bible
ra
🌐 Language
English
Español
Français
Deutsch
Português
Italiano
Nederlands
Русский
中文
日本語
한국어
العربية
Türkçe
Tiếng Việt
ไทย
Indonesia
All Languages
Home
/
Bengali
/
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
/
Daniel 4
Daniel 4
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
← Chapter 3
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 5 →
1
পৃথিবীর প্রত্যেক জাতি, গোষ্ঠী ও প্রত্যেক ভাষাভাষী মানুষের কাছে রাজা নেবুকাডনেজার লিখে পাঠালেনঃ তোমাদের শান্তি অক্ষয় হোক!
2
পরমেশ্বর আমাকে তাঁর যে অলৌকিক ক্রিয়াকর্ম দেখিয়েছেন সেগুলি তোমাদের জানাতে চাই।
3
কি অপূর্ব ঈশ্বরের অলৌকিক কাজ। তিনি দেখান আমাদের সেই পরমাশ্চর্য কর্মের মহিমা, মহাশক্তির পরিচয় বিধৃত রয়েছে তাঁর অলৌকিক কর্মের মাঝে, তিনি শাশ্বত রাজা, তাঁর রাজত্ব আনন্তকাল স্থায়ী।
4
আপন রাজপ্রাসাদে মহাসুখে ঐশ্বর্যের মাঝে ছিলাম আমি।
5
একদিন ঘুমের মধ্যে এল দুঃস্বপ্ন, দর্শনে দেখলাম ভয়ঙ্কর দৃশ্য।
6
ব্যাবিলনের রাজ-উপদেষ্টাদের প্রত্যেককে ডেকে পাঠালাম। স্বপ্নের আর্থ কেউ যদি বলে দিতে পারেন।
7
ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা, জাদুকর, গণক, জ্যোতিষী যে যেখানে ছিলেন সকলকে নিয়ে আসা হল। আমি স্বপ্নটি তাঁদের বললাম কিন্তু কেউ তার ব্যাখ্যা দিতে পারলেন না।
8
তারপর এলেন দানিয়েল। তিনিই বেল্টশৎসর। আমাদের দেবতাদের নামে তাঁর নাম বেল্টশৎসর রাখা হয়েছে। পবিত্র ঈশ্বরের আত্মা তাঁর অন্তরে অধিষ্ঠান করেন। তাই আমি আমার স্বপ্নটি তাঁকে বললাম। বললাম,
9
প্রধান রাজ-উপদেষ্টা বেল্টশৎসর, আমি জানি ঈশ্বরের আত্মা আপনার অন্তরে অধিষ্ঠান করেন। কোন রহস্যের তত্ত্ব উদ্ঘাটন আপনার অসাদ্য নয়। আমার স্বপ্নের অর্থ বুঝিয়ে দিন। স্বপ্নটি এই:
10
ঘুমের মধ্যে দেখলাম, পৃথিবীর ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে একটি প্রকাণ্ড বৃক্ষ।
11
ক্রমে সেটা আরও বাড়তে লাগল। বাড়তে বাড়তে হয়ে উঠল গগনস্পর্শী। পৃথিবীর যে কোন জায়গা থেকে দেখতে পাওয়া যায় তাকে।
12
গাছের পাতাগুলি ভারী সুন্দর। ফলের ভারে নুয়ে পড়ছে ডালপালা। বিশ্বচরাচর সে ফল খেয়েও ফুরাতে পারে না। গাছের ছায়ায় বন্যপশু বিশ্রাম করছে। পাখিরা ডালে ডালে বাসা বেঁধেছে। পৃথিবীর সকলে সে গাছ থেকে আহার সংগ্রহ করছে।
13
কি দেখলাম ভাবছি, এমন সময়ে দেখলাম স্বর্গ থেকে এক দূত নেমে আসছেন, চারিদিকে তাঁর সতর্ক দৃষ্টি।
14
তিনি উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করলেনঃ গাছটিকে কেটে ফেলা হোক, ডালপালা কেটে দাও, পাতাগুলি সব ছেঁটে ফেল, তার সব ফল চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেওয়া হোক। কোন পশুপাখি এ গাছের আশ্রয়ে আর থাকবে না।
15
শুধু গুঁড়িটা যেমন আছে তেমনিই ঘাসের মধ্যে পড়ে থাক। সেখানে সেটিকে লোহা আর পিতলের শিকল দিয়ে বেঁধে রাখ।
16
সাত বছর সে তার মানুষের বোধবুদ্ধি হারিয়ে পশুর মত আচরণ করবে।
17
সতর্ক প্রহরায় রত স্বর্গদূতদের এই সিদ্ধান্ত। অতএব প্রত্যেক মানুষ এই কথা জেনে রাখুক যে পৃথিবীর সব রাজ্য ও শাসনক্ষমতা সর্বাধিপতি প্রভু পরমেশ্বরের কর্তৃত্বাধীন। তিনি যাকে ভাল মনে করেন তার উপর এই সবের কর্তৃত্বভার অর্পণ করেন—সে ব্যক্তি যত নগণ্যই হোক না কেন।
18
রাজা নেবুকাডনেজার বললেন, এই হল আমার স্বপ্ন। বেল্টশৎসর, আমাকে স্বপ্নটির অর্থ বুঝিয়ে দিল। রাজ-উপদেষ্টাদের কেউই পারেন নি এর অর্থ ব্যাখ্যা করতে। কিন্তু আপনি পারবেন কারণ দৈব আত্মা আপনার অন্তরে অবস্থান করেন।
19
দানিয়েল এই স্বপ্নের কথা শুনে আতঙ্কে বোবা হয়ে গেলেন। রাজা বললেন, বেল্টশৎসর, স্বপ্ন ও তার অর্থ বুঝে বিহ্বল হবেন না। বেল্টশৎসর বললেন, মহারাজ, এ স্বপ্ন ও স্বপ্নের বার্তা আপনার শত্রুদের উপর প্রযোজ্য হোক।
20
আপনি যে গাছটি দেখেছিলেন সেটি এত বড় যে জগতের সব জায়গা থেকে সেটিকে দেখা যায়।
21
তার পাতাগুলি সুদৃশ্য, বিশ্বচরাচর তার ফল খেয়ে ফুরাতে পারে না। বন্যপশুরা তার ছায়ায় বিশ্রাম করছে, পাখিরা তার ডালে ডালে বাসা বেঁধেছে।
22
মহারাজ, আপনিই সেই মহীরূহ, সুদীর্ঘ ও সতেজ। আকাশছোঁয়া আপনার মহিমা, জগৎজোড়া আপনার আধিপত্য।
23
আপনি যখন এই দৃশ্য দেখছিলেন সেই সময় এক স্বর্গদূত নেমে এলেন। তিনি বললেনঃ গাছটিকে কেটে ফেল, একেবারে নষ্ট করে দাও। শুধু গুঁড়িটি যেমন আছে তেমনি থাক। লোহা আর পেতলের শিকল দিয়ে ওটাকে বেঁধে ফেল। মাঠের ঘাসের মধ্যে পড়ে থাক ওটা। শিশিরে ভিজুক এই গুঁড়িটা। সাতবছর জন্তুজানোয়ারের সঙ্গে বসবাস করুক সে।
24
মহারাজ, এই ঘোষণার মধ্যেই রয়েছে আপনার ভাবী জীবনের ঘটনাবলীর সঙ্কেত। প্রভু পরমেশ্বর ঘোষণা করেছেনঃ
25
মানুষের সমাজ থেকে আপনাকে দূর করে দেওয়া হবে। পশুদের সঙ্গে আপনাকে বসবাস করতে হবে। সাত বছর আপনাকে বলদের মত ঘাস খেয়ে থাকতে হবে, খোলা মাঠে শুয়ে শিশিরে ভিজতে হবে। তখন আপনি মানতে বাধ্য হবেন যে সর্বাধিপতি প্রভু পরমেশ্বরই জগতের সমস্ত রাজ্যের প্রকৃত অধিপতি। তিনি যাকে চান তারই হাতে তুলে দেন কর্তৃত্বভার।
26
আদেশ হল, গুঁড়িটি যেমন আছে তেমনি থাক। এর অর্থ: আপনি যখন স্বীকার করবেন ঈশ্বরই জগতের প্রকৃত অধিপতি, তখনই আপনি আবার ফিরে পাবেন আপনার রাজত্ব।
27
অতএব হে রাজন, আমার কথা শুনুন, ন্যায্য আচরণ করুন ও দীনদরিদ্রের প্রতি দয়াপরবশ হোন। হয়তো আপনার সুদিন আরও কিছুকাল বজায় থাকবে।
28
নেবুকাডনেজারের জীবনে একদিন এই সব কিছুই সত্য হয়ে উঠেছিল।
29
মাত্র এক বছর পরের কথা, একদিন তিনি ব্যাবিলনের রাজপ্রাসাদের ছাদে বেড়াচ্ছিলেন।
30
তিনি আপন মনে বললেন, অপূর্ব এই ব্যাবিলন! অনুপম আমার এই রাজধানী। আমারই হাতে গড়া। আমার বৈভব, আমারই পরাক্রমের নিদর্শনস্বরূপ আমি একে গড়ে তুলেছি। এ আমারই গৌরব ঘোষণা করে।
31
কথাগুলি শেষ হতে না হতেই স্বর্গ থেকে এক দৈববাণী ভেসে এল: রাজা নেবুকাডনেজার শোন, তোমার রাজক্ষমতা তোমার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হবে।
32
মানুষের সমাজ থেকে তোমাকে বহিস্কৃত করা হবে, তুমি জন্তুজানোয়ারের সঙ্গে দিন কাটাবে। সাত বছর বলদের মত ঘাস খাবে। তবেই তুমি বুঝবে যে জগতের সব রাজ্য ও ক্ষমতা সর্বাধিপতি প্রভু পরমেশ্বরেরই। তিনি যাকে চান তারই হাতে তুলে দেন কর্তৃত্বভার।
33
কথাগুলি ফলতে সময় লাগল না। নেবুকাডনেজারকে মানুষের সমাজ থেকে দূর করে দেওয়া হল, তাঁকে বলদের মত ঘাস খেয়ে দিন কাটাতে হল। রাত্রে খোলা মাঠ হল তাঁর শয্যা। শিশিরে সিক্ত হত তাঁর সর্বাঙ্গ। তাঁর চুল হয়ে গেল পাখির পালকের মত লম্বা, আর নখগুলি হল পাখির নখের মত লম্বা।
34
রাজা বললেন, সাত বছর গত হলে একদিন আমি আকাশের দিকে চেয়ে ছিলাম। এমন সময়ে আবার ফিরে পেলাম মনের সুস্থ, স্বাভাবিক স্বাচ্ছন্দ্য। তখন আমি পরাৎপর ঈশ্বরের মহিমা কীর্তন করলাম, গাইলাম তাঁর প্রশস্তি যিনি নিত্য, শাশ্বত, সুমহানঃ চিরন্তন কর্তৃত্বে তিনি সমাসীন অক্ষয়, অম্লান তাঁর রাজত্বকাল।
35
মানুষ, সে তো তাঁর চোখে নগণ্য, তাঁরই শুভ সঙ্কল্প নিয়ন্ত্রণ করে মর্ত্য মানুষের জীবন, ঊর্ধ্ব লোকবাসী সকলে করেন তাঁরই সদিচ্ছা পালন। তাঁর প্রতিরোধ করে এমন কে আছে? তাঁর কাজের জন্য কৈফিয়ৎ চায় এমন স্পর্ধা কার?
36
আমি ফিরে পেলাম সুস্থ মস্তিস্ক, ফিরে এল আমার রাজ্যের হৃত গৌরব। মন্ত্রী, অমাত্যেরা আমাকে সাদরে অভ্যর্থনা করল, আমাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা হল রাজক্ষমতায়। আমার রাজমহিমা বেড়ে উঠল আগের চেয়ে অনেকগুণ বেশী।
37
অতএব আমি নেবুকাডনেজার স্বর্গের অধিপতি ঈশ্বরের মহিমা, প্রশস্তি ও গুণকীর্তন করি। তাঁর প্রতিটি কাজ ধর্মসঙ্গত ও সঠিক। উদ্ধত, অহঙ্কারী মানুষের দর্পতিনি চূর্ণ করতে পারেন।
← Chapter 3
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 5 →
All chapters:
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12