুটি নয়ন আমার।
49
বাঁধভাঙ্গা স্রোতের মত বয়ে যায় অবিরল আমার এ দুটি নয়নের জল,
50
যতক্ষণ না ঊর্ধ্বলোক থেকে প্রভু পরমেশ্বর দৃষ্টিপাত করেন আমাদের প্রতি।
51
আমার প্রিয় নগরীর কামিনীকুলের বিপর্যয়ে দুঃসহ ব্যথায় দীর্ণ হয় আমার হৃদয়।
52
বিনা কারণে শত্রুরা আমায় ফাঁদে ফেলে ধরেছে পাখির মত।
53
জীবন্ত ছুঁড়ে ফেলেছে আমায় অতল গহ্বরে, সেখানে পাথর দিয়েছে চাপা।
54
ডুবে গিয়েছি জলের গভীরে, প্রবেশ মুখে করেছি অনুভব মরণ আমার দাঁড়ায়ে দুয়ারে।
55
সেই গহ্বরের অতল গভীর হতে কাতর ক্রন্দনে আমি ডেকেছি তোমায়,বাঁচাও আমায়, হে প্রভু পরমেশ্বর।
56
সকরুণ বিনতি আমার শুনেছ তুমি, সাড়া দিয়ে মোর আহ্বানে বলেছ, ‘ভয় নেই’!
58
পরম প্রভু, ওগো ঈশ্বর আমার, নেমে এলে তুমি করতে উদ্ধার, বাঁচালে আমার প্রাণ।
59
বিচার কর তুমি আমার অনুকূলে, জান তুমি কত অন্যায় অবিচার হয়েছে আমার উপর।
60
তুমি জান কত ঘৃণা করে শত্রুরা আমায়, লিপ্ত হয়েছে তারা হীন ষড়যন্ত্রে।
61
হে প্রভু পরমেশ্বর, কি অপমান তারা করে আমায়, শুনেছ সবই তুমি। তুমি তো জান তাদের সকল মন্ত্রণা।
62
আমায় ঘিরে তাদের সকল গুঞ্জন, চলে হাজার অভিসন্ধি আর কুমন্ত্রণা।
63
সকাল সন্ধ্যায় তারা বিদ্ধ করে আমায় তীক্ষ্ণ বিদ্রূপ বাণে।
64
তাদের কৃতকর্মের শাস্তি দাও তুমি, হে প্রভু পরমেশ্বর!
65
অভিশপ্ত হোক তারা, নিক্ষিপ্ত হোক নৈরাশ্যের নিবিড় আঁধারে।
66
তোমার ক্রোধের শিকার হয়ে মুছে যাক অস্তিত্ব তাদের পৃথিবীর বুক থেকে চিরতরে।
← Chapter 2
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 4 →
All chapters:
1
2
3
4
5