bible
ra
🌐 Language
English
Español
Français
Deutsch
Português
Italiano
Nederlands
Русский
中文
日本語
한국어
العربية
Türkçe
Tiếng Việt
ไทย
Indonesia
All Languages
Home
/
Bengali
/
Bengali Bangladesh MBCL (Kitabul Mukkadas)
/
1 Samuel 14
1 Samuel 14
Bengali Bangladesh MBCL (Kitabul Mukkadas)
← Chapter 13
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 22
Chapter 23
Chapter 24
Chapter 25
Chapter 26
Chapter 27
Chapter 28
Chapter 29
Chapter 30
Chapter 31
Chapter 15 →
1
এদিকে তালুতের ছেলে যোনাথন একদিন তাঁর অস্ত্র বহনকারী যুবকটিকে বললেন, “চল, আমরা ওপাশে ফিলিস্তিনীদের ছাউনিতে যাই।” কথাটা কিন্তু তিনি তাঁর বাবাকে জানালেন না।
2
তালুত তখন গিবিয়ার সীমানায় মিগ্রোণ বলে একটা জায়গার একটা ডালিম গাছের নীচে বসে ছিলেন। তাঁর সংগে ছিল ছ’শো লোক,
3
আর তাদের মধ্যে ছিলেন অহিয়, যাঁর পরনে ছিল এফোদ। অহিয় ছিলেন অহীটুবের ছেলে, অহীটুব ছিলেন ঈখাবোদের ভাই, ঈখাবোদ ছিলেন পীনহসের ছেলে আর পীনহস ছিলেন আলীর ছেলে; আলী শীলোতে মাবুদের ইমাম ছিলেন। যোনাথন যে বের হয়ে গেছেন তা কেউ জানত না।
4
যে গিরিপথ পার হয়ে যোনাথন ফিলিস্তিনীদের সৈন্য-ছাউনির কাছে যাওয়ার কথা বলেছিলেন সেই গিরিপথের দু’পাশটা ছিল খাড়া উঁচু পাথরের দেয়ালের মত। তার এক পাশের নাম বোৎসেস ও অন্য পাশের নাম সেনি।
5
তার এক পাশ ছিল উত্তরে মিক্মসের দিকে আর অন্য পাশ ছিল দক্ষিণে গেবার দিকে।
6
যোনাথন তাঁর অস্ত্র বহনকারী যুবকটিকে বললেন, “চল, আমরা ওপাশে ঐ খৎনা-না-করানো লোকদের ছাউনিতে যাই। হয়তো মাবুদ আমাদের জন্য কিছু করবেন, কারণ তিনি তাঁর নিজের ইচ্ছামতই কম লোক দিয়ে হোক বা বেশী লোক দিয়ে হোক জয়ী হতে পারেন।”
7
অস্ত্র বহনকারী লোকটি তখন বলল, “আপনার মন যা বলে তা-ই করুন। চলুন, আপনার ইচ্ছামতই আমি চলব।”
8
যোনাথন বললেন, “তাহলে চল, আমরা ওপাশে ওদের দিকে গিয়ে ওদের দেখা দেব।
9
ওরা যদি আমাদের বলে, ‘দাঁড়াও, আমরা তোমাদের কাছে আসছি,’ তাহলে আমরা যেখানে থাকব সেখান থেকে আর ওদের কাছে উঠে যাব না।
10
কিন্তু যদি ওরা বলে, ‘আমাদের কাছে উঠে এস,’ তাহলে আমরা উঠে যাব। মাবুদ যে আমাদের হাতে ওদের তুলে দিয়েছেন ওটাই হবে আমাদের কাছে তার চিহ্ন।”
11
এই বলে ফিলিস্তিনী সৈন্যদের সামনে গিয়ে তাঁরা দু’জন দেখা দিলেন। তখন ফিলিস্তিনীরা বলল, “ঐ দেখ, গর্তে লুকানো ইবরানীরা বের হয়ে আসছে।”
12
তাদের সৈন্য-ছাউনির লোকেরা যোনাথন ও তাঁর অস্ত্র বহনকারী লোকটিকে বলল, “আমাদের কাছে উঠে আয়, তোদের দেখিয়ে দিচ্ছি।” তখন যোনাথন তাঁর অস্ত্র বহনকারী লোকটিকে বললেন, “আমার পিছনে পিছনে উঠে এস। মাবুদ বনি-ইসরাইলদের হাতে ওদের দিয়ে রেখেছেন।”
13
যোনাথন চার হাত-পায়ে উপরে উঠে গেলেন আর তাঁর অস্ত্র বহনকারী লোকটিও তাঁর পিছনে পিছনে উঠে গেল। ফিলিস্তিনীরা যোনাথনের হাতে মারা পড়তে লাগল আর তাঁর অস্ত্র বহনকারী লোকটিও তাঁর পিছনে পিছনে ফিলিস্তিনীদের মারতে লাগল।
14
যোনাথন ও তাঁর অস্ত্র বহনকারী লোকটির আক্রমণের শুরুতেই কমবেশী আধা একর জমির মধ্যে প্রায় বিশজন লোক মারা পড়ল।
15
এর ফলে ফিলিস্তিনীদের যুদ্ধের মাঠের ছাউনিতে এবং সমস্ত সৈন্যদের মধ্যে একটা ভীষণ ভয় দেখা দিল; এমন কি, তাদের মিক্মসের ছাউনির ও হানাদার দলের সৈন্যেরা ভয়ে কাঁপতে লাগল, আর সেই সংগে ভূমিকমপও হল। সেই ভীষণ ভয় আল্লাহ্র কাছ থেকে এসেছিল।
16
বিন্ইয়ামীন এলাকার গিবিয়াতে তালুতের পাহারাদার সৈন্যেরা দেখতে পেল যে, ফিলিস্তিনী সৈন্যেরা দলছাড়া হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে।
17
তালুত তখন তাঁর সংগের লোকদের বললেন, “সৈন্যদের জমায়েত করে সাজিয়ে দেখ, কে আমাদের মধ্য থেকে চলে গেছে।” তাতে তারা দেখতে পেল যোনাথন ও তাঁর অস্ত্র বহনকারী লোকটি সেখানে নেই।
18
তালুত তখন অহিয়কে বললেন, “আপনি আল্লাহ্র সিন্দুকটি নিয়ে আসুন।” (সেই সময় সিন্দুকটি বনি-ইসরাইলদের কাছেই ছিল।)
19
তালুত যখন ইমামের সংগে কথা বলছিলেন তখন ফিলিস্তিনীদের ছাউনিতে গোলমাল চলছিল এবং তা বেড়ে যাচ্ছিল। কাজেই তালুত ইমামকে বললেন, “থাক্, লাগবে না।”
20
তারপর তালুত ও তাঁর সব সৈন্যেরা যুদ্ধের ডাকে সাড়া দিয়ে একত্র হয়ে যুদ্ধ করতে গেলেন। তাঁরা দেখলেন যে, ফিলিস্তিনীরা একজন আর একজনের উপর তলোয়ার চালাচ্ছে এবং তাদের মধ্যে ভীষণ বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে।
21
এর আগে যে সব ইবরানীরা ফিলিস্তিনীদের মধ্যে থাকত এবং তাদের সংগে ছাউনিতে গিয়েছিল তারাও তখন ফিরে গিয়ে তালুত ও যোনাথনের সংগেকার বনি-ইসরাইলদের সংগে যোগ দিল।
22
আফরাহীমের পাহাড়ী এলাকায় লুকিয়ে থাকা ইসরাইলীয়রাও যখন শুনল ফিলিস্তিনীরা পালিয়ে যাচ্ছে তখন তারাও বেরিয়ে এসে যুদ্ধে যোগ দিল এবং ফিলিস্তিনীদের পিছনে তাড়া করল।
23
এইভাবে মাবুদ সেই দিন বনি-ইসরাইলদের উদ্ধার করলেন, আর বৈৎ-আবন পার হয়েও যুদ্ধ চলতে লাগল।
24
সেই দিনটা বনি-ইসরাইলদের খুব কষ্টে কাটল, কারণ তালুত তাদের দিয়ে একটা কসম খাইয়ে নিয়েছিলেন যে, তিনি সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত, শত্রুদের উপর প্রতিশোধ না নেওয়া পর্যন্ত যদি কেউ কিছু খায় তবে তার উপর যেন বদদোয়া পড়ে। কাজেই সেই দিন লোকেরা কেউ কিছু খায় নি।
25
তারা সবাই গিয়ে এমন এক জায়গায় ঢুকল যেখানে গাছপালা আছে। সেখানে মাটির উপর কিছু মধু তাদের চোখে পড়ল।
26
তারা দেখল, একটা চাক থেকে মধু ঝরে পড়ছে কিন্তু কসম ভাংবার ভয়ে তা মুখে দিল না।
27
যোনাথন শোনেন নি যে, তাঁর পিতা লোকদের দিয়ে এই রকম একটা কসম খাইয়ে নিয়েছেন। তাই তিনি তাঁর হাতের লাঠির আগাটা বাড়িয়ে মৌচাকে ঢুকালেন এবং মধু হাতে নিয়ে খেতে লাগলেন। তাতে তাঁর শরীরে শক্তি ফিরে আসল।
28
তখন সৈন্যদের একজন তাঁকে বলল, “আপনার বাবা সৈন্যদের দিয়ে একটা কঠিন কসম খাইয়ে নিয়েছেন আর বলেছেন, ‘আজ যদি কেউ কিছু খায় তবে তার উপর বদদোয়া পড়বে।’ তাই লোকেরা এত দুর্বল হয়ে পড়েছে।”
29
তখন যোনাথন বললেন, “আমার বাবা তো লোকদের কষ্ট দিচ্ছেন। দেখ, এই মধু একটুখানি মুখে দেওয়াতে আমার শরীরে কেমন শক্তি ফিরে এসেছে।
30
শত্রুদের কাছ থেকে লুটে নেওয়া খাবার থেকে যদি আজ লোকেরা খেতে পারত তাহলে কত ভাল হত, আর ফিলিস্তিনীরাও আরও অনেক বেশী মারা পড়ত।”
31
বনি-ইসরাইলরা সেই দিন মিক্মস থেকে অয়ালোন পর্যন্ত ফিলিস্তিনীদের মারতে মারতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল।
32
তাই তারা লুটের জিনিসের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ভেড়া, গরু, বাছুর ধরে মাটিতে ফেলে জবাই করে রক্তসুদ্ধই গোশ্ত খেতে লাগল।
33
তখন লোকেরা গিয়ে তালুতকে বলল, “দেখুন, ওরা সবাই রক্তসুদ্ধ গোশ্ত খেয়ে মাবুদের বিরুদ্ধে গুনাহ্ করছে।” তিনি বললেন, “তোমরা বেঈমানী করেছ। এখন আর দেরি না করে একটা বড় পাথর গড়িয়ে এখানে নিয়ে এস।”
34
তারপর তিনি বললেন, “তোমরা লোকদের মধ্যে গিয়ে বল যেন তারা তাদের বলদ বা ভেড়া এখানে আমার কাছে নিয়ে এসে জবাই করে আর তার পরে খায়। রক্তসুদ্ধ গোশ্ত খেয়ে কেউ যেন মাবুদের বিরুদ্ধে গুনাহ্ না করে।” সেই রাতে লোকেরা যে যার বলদ নিয়ে এসে সেখানে জবাই করল।
35
মাবুদের উদ্দেশে তালুত সেখানে একটা কোরবানগাহ্ তৈরী করলেন। এটাই হল মাবুদের উদ্দেশে তাঁর তৈরী প্রথম কোরবানগাহ্।
36
পরে তালুত বললেন, “চল, আজ রাতে আমরা ফিলিস্তিনীদের তাড়া করি এবং সকাল পর্যন্ত তাদের জিনিসপত্র লুট করি। তাদের একজনকেও আমরা বাঁচিয়ে রাখব না।” জবাবে লোকেরা বলল, “আপনি যা ভাল মনে করেন তা-ই করুন।” কিন্তু ইমাম বললেন, “চলুন, এখানে আমরা প্রথমে আল্লাহ্র কাছে জিজ্ঞাসা করি।”
37
তখন তালুত আল্লাহ্কে জিজ্ঞাসা করলেন, “আমি কি ফিলিস্তিনীদের তাড়া করব? বনি-ইসরাইলদের হাতে কি তুমি তাদের তুলে দেবে?” কিন্তু আল্লাহ্ সেই দিন তালুতকে কোন জবাব দিলেন না।
38
সেইজন্য তালুত বললেন, “সৈন্যদলের নেতারা, আপনারা এখানে আসুন। আজকের এই গুনাহ্ কি করে হল আসুন, আমরা তাঁর খোঁজ করি।
39
বনি-ইসরাইলদের উদ্ধারকর্তা আল্লাহ্র কসম যে, আমার ছেলে যোনাথনও যদি তা করে থাকে নিশ্চয়ই তাকেও মরতে হবে।” কিন্তু লোকেরা সবাই চুপ করে রইল।
40
তালুত তখন সমস্ত বনি-ইসরাইলদের বললেন, “আপনারা এক দিকে দাঁড়ান, আর আমি ও আমার ছেলে যোনাথন অন্য দিকে দাঁড়াই।” লোকেরা বলল, “আপনি যা ভাল মনে করেন তা-ই করুন।”
41
তালুত তখন বনি-ইসরাইলদের মাবুদ আল্লাহ্কে বললেন, “এর সঠিক জবাব আমাদের দাও।” তাতে দোষ পড়ল তালুত ও যোনাথনের উপর আর বাকী লোকেরা ছাড়া পেল।
42
তালুত বললেন, “আমার ও আমার ছেলে যোনাথনের মধ্যে গুলিবাঁট করা হোক।” তাতে যোনাথনের উপর দোষ পড়ল।
43
তালুত তখন যোনাথনকে বললেন, “আমাকে বল, তুমি কি করেছ?” যোনাথন তাঁকে বললেন, “আমার লাঠির আগা দিয়ে আমি একটুখানি মধু খেয়েছি, তাই আমাকে মরতে হবে।”
44
তালুত বললেন, “জ্বী যোনাথন, তোমাকে মরতেই হবে। আল্লাহ্ যেন তোমাকে শাস্তি দেন, অবশ্যই শাস্তি দেন।”
45
কিন্তু লোকেরা তালুতকে বলল, “কি? যাঁর জন্য বনি-ইসরাইলরা এই মহা উদ্ধার পেয়েছে সেই যোনাথনকে মরতে হবে? কখনও না; আল্লাহ্র কসম যে, তাঁর একটা চুলও মাটিতে পড়বে না, কারণ তিনি আজ যা করেছেন তা আল্লাহ্র সংগে থেকেই করেছেন।” লোকেরা এইভাবে যোনাথনকে রক্ষা করল, তাঁকে হত্যা করা হল না।
46
এর পর তালুত আর ফিলিস্তিনীদের তাড়া করলেন না, আর ফিলিস্তিনীরাও নিজেদের দেশে চলে গেল।
47
তালুত বনি-ইসরাইলদের বাদশাহ্ হবার পর দেশের চারপাশের সমস্ত শত্রুদের সংগে, অর্থাৎ মোয়াবীয়, অম্মোনীয়, ইদোমীয়, সোবার বাদশাহ্দের ও ফিলিস্তিনীদের সংগে যুদ্ধ করেছিলেন। তিনি যেদিকে যেতেন সেদিকেই ভীষণ ক্ষতি করতেন।
48
তিনি বীরের মত যুদ্ধ করে আমালেকীয়দের হারিয়ে দিয়ে লুটেরাদের হাত থেকে বনি-ইসরাইলদের রক্ষা করেছিলেন।
49
যোনাথন, যিশ্বি ও মল্কীশূয় নামে তালুতের তিনজন ছেলে ছিল। তাঁর বড় মেয়ের নাম ছিল মেরব ও ছোট মেয়ের নাম ছিল মীখল।
50
তাঁর স্ত্রীর নাম ছিল অহীনোয়ম। তিনি ছিলেন অহীমাসের মেয়ে। তালুতের প্রধান সেনাপতির নাম ছিল অবনের। তিনি তালুতের চাচা নেরের ছেলে।
51
তালুতের পিতা কীশ ও অবনেরের পিতা নের ছিলেন অবীয়েলের ছেলে।
52
তালুতের রাজত্বকালে ফিলিস্তিনীদের সংগে ভীষণ যুদ্ধ হয়েছিল। কোন শক্তিশালী লোক বা বীর পুরুষ দেখলেই তিনি তাকে তাঁর সৈন্যদলে নিয়ে নিতেন।
← Chapter 13
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 22
Chapter 23
Chapter 24
Chapter 25
Chapter 26
Chapter 27
Chapter 28
Chapter 29
Chapter 30
Chapter 31
Chapter 15 →
All chapters:
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
13
14
15
16
17
18
19
20
21
22
23
24
25
26
27
28
29
30
31