bible
ra
🌐 Language
English
Español
Français
Deutsch
Português
Italiano
Nederlands
Русский
中文
日本語
한국어
العربية
Türkçe
Tiếng Việt
ไทย
Indonesia
All Languages
Home
/
Bengali
/
Bengali Bangladesh MBCL (Kitabul Mukkadas)
/
2 Kings 4
2 Kings 4
Bengali Bangladesh MBCL (Kitabul Mukkadas)
← Chapter 3
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 22
Chapter 23
Chapter 24
Chapter 25
Chapter 5 →
1
শাগরেদ-নবীদের দলের একজনের স্ত্রী চিৎকার করে আল-ইয়াসাকে বলল, “আপনার গোলাম আমার স্বামী মারা গেছেন আর আপনি জানেন যে, তিনি মাবুদকে ভয় করতেন। কিন্তু এখন আমার স্বামীর একজন পাওনাদার আমার দুই ছেলেকে তার গোলাম বানাবার জন্য নিয়ে যেতে এসেছে।”
2
জবাবে আল-ইয়াসা তাকে বললেন, “কিভাবে আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারি? আমাকে বল তো তোমার ঘরে কি আছে?” স্ত্রীলোকটি বলল, “একটুখানি তেল ছাড়া আপনার বাঁদীর ঘরে আর কিছুই নেই।”
3
আল-ইয়াসা বললেন, “তুমি ঘুরে ঘুরে তোমার সমস্ত প্রতিবেশীদের কাছ থেকে অনেকগুলো খালি পাত্র চেয়ে আনবে, মাত্র অল্প কয়েকটা আনবে না।
4
তারপর তুমি ও তোমার ছেলেরা ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেবে। পরে তুমি ঐ সব পাত্রগুলোতে তেল ঢালবে আর একটা করে পাত্র ভর্তি হলে পর সেটা সরিয়ে রাখবে।”
5
স্ত্রীলোকটি তখন তাঁর কাছ থেকে চলে গিয়ে ছেলেদের নিয়ে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল। ছেলেরা তার কাছে পাত্র আনতে লাগল আর সে তেল ঢালতেই থাকল।
6
সব পাত্র ভরে গেলে পর সে তার একজন ছেলেকে বলল, “আর একটা পাত্র নিয়ে এস।” জবাবে ছেলেটি বলল, “আর একটাও পাত্র বাকী নেই।” তখন তেল পড়া বন্ধ হয়ে গেল।
7
স্ত্রীলোকটি তখন আল্লাহ্র বান্দার কাছে গিয়ে সব কথা বলল। তিনি বললেন, “তুমি গিয়ে তেল বিক্রি করে তোমার দেনা শোধ করে দাও। যা বাকী থাকবে তা দিয়ে তোমার ও তোমার ছেলেদের খাওয়া-পরা চলবে।”
8
একদিন আল-ইয়াসা শূনেমে গেলেন। সেখানকার একজন ধনী স্ত্রীলোক তাঁকে খাওয়া-দাওয়া করবার জন্য সাধাসাধি করেছিলেন। পরে যতবার তিনি সেই পথ দিয়ে যেতেন ততবারই সেই বাড়ীতে খাওয়া-দাওয়া করবার জন্য থামতেন।
9
স্ত্রীলোকটি তাঁর স্বামীকে বললেন, “এই যে লোকটি প্রায়ই আমাদের এখানে আসেন আমি বুঝতে পেরেছি যে, তিনি আল্লাহ্র একজন পবিত্র বান্দা।
10
চল, আমরা ছাদের উপরে একটা ছোট কামরা তৈরী করে তার মধ্যে তাঁর জন্য একটা খাট ও বিছানা, একটা টেবিল, একটা চেয়ার ও একটা বাতিদান রাখি। তাহলে তিনি আমাদের কাছে আসলে ওখানে থাকতে পারবেন।”
11
একদিন আল-ইয়াসা এসে সেই উপরের কামরায় গিয়ে শুয়ে রইলেন।
12
তিনি তাঁর চাকর গেহসিকে বললেন, “তুমি ঐ শূনেমীয় স্ত্রীলোকটিকে ডাক।” সে তাঁকে ডাকলে পর তিনি এসে গেহসির সামনে দাঁড়ালেন।
13
আল-ইয়াসা তাঁর চাকরকে বললেন, “ওঁকে বল যে, তিনি আমাদের জন্য এত কষ্ট করেছেন, এখন আমরা তাঁর জন্য কি করতে পারি? আমরা কি তাঁর জন্য বাদশাহ্ বা সেনাপতির কাছে কোন অনুরোধ করব?” জবাবে স্ত্রীলোকটি বললেন, “আমি তো আমার নিজের লোকদের মধ্যে ভালই আছি।”
14
আল-ইয়াসা বললেন, “তবে তাঁর জন্য কি করা যাবে?” গেহসি বলল, “তাঁর কোন ছেলে নেই আর তাঁর স্বামীও বুড়ো হয়ে গেছেন।”
15
পরে আল-ইয়াসা বললেন, “তাঁকে ডাক।” সে তাঁকে ডাকলে পর তিনি এসে দরজার কাছে দাঁড়ালেন।
16
আল-ইয়াসা বললেন, “আগামী বছরের এই সময়ে আপনার কোলে একটা ছেলে থাকবে।” স্ত্রীলোকটি বললেন, “না, হে হুজুর, হে আল্লাহ্র বান্দা, আপনার বাঁদীকে মিথ্যা আশা দেবেন না।”
17
পরে স্ত্রীলোকটি গর্ভবতী হলেন এবং আল-ইয়াসা যেমন বলেছিলেন ঠিক সেইমতই পরের বছর একই সময়ে তিনি ছেলের মা হলেন।
18
ছেলেটি বড় হতে লাগল। একদিন তার পিতা যখন ফসল কাটবার লোকদের সংগে ছিলেন, তখন সে তার পিতার কাছে গিয়ে বলল, “আমার মাথা, আমার মাথা।” তার পিতা একজন চাকরকে বললেন, “ওকে তুলে ওর মায়ের কাছে নিয়ে যাও।”
20
সেই চাকর তাকে তুলে নিয়ে তার মায়ের কাছে দিলে পর সে দুপুর পর্যন্ত মায়ের কোলে বসে রইল, তারপর মারা গেল।
21
স্ত্রীলোকটি উপরে গিয়ে ছেলেটাকে আল্লাহ্র বান্দার বিছানায় শুইয়ে দিলেন। তারপর তিনি দরজা বন্ধ করে বের হয়ে গেলেন।
22
তিনি গিয়ে তাঁর স্বামীকে ডেকে বললেন, “তুমি এখনই একজন চাকর ও একটা গাধা আমার কাছে পাঠিয়ে দাও। আমি তাড়াতাড়ি করে আল্লাহ্র বান্দার কাছে গিয়ে আবার ফিরে আসব।”
23
তাঁর স্বামী বললেন, “তাঁর কাছে আজকে যাবে কেন? আজকে তো অমাবস্যাও নয়, বিশ্রামবারও নয়।” তিনি বললেন, “তাতে ভাল হবে।”
24
তারপর তিনি গাধার উপর গদি চাপিয়ে তাঁর চাকরকে বললেন, “গাধাটা জোরে চালাও, আমি না বললে আস্তে চালাবে না।”
25
এইভাবে তিনি বের হয়ে পড়লেন এবং কর্মিল পাহাড়ে আল্লাহ্র বান্দার কাছে গিয়ে উপস্থিত হলেন। স্ত্রীলোকটি দূরে থাকতেই আল্লাহ্র বান্দা তাঁকে দেখে তাঁর চাকর গেহসিকে বললেন, “ঐ দেখ, সেই শূনেমীয় স্ত্রীলোকটি।
26
তুমি দৌড়ে তাঁর কাছে গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা কর যে, তিনি, তাঁর স্বামী ও তাঁর ছেলেটি ভাল আছে কি না।” স্ত্রীলোকটি বললেন, “সবাই ভাল আছে।”
27
কিন্তু কর্মিল পাহাড়ে আল্লাহ্র বান্দার কাছে পৌঁছে তিনি তাঁর পা জড়িয়ে ধরলেন। গেহসি তাঁকে সরিয়ে দেবার জন্য আসলে আল্লাহ্র বান্দা বললেন, “ওঁকে বাধা দিয়ো না। ওঁর মনে খুব কষ্ট, কিন্তু মাবুদ আমার কাছ থেকে তা লুকিয়ে রেখেছেন, আমাকে বলেন নি।”
28
স্ত্রীলোকটি বললেন, “হে হুজুর, আমি কি আপনার কাছে একটা ছেলে চেয়েছিলাম? আমি কি আপনাকে বলি নি যে, আমাকে আপনি মিথ্যা আশা দেবেন না?”
29
তখন আল-ইয়াসা গেহসিকে বললেন, “তোমার কাপড় তোমার কোমর-বাঁধনিতে গুঁজে নাও আর আমার লাঠিটা হাতে নিয়ে ছুটে যাও। কারও সংগে দেখা হলে তাকে সালাম জানাবে না এবং কেউ তোমাকে সালাম জানালে তার জবাবও দেবে না। আমার লাঠিটা ছেলেটির মুখের উপর রেখে দিয়ো।”
30
কিন্তু ছেলেটির মা বললেন, “আল্লাহ্র ও আপনার প্রাণের কসম যে, আমি আপনাকে ছেড়ে যাব না।” কাজেই আল-ইয়াসা উঠে স্ত্রীলোকটির পিছনে পিছনে চললেন।
31
গেহসি আগে আগে গিয়ে ছেলেটির মুখের উপর লাঠিটা রাখল কিন্তু কোন শব্দ বা কোন সাড়া পাওয়া গেল না। কাজেই গেহসি আল-ইয়াসার সংগে দেখা করবার জন্য ফিরে গেল এবং তাঁকে বলল, “ছেলেটি জাগে নি।”
32
আল-ইয়াসা ঘরে গিয়ে দেখলেন তাঁরই বিছানার উপর মরা ছেলেটি শোয়ানো রয়েছে।
33
তখন তিনি একা সেই ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলেন এবং মাবুদের কাছে মুনাজাত করলেন।
34
তারপর তিনি বিছানার উপর উঠে ছেলেটির মুখের উপরে মুখ, চোখের উপরে চোখ এবং হাতের উপরে হাত রেখে শুলেন। তিনি যখন ছেলেটির উপর নিজে লম্বা হয়ে শুলেন তখন ছেলেটির গা গরম হয়ে উঠল।
35
তারপর তিনি সরে এসে ঘরের মধ্যে পায়চারি করতে লাগলেন। তারপর আবার তিনি বিছানায় উঠে আর একবার ছেলেটির উপর লম্বা হয়ে শুলেন। এবার ছেলেটি সাতবার হাঁচি দিয়ে চোখ খুলল।
36
তখন আল-ইয়াসা গেহসিকে ডেকে বললেন, “শূনেমীয় স্ত্রীলোকটিকে ডাক।” গেহসি তা-ই করল। স্ত্রীলোকটি আসলে পর আল-ইয়াসা বললেন, “আপনার ছেলেকে নিয়ে যান।”
37
স্ত্রীলোকটি ঘরে ঢুকে তাঁর পায়ে পড়লেন এবং মাটিতে উবুড় হয়ে তাঁকে সালাম জানালেন। তারপর তাঁর ছেলেকে নিয়ে তিনি বের হয়ে গেলেন।
38
আল-ইয়াসা গিল্গলে ফিরে গেলেন। তখন সেই এলাকায় দুর্ভিক্ষ চলছিল। একদিন একদল শাগরেদ-নবী তাঁর সংগে বসে ছিলেন। তখন তিনি তাঁর চাকরকে বললেন, “বড় হাঁড়িটা চড়িয়ে এদের জন্য কিছু তরকারি রান্না কর।”
39
তখন শাগরেদ-নবীদের মধ্যে একজন শাক তুলে আনবার জন্য ক্ষেতে গিয়ে বুনো শসার লতা দেখতে পেলেন। তিনি তা থেকে কিছু ফল তুলে কোঁচড় ভরলেন। তারপর ফিরে এসে সেগুলো কেটে তিনি তরকারির হাঁড়িতে দিলেন, কিন্তু সেগুলো কি তা কারও জানা ছিল না।
40
সেই তরকারি লোকদের খেতে দেওয়ার জন্য ঢালা হল, কিন্তু তা খেতে শুরু করে তাঁরা চিৎকার করে বলে উঠলেন, “হে আল্লাহ্র বান্দা, হাঁড়ির মধ্যে মৃত্যু!” তাঁরা তা খেতে পারলেন না।
41
তখন আল-ইয়াসা বললেন, “কিছু ময়দা নিয়ে এস।” তিনি সেই ময়দা হাঁড়ির মধ্যে দিয়ে বললেন, “এবার ওটা লোকদের খেতে দাও।” এতে ক্ষতি করবার মত কিছু হাঁড়ির মধ্যে রইল না।
42
বাল-শালিশা থেকে একজন লোক আল্লাহ্র বান্দার জন্য প্রথমে কাটা ফসল থেকে কুড়িটা যবের রুটি সেঁকে নিয়ে আসল, আর তার সংগে নিয়ে আসল কিছু নতুন ফসল। আল-ইয়াসা বললেন, “এগুলো লোকদের খেতে দাও।”
43
তাঁর চাকর বলল, “একশো জন লোকের সামনে আমি কি করে এটা রাখব?” জবাবে আল-ইয়াসা বললেন, “তুমি লোকদের ওটাই খেতে দাও, কারণ মাবুদ বলছেন, ‘ওরা খাবে আবার কিছু বাকীও থাকবে।’ ”
44
সেই চাকর তখন তা নিয়ে লোকদের সামনে রাখল। মাবুদ যা বলেছিলেন সেইমতই তারা খেল আবার কিছু বাকীও রইল।
← Chapter 3
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 22
Chapter 23
Chapter 24
Chapter 25
Chapter 5 →
All chapters:
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
13
14
15
16
17
18
19
20
21
22
23
24
25