bible
ra
🌐 Language
English
Español
Français
Deutsch
Português
Italiano
Nederlands
Русский
中文
日本語
한국어
العربية
Türkçe
Tiếng Việt
ไทย
Indonesia
All Languages
Home
/
Bengali
/
Bengali Bangladesh 2000 SBCL (Pobitro Baibel)
/
2 Samuel 19
2 Samuel 19
Bengali Bangladesh 2000 SBCL (Pobitro Baibel)
← Chapter 18
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 22
Chapter 23
Chapter 24
Chapter 20 →
1
পরে যোয়াবকে জানানো হল যে, অবশালোমের জন্য রাজা কাঁদছেন আর শোক করছেন।
2
এই কথা শুনে সেই জয়ের দিনটা সৈন্যদলের কাছে একটা শোকের দিন হয়ে উঠল, কারণ সেই দিনই সৈন্যেরা শুনতে পেল যে, রাজা তাঁর ছেলের জন্য দুঃখ করছেন।
3
যুদ্ধ থেকে পালিয়ে যাওয়া লোকেরা যেমন লজ্জায় চুপি চুপি ফিরে আসে তেমনি করেই দায়ূদের সৈন্যেরা সেই দিন চুপি চুপি শহরে গিয়ে ঢুকল।
4
রাজা তাঁর মুখ ঢেকে এই বলে জোরে জোরে কাঁদতে লাগলেন, “হায়, আমার ছেলে অবশালোম! হায়, অবশালোম, আমার ছেলে, আমার ছেলে!”
5
তখন যোয়াব ঘরের ভিতরে গিয়ে রাজাকে বললেন, “যারা আপনার জীবন, আপনার ছেলেমেয়েদের জীবন এবং আপনার স্ত্রী ও উপস্ত্রীদের জীবন রক্ষা করেছে আপনি আজ আপনার সেই সব লোকদের অপমান করলেন।
6
যারা আপনাকে ঘৃণা করে তাদেরই আপনি ভালবাসছেন, আর যারা আপনাকে ভালবাসে তাদের আপনি ঘৃণা করছেন। আজকে আপনি পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দিলেন যে, সেনাপতিরা ও তাদের লোকেরা আপনার কাছে কিছুই নয়। আমি দেখতে পাচ্ছি, আমরা সবাই মরে গিয়ে যদি অবশালোম বেঁচে থাকত তাহলে আপনি খুশী হতেন।
7
এখন আপনি বাইরে গিয়ে আপনার লোকদের উৎসাহ দিন। আমি সদাপ্রভুকে সাক্ষী রেখে বলছি যে, আপনি যদি সৈন্যদের কাছে না যান তবে আজ রাতে একজন লোকও আপনার সংগে থাকবে না। আপনার অল্প বয়স থেকে আজ পর্যন্ত আপনার উপর যত অমংগল ঘটেছে সেগুলোর চেয়ে এটাই হবে বড় অমংগল।”
8
তখন রাজা উঠে শহরের ফটকের কাছে গিয়ে বসলেন। লোকেরা যখন জানতে পারল যে, রাজা ফটকের কাছে বসেছেন তখন সবাই তাঁর কাছে আসল। এদিকে অবশালোমের পক্ষের ইস্রায়েলীয় সৈন্যেরা যে যার বাড়ীতে পালিয়ে গিয়েছিল।
9
ইস্রায়েলের সমস্ত গোষ্ঠীর মধ্যে লোকেরা তর্কাতর্কি করে বলতে লাগল, “রাজা শত্রুদের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করেছেন; পলেষ্টীয়দের হাত থেকে তিনিই আমাদের উদ্ধার করেছেন। কিন্তু এখন তিনি অবশালোমের জন্যই দেশ থেকে পালিয়ে গেছেন।
10
যাঁকে আমরা আমাদের উপরে রাজত্ব করবার জন্য অভিষেক করেছিলাম সেই অবশালোম যুদ্ধে মারা গেছেন। তাহলে রাজাকে ফিরিয়ে আনবার জন্য তোমরা কোন কিছু বলছ না কেন?”
11
গোটা ইস্রায়েল দেশে যা বলাবলি হচ্ছে তা রাজার কানে গিয়ে পৌঁছাল। সেইজন্য রাজা দায়ূদ পুরোহিত সাদোক ও অবিয়াথরের কাছে এই কথা বলে পাঠালেন, “আপনারা যিহূদার বৃদ্ধ নেতাদের এই কথা জিজ্ঞাসা করুন, ‘কেন আপনারা রাজাকে তাঁর রাজবাড়ীতে ফিরিয়ে আনতে পিছিয়ে রয়েছেন?
12
আপনারা তো তাঁরই ভাই, তাঁর নিজেরই রক্ত-মাংস। তাহলে রাজাকে ফিরিয়ে আনতে কেন আপনারা পিছিয়ে রয়েছেন?’
13
আপনারা আমার হয়ে অমাসাকে এই কথা বলুন, ‘তুমিও কি আমার রক্ত-মাংস নও? এখন থেকে যোয়াবের জায়গায় তুমি যদি আমার সৈন্যদলের সেনাপতি না হও তবে ঈশ্বরই যেন আমাকে শাস্তি দেন, আর তা ভীষণভাবেই দেন।’ ”
14
এইভাবে দায়ূদ যিহূদার সমস্ত লোকের মন মাত্র একটি লোকের মনের মত করে জয় করে নিলেন। তারা রাজাকে এই কথা বলে পাঠাল, “আপনি ও আপনার সমস্ত লোক ফিরে আসুন।”
15
তখন রাজা ফিরবার পথে যর্দন নদী পর্যন্ত আসলেন। যিহূদার লোকেরা রাজার সংগে দেখা করে তাঁকে যর্দন নদী পার করে নিয়ে আসবার জন্য গিল্গলে এসেছিল।
16
বহুরীম গ্রামের বিন্যামীন-গোষ্ঠীর গেরার ছেলে শিমিয়ি দেরি না করে যিহূদার লোকদের সাথে রাজা দায়ূদের সংগে দেখা করতে আসল।
17
তার সংগে ছিল বিন্যামীন-গোষ্ঠীর এক হাজার লোক এবং শৌলের পরিবারের চাকর সীবঃ ও তার পনেরজন ছেলে আর বিশজন চাকর। রাজা যর্দন নদী পার হওয়ার আগেই তারা তাড়াতাড়ি করে যর্দন নদীর কাছে গিয়ে উপস্থিত হল।
18
রাজার পরিবারের সবাইকে নিয়ে আসবার জন্য এবং রাজার ইচ্ছামত কাজ করবার জন্য তারা হেঁটে পার হওয়ার জায়গা দিয়ে নদী পার হল। রাজা যখন যর্দন পার হবেন ঠিক সেই সময় গেরার ছেলে শিমিয়ি এসে রাজার সামনে উবুড় হয়ে পড়ে বলল,
19
“আমার প্রভু যেন আমার দোষ না ধরেন। আমার প্রভু মহারাজ যেদিন যিরূশালেম ছেড়ে যান সেই দিন আপনার দাস আমি যে অন্যায় করেছিলাম তা যেন আপনি মনে না রাখেন। মহারাজ যেন তাঁর মন থেকে তা দূর করে দেন।
20
আমি জানি যে, আমি পাপ করেছি। সেইজন্য আজ যোষেফের বংশের মধ্যে আমিই সকলের আগে আমার প্রভু মহারাজের সংগে দেখা করবার জন্য এখানে এসেছি।”
21
তখন সরূয়ার ছেলে অবীশয় বললেন, “সদাপ্রভুর অভিষেক করা লোককে শিমিয়ি অভিশাপ দিয়েছিল বলে কি তাকে মেরে ফেলা উচিত নয়?”
22
উত্তরে দায়ূদ বললেন, “হে সরূয়ার ছেলেরা, এই বিষয়ে তোমাদের সংগে আমার সম্বন্ধ কি? আজ কেন তোমরা আমার বিরুদ্ধে যাচ্ছ? আজ কি ইস্রায়েলে কাউকে মেরে ফেলা উচিত? আমি কি এই কথা জানি না যে, আজও আমি ইস্রায়েলীয়দের রাজা?”
23
তারপর রাজা প্রতিজ্ঞা করে শিমিয়িকে বললেন, “তোমাকে মেরে ফেলা হবে না।”
24
এর পর শৌলের নাতি মফীবোশৎ রাজার সংগে দেখা করবার জন্য আসল। রাজা চলে যাবার পর থেকে তাঁর নিরাপদে ফিরে আসবার দিন পর্যন্ত সে নিজের পায়ের যত্ন করে নি, দাড়ি ছাঁটে নি এবং কাপড়-চোপড়ও ধোয় নি।
25
রাজা যিরূশালেমে ফিরে আসলে পর মফীবোশৎ তাঁর সংগে দেখা করবার জন্য আসল। তখন রাজা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “মফীবোশৎ, তুমি আমার সংগে কেন গেলে না?”
26
সে বলল, “আমার প্রভু মহারাজ, আপনার দাস আমি খোঁড়া, তাই বলেছিলাম, ‘আমার গাধার উপর গদি চাপিয়ে আমি তার উপরে চড়ে রাজার সংগে যাব।’ কিন্তু আমার চাকর সীবঃ আমার সংগে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল।
27
আমার প্রভু মহারাজের কাছে সে আমার দুর্নাম করেছে। আমার প্রভু মহারাজ ঈশ্বরের একজন দূতের মত; তাই আমার উপর আপনার যা খুশী তা-ই করুন।
28
আমার দাদুর বংশধরেরা আমার প্রভু মহারাজের কাছে মৃত্যুর উপযুক্ত, কিন্তু তবুও আপনার যে লোকেরা আপনার টেবিলে খেতে বসে আপনি আপনার এই দাসকেও তাদের মধ্যে একটা জায়গা দিয়েছিলেন। তাহলে মহারাজের কাছে আর অনুরোধ করবার আমার কি অধিকার আছে?”
29
রাজা তাকে বললেন, “তোমার আর কিছু বলবার দরকার নেই। তুমি আর সীবঃ জমাজমি ভাগ করে নাও।”
30
মফীবোশৎ রাজাকে বলল, “সে-ই সব কিছু নিক। আমার প্রভু মহারাজ নিরাপদে বাড়ী ফিরে এসেছেন সেটাই আমার পক্ষে যথেষ্ট।”
31
রাজা যিরূশালেমে ফিরে আসবার আগে গিলিয়দীয় বর্সিল্লয় রোগলীম থেকে এসে রাজাকে বিদায় দেবার জন্য তাঁর সংগে যর্দনের পারে এসেছিলেন।
32
বর্সিল্লয় খুব বুড়ো হয়ে গিয়েছিলেন; তাঁর বয়স ছিল আশি বছর। রাজা যখন মহনয়িমে ছিলেন তখন তিনিই তাঁর জন্য খাবার-দাবারের ব্যবস্থা করেছিলেন, কারণ তিনি খুব ধনী লোক ছিলেন।
33
রাজা বর্সিল্লয়কে বললেন, “আমার সংগে পার হয়ে এসে যিরূশালেমে আমার কাছে থাকুন। আমিই আপনাকে পালন করব।”
34
কিন্তু উত্তরে বর্সিল্লয় রাজাকে বললেন, “আমি আর কয় বছরই বা বাঁচব যে, আমি রাজার সংগে যিরূশালেমে যাব?
35
আমার বয়স এখন আশি বছর। কোনটা ভাল আর কোনটা মন্দ তা কি এখন আর আমি বলতে পারি? আপনার দাস আমি এখন যা খাই তার স্বাদ কি আমি বুঝতে পারি? গায়ক-গায়িকাদের গান কি আমি এখনও শুনতে পাই? আপনার এই দাস কেন আমার প্রভু মহারাজের একটা বাড়তি বোঝা হবে?
36
মহারাজ কেন আমাকে এইভাবে পুরস্কার দেবেন? না, না, আমি মাত্র আপনার সংগে যর্দন পার হয়ে যাব,
37
তারপর আমাকে ফিরে যেতে দিন যাতে আমি নিজের বাড়ীতে আমার মা-বাবার কবরের কাছে মরতে পারি। এই দেখুন, আপনার দাস কিম্হম; সে-ই আপনার সংগে যর্দন পার হয়ে যাক। আপনার যা ভাল বলে মনে হয় তার প্রতি আপনি তা-ই করবেন।”
38
রাজা বললেন, “ঠিক আছে, কিম্হম আমার সংগে নদী পার হয়ে যাবে, আর আপনি যা চান আমি তার প্রতি তা-ই করব। এছাড়া আপনি আমার কাছ থেকে যা চান আপনার জন্য আমি তা-ই করব।”
39
এর পর সমস্ত লোক নদী পার হয়ে গেল, তারপর রাজা নদী পার হলেন। রাজা বর্সিল্লয়কে চুম্বন করে আশীর্বাদ করলেন আর বর্সিল্লয় আবার নদী পার হয়ে নিজের বাড়ীতে ফিরে গেলেন।
40
এইভাবে যিহূদার সমস্ত লোক এবং ইস্রায়েলের কিছু লোক রাজাকে নদী পার করে নিয়ে আসল। তারপর রাজা গিল্গলে গেলেন আর কিম্হমও তাঁর সংগে গেল।
41
ইস্রায়েলের বাকী লোকেরা রাজার কাছে এসে বলল, “কেন আমাদের ভাই যিহূদার লোকেরা আপনাকে চুরি করে নিয়ে আসল? তারা আপনাকে, আপনার পরিবার ও আপনার সংগের সব লোকদের নদী পার করে নিয়ে আসল কেন?”
42
উত্তরে যিহূদার সব লোকেরা ইস্রায়েলের লোকদের বলল, “রাজার সংগে আমাদের নিকট সম্বন্ধ রয়েছে বলে আমরা তা করেছি। তোমরা কেন এতে রাগ করছ? আমরা কি রাজার কোন খাবার থেকে কিছু খেয়েছি? নাকি তিনি আমাদের কিছু উপহার দিয়েছেন?”
43
উত্তরে ইস্রায়েলের লোকেরা যিহূদার লোকদের বলল, “আমরা দশ গোষ্ঠী বলে রাজা দায়ূদের উপরে তোমাদের চেয়ে আমাদের অধিকার বেশী। কাজেই তোমরা কেন আমাদের এইভাবে তুচ্ছ করছ? আমাদের রাজাকে ফিরিয়ে আনবার কথা কি আমরাই প্রথমে বলি নি?” কিন্তু ইস্রায়েলের লোকদের চেয়ে যিহূদার লোকদের কথা বেশী কড়া বলে মনে হল।
← Chapter 18
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 22
Chapter 23
Chapter 24
Chapter 20 →
All chapters:
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
13
14
15
16
17
18
19
20
21
22
23
24