bible
ra
🌐 Language
English
Español
Français
Deutsch
Português
Italiano
Nederlands
Русский
中文
日本語
한국어
العربية
Türkçe
Tiếng Việt
ไทย
Indonesia
All Languages
Home
/
Bengali
/
Bengali Bangladesh MBCL (Kitabul Mukkadas)
/
John 8
John 8
Bengali Bangladesh MBCL (Kitabul Mukkadas)
← Chapter 7
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 9 →
1
এর পরে লোকেরা প্রত্যেকে যে যার বাড়ীতে চলে গেল, কিন্তু ঈসা জৈতুন পাহাড়ে গেলেন।
2
পরের দিন খুব সকালে ঈসা আবার বায়তুল-মোকাদ্দসে গেলে পর সমস্ত লোক তাঁর কাছে আসল। তখন তিনি বসে তাদের শিক্ষা দিতে লাগলেন।
3
এমন সময় আলেম ও ফরীশীরা একজন স্ত্রীলোককে ঈসার কাছে নিয়ে আসলেন। স্ত্রীলোকটি জেনায় ধরা পড়েছিল। আলেম ও ফরীশীরা সেই স্ত্রীলোকটিকে মাঝখানে দাঁড় করিয়ে ঈসাকে বললেন, “হুজুর, এই স্ত্রীলোকটি জেনায় ধরা পড়েছে।
5
তৌরাত শরীফে মূসা এই রকম স্ত্রীলোকদের পাথর ছুঁড়ে হত্যা করতে আমাদের হুকুম দিয়েছেন। কিন্তু আপনি কি বলেন?”
6
তাঁরা ঈসাকে পরীক্ষা করবার জন্যই এই কথা বললেন, যাতে তাঁকে দোষ দেবার একটা কারণ তাঁরা খুঁজে পান। তখন ঈসা নীচু হয়ে আংগুল দিয়ে মাটিতে লিখতে লাগলেন।
7
কিন্তু তাঁরা যখন কথাটা বারবার তাঁকে জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন তখন তিনি উঠে তাঁদের বললেন, “আপনাদের মধ্যে যিনি কোন গুনাহ্ করেন নি তিনিই প্রথমে ওকে পাথর মারুন।”
8
এর পরে তিনি নীচু হয়ে আবার মাটিতে লিখতে লাগলেন।
9
এই কথা শুনে সেই নেতাদের মধ্যে বুড়ো লোক থেকে শুরু করে একে একে সবাই চলে গেলেন। ঈসা কেবল একা রইলেন আর সেই স্ত্রীলোকটি তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে ছিল।
10
ঈসা উঠে সেই স্ত্রীলোকটিকে বললেন, “তাঁরা কোথায়? কেউ কি তোমাকে শাস্তির উপযুক্ত মনে করেন নি?”
11
স্ত্রীলোকটি জবাব দিল, “জ্বী না হুজুর, কেউই করেন নি।” তখন ঈসা বললেন, “আমিও করি না। আচ্ছা যাও; গুনাহে জীবন আর কাটায়ো না।”
12
পরে ঈসা আবার লোকদের বললেন, “আমিই দুনিয়ার নূর। যে আমার পথে চলে সে কখনও অন্ধকারে পা ফেলবে না, বরং জীবনের নূর পাবে।”
13
এতে ফরীশীরা ঈসাকে বললেন, “তোমার সাক্ষ্য সত্যি নয়, কারণ তুমি নিজের পক্ষে নিজেই সাক্ষ্য দিচ্ছ।”
14
ঈসা তাঁদের জবাব দিলেন, “যদিও আমি নিজের পক্ষে নিজে সাক্ষ্য দিই তবুও আমার সাক্ষ্য সত্যি, কারণ আমি কোথা থেকে এসেছি আর কোথায় যাচ্ছি তা আমি জানি। কিন্তু আমি কোথা থেকে এসেছি আর কোথায় যাচ্ছি তা আপনারা জানেন না।
15
মানুষ যেভাবে বিচার করে আপনারা সেইভাবে বিচার করে থাকেন, কিন্তু আমি কারও বিচার করি না।
16
কিন্তু যদি আমি কখনও বিচার করি তবে আমার সেই বিচার সত্যি, কারণ আমি একা নই। আমি তো আছিই আর যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন সেই পিতাও আমার সংগে আছেন।
17
আপনাদের শরীয়তে লেখা আছে, দু’জন যদি একই সাক্ষ্য দেয় তবে তা সত্যি।
18
আমিই আমার নিজের পক্ষে সাক্ষ্য দিই, আর যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন সেই পিতাও আমার পক্ষে সাক্ষ্য দেন।”
19
ফরীশীরা তাঁকে বললেন, “তোমার পিতা কোথায়?” ঈসা জবাব দিলেন, “আপনারা আমাকেও জানেন না আর আমার পিতাকেও জানেন না। যদি আমাকে জানতেন তবে আমার পিতাকেও জানতেন।”
20
বায়তুল-মোকাদ্দসে শিক্ষা দেবার সময়ে দান দেবার জায়গায় ঈসা এই সব কথা বললেন। কিন্তু তখনও তাঁর সময় হয় নি বলে কেউই তাঁকে ধরল না।
21
ঈসা আবার ফরীশীদের বললেন, “আমি চলে যাচ্ছি। আপনারা আমাকে তালাশ করবেন, কিন্তু আপনারা আপনাদের গুনাহের মধ্যে মরবেন। আমি যেখানে যাচ্ছি আপনারা সেখানে আসতে পারবেন না।”
22
তখন ইহুদী নেতারা বললেন, “সে আত্মহত্যা করবে নাকি? কারণ সে বলছে, ‘আমি যেখানে যাচ্ছি আপনারা সেখানে আসতে পারবেন না।’ ”
23
ঈসা তাঁদের বললেন, “আমি উপর থেকে এসেছি আর আপনারা নীচ থেকে এসেছেন। আপনারা এই দুনিয়ার, কিন্তু আমি এই দুনিয়ার নই।
24
তাই আমি আপনাদের বলেছি, আপনারা আপনাদের গুনাহের মধ্যে মরবেন। যদি আপনারা বিশ্বাস না করেন যে, আমিই সেই, তবে আপনাদের গুনাহের মধ্যেই আপনারা মরবেন।”
25
এতে নেতারা ঈসাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কে?” তিনি তাঁদের বললেন, “প্রথম থেকে আমি আপনাদের যা বলছি আমি তা-ই।
26
আপনাদের সম্বন্ধে বলবার আর বিচার করে দেখবার আমার অনেক কিছুই আছে। কিন্তু যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তাঁর মধ্যে মিথ্যা নেই; আমি তাঁর কাছে যা শুনেছি তা-ই মানুষকে বলি।”
27
তাঁরা বুঝলেন না ঈসা পিতার বিষয়েই তাঁদের কাছে বলছিলেন।
28
এইজন্য ঈসা বললেন, “যখন আপনারা ইব্ন্তেআদমকে উঁচুতে তুলবেন তখন বুঝতে পারবেন যে, আমিই সেই। আর এও বুঝতে পারবেন যে, আমি নিজে থেকে কোন কিছুই করি না, বরং পিতা আমাকে যে শিক্ষা দিয়েছেন আমি সেই সব কথাই বলি।
29
যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তিনিই আমার সংগে আছেন। তিনি আমাকে একা ছেড়ে দেন নি, কারণ যে কাজে তিনি সন্তুষ্ট হন আমি সব সময় সেই কাজই করি।”
30
ঈসা যখন এই সব কথা বলছিলেন তখন অনেকেই তাঁর উপর ঈমান আনল।
31
যে ইহুদীরা তাঁর উপর ঈমান এনেছিল ঈসা তাদের বললেন, “আমার কথামত যদি আপনারা চলেন তবে সত্যিই আপনারা আমার উম্মত।
32
তা ছাড়া আপনারা সত্যকে জানতে পারবেন, আর সেই সত্যই আপনাদের মুক্ত করবে।”
33
ইহুদী নেতারা তখন ঈসাকে বললেন, “আমরা ইব্রাহিমের বংশের লোক; আমরা কখনও কারও গোলাম হই নি। তুমি কি করে বলছ যে, আমাদের মুক্ত করা হবে?”
34
ঈসা তাঁদের এই জবাব দিলেন, “আমি সত্যিই আপনাদের বলছি, যারা গুনাহে পড়ে থাকে তারা সবাই গুনাহের গোলাম।
35
গোলাম চিরদিন বাড়ীতে থাকে না কিন্তু পুত্র চিরকাল থাকে।
36
তাই পুত্র যদি আপনাদের মুক্ত করেন তবে সত্যিই আপনারা মুক্ত হবেন।
37
আমি জানি আপনারা ইব্রাহিমের বংশের লোক, কিন্তু তবুও আপনারা আমাকে হত্যা করতে চাইছেন, কারণ আমার কথা আপনাদের দিলে কোন স্থান পায় না।
38
আমি আমার পিতার কাছে যা দেখেছি সেই বিষয়েই বলি, আর আপনারা আপনাদের পিতার কাছ থেকে যা শুনেছেন তা-ই করে থাকেন।”
39
এতে সেই ইহুদী নেতারা ঈসাকে বললেন, “ইব্রাহিমই আমাদের পিতা।” ঈসা তাঁদের বললেন, “যদি আপনারা ইব্রাহিমের সন্তান হতেন তবে ইব্রাহিমের মতই কাজ করতেন।
40
আল্লাহ্র কাছ থেকে যে সত্য আমি জেনেছি তা-ই আপনাদের বলেছি, আর তবুও আপনারা আমাকে হত্যা করতে চাইছেন; কিন্তু ইব্রাহিম এই রকম করেন নি।
41
আপনাদের পিতা যা করে আপনারা তা-ই করছেন।” তাঁরা ঈসাকে বললেন, “আমরা তো জারজ নই। আমাদের একজনই পিতা আছেন, সেই পিতা হলেন আল্লাহ্।”
42
ঈসা তাঁদের বললেন, “সত্যিই যদি আল্লাহ্ আপনাদের পিতা হতেন তবে আপনারা আমাকে মহব্বত করতেন, কারণ আমি আল্লাহ্র কাছ থেকে এসেছি আর এখন আপনাদের মধ্যে আছি। আমি নিজ থেকে আসি নি, কিন্তু তিনিই আমাকে পাঠিয়েছেন।
43
কেন আপনারা আমার কথা বোঝেন না? তার কারণ এই যে, আপনারা আমার কথা সহ্য করতে পারেন না।
44
ইবলিসই আপনাদের পিতা আর আপনারা তারই সন্তান; সেইজন্য আপনারা তার ইচ্ছা পূর্ণ করতে চান। ইবলিস প্রথম থেকেই খুনী। সে কখনও সত্যে বাস করে নি, কারণ তার মধ্যে সত্য নেই। সে যখন মিথ্যা কথা বলে তখন সে তা নিজে থেকেই বলে, কারণ সে মিথ্যাবাদী আর সমস্ত মিথ্যার জন্ম তার মধ্য থেকেই হয়েছে।
45
কিন্তু আমি সত্যি কথা বলি, আর তাই আপনারা আমাকে বিশ্বাস করেন না।
46
আপনাদের মধ্যে কে আমাকে গুনাহ্গার বলে প্রমাণ করতে পারেন? যদি আমি সত্যি কথাই বলি তবে কেন আপনারা আমাকে বিশ্বাস করেন না?
47
যে লোক আল্লাহ্র, সে আল্লাহ্র কথা শোনে। আপনারা আল্লাহ্র নন বলে আল্লাহ্র কথা শোনেন না।”
48
তখন ইহুদী নেতারা ঈসাকে বললেন, “আমরা কি ঠিক বলি নি যে, তুমি একজন সামেরীয় আর তোমাকে ভূতে পেয়েছে?”
49
জবাবে ঈসা বললেন, “আমাকে ভূতে পায় নি। আমি আমার পিতাকে সম্মান করি, কিন্তু আপনারা আমাকে অসম্মান করেন।
50
আমি আমার নিজের প্রশংসার চেষ্টা করি না, কিন্তু একজন আছেন যিনি আমাকে সম্মান দান করেন, আর তিনিই বিচারকর্তা।
51
আমি আপনাদের সত্যিই বলছি, যদি কেউ আমার কথার বাধ্য হয়ে চলে তবে সে কখনও মরবে না।”
52
ইহুদী নেতারা তাঁকে বললেন, “এবার আমরা সত্যি বুঝলাম যে, তোমাকে ভূতেই পেয়েছে। ইব্রাহিম ও নবীরা মারা গেছেন, আর তুমি বলছ, ‘যদি কেউ আমার কথার বাধ্য হয়ে চলে সে কখনও মরবে না।’
53
তুমি কি পিতা ইব্রাহিম থেকেও বড়? তিনি তো মারা গেছেন এবং নবীরাও মারা গেছেন। তুমি নিজেকে কি মনে কর?”
54
জবাবে ঈসা বললেন, “যদি আমি নিজের প্রশংসা নিজেই করি তবে তার কোন দাম নেই। আমার পিতা, যাঁকে আপনারা আপনাদের আল্লাহ্ বলে দাবি করেন তিনিই আমাকে সম্মান দান করেন।
55
আপনারা কখনও তাঁকে জানেন নি, কিন্তু আমি তাঁকে জানি। যদি আমি বলি আমি তাঁকে জানি না তবে আপনাদেরই মত আমি মিথ্যাবাদী হব। কিন্তু আমি তাঁকে জানি এবং তাঁর কথার বাধ্য হয়ে চলি।
56
আপনাদের পিতা ইব্রাহিম আমারই দিন দেখবার আশায় আনন্দ করেছিলেন। তিনি তা দেখেছিলেন আর খুশীও হয়েছিলেন।”
57
ইহুদী নেতারা তাঁকে বললেন, “তোমার বয়স এখনও পঞ্চাশ বছর হয় নি, আর তুমি কি ইব্রাহিমকে দেখেছ?”
58
ঈসা তাঁদের বললেন, “আমি আপনাদের সত্যি বলছি, ইব্রাহিম জন্মগ্রহণ করবার আগে থেকেই আমি আছি।”
59
এই কথা শুনে সেই নেতারা তাঁকে মারবার জন্য পাথর কুড়িয়ে নিলেন। কিন্তু ঈসা নিজেকে গোপন করে বায়তুল-মোকাদ্দস থেকে বের হয়ে গেলেন।
← Chapter 7
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 9 →
All chapters:
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
13
14
15
16
17
18
19
20
21