bible
ra
🌐 Language
English
Español
Français
Deutsch
Português
Italiano
Nederlands
Русский
中文
日本語
한국어
العربية
Türkçe
Tiếng Việt
ไทย
Indonesia
All Languages
Home
/
Bengali
/
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
/
2 Samuel 13
2 Samuel 13
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
← Chapter 12
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 22
Chapter 23
Chapter 24
Chapter 14 →
1
দাউদের পুত্র অবশোলোমের একটি সুন্দরী অবিবাহিতা বোন ছিল। তার নাম ছিল তামর। দাউদের আর একটি পুত্র অম্নোন তার প্রেমে পড়ে।
2
তার জন্য অম্নোনের আকুলতা এত তীব্র হয়ে উঠেছিল যে সে অসুস্থ হয়ে পড়ল। কারণ কুমারী মেয়ে তামরকে কাছে পাওয়া অম্নোনের পক্ষে অসম্ভব ছিল।
3
দাউদের ভাই শিমিয়র পুত্র যোনাদব ছিল অম্নোনের বন্ধু। দারুণ ধূর্ত সে।
4
সে অম্নোনকে বলল, তুমি রাজার ছেলে।তুমি কেন দিনের পর দিন এভাবে বিমর্ষ হয়ে পড়ছ? কি ব্যাপার? আমাকে বল। সে বলল, আমার সৎভাই অবশোলোমের বোন তামরকে আমি ভালবাসি।
5
যোনাদব তাকে বলল, ঠিক আছে, তুমি অসুস্থতার ভাণ করে বিছানায় শুয়ে থাক। তোমার বাবা তোমাকে দেখতে এলে তাঁকে বলো যে, আমার বোন তামরের হাতে আমি খেতে চাই। সে এসে আমার সামনে খাবার তৈরী করে আমাকে খাইয়ে যাক।
6
তার কথামত অমনোন অসুস্থতার ভাণ করে শুয়ে রইল। রাজা দাউদ তাকে দেখতে এলে সে তাঁকে বলল, দয়া করে আমার বোন তামরকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিন। সে যেন আমার সামনে বসে খাবার তৈরী করে দেয়। আমি তার হাতে খেতে চাই।
7
দাউদ তখন তামরকে বলে পাঠালেন তোমার ভাই অমনোনের ঘরে গিয়ে তার জন্য খাবার তৈরী করে দাও।
8
কাজেই তামর অম্নোনের ঘরে গেল। গিয়ে দেখল, সে শুয়ে আছে। তামর তখন তার সামনে বসে ময়দা মেখে পিঠে তৈরী করল।
9
তারপর অম্নোনকে পিঠেগুলো পরিবেশন করে খেতে দিলে সে খেতে চাইল না। বলল, সবাইকে এখান থেকে চলে যেতে বল। সকলে চল গেল।
10
তখন অমনোন তামরকে বলল, এবার খাবারগুলো আমার বিছানার কাছে নিয়ে এস, আমাকে নিজের হাতে খাইয়ে দাও।
11
তামর তার কাছে খাবার নিয়ে এলে সে তাকে জড়িয়ে ধরে বলল, এস, আমার কাছে শোও।
12
সে বলল, না দাদা তা হয় না। এমন জঘন্য কাজ করতে আমাকে বাধ্য করো না। ইসরায়েলের মধ্যে এমন কাজ করা উচিত নয়। এমন মুর্খতার কাজ করো না।
13
আমি তাহলে মুখ দেখাব কেমন করে? আর তুমি? তুমিও সমগ্র ইসরায়েলের কাছে ঘৃণার পাত্র হবে। বরং এক কাজ কর, তুমি রাজাকে বল, তিনি আমাকে তোমার হাতে দিতে অসম্মত হবেন না।
14
কিন্তু সে তামরের কথা শুনল না। তার গাযের জোর বেশি তাই সে জোর করে তার সতীত্ব নাশ করল।
15
তারপর তামরের উপর দারুণ ঘৃণায় অম্নোনের মন ভরে গেল। আগে সে তাকে যতখানি ভালবেসেছিল তার চেয়ে বেশি ঘৃণা করতে লাগল। তাকে বলল, এবার দূর হয়ে যাও। সে বলল, না আমি যাব না,
16
আমার সঙ্গে যে ব্যবহার করলে তার চেয়ে এভাবে আমাকে তাড়িয়ে দেওয়াটা বেশি অপরাধ হবে! অমনোন তার কথায় কান দিল না।
17
সে তার খাস চাকরকে ডেকে বলল, এই মেয়েছেলেটাকে আমার সামনে থেকে দূর করে দাও। ওকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দাও।
18
চাকরটি তামরকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল। তামরের পরণে ছিল পুরো অস্তিনের লম্বা জমকালো পোষাক। তখনকার দিনে কুমারী রাজকন্যারা এইরকম পোষাকই পরতো।
19
সে তখন নিজের মাথায় ছাই মেখে পরণের কাপড় ছিঁড়ে দুহাতে মুখ ঢেকে কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল।
20
তার সহোদর অবশালোম তাকে এভাবে দেখে জিজ্ঞাসা করল, অম্নোন কি তোমার সঙ্গে অশালীন ব্যবহার করেছে? কিন্তু বোনটি আমার, এ কথা তুমি কাউকে বল না। কারণ সে তোমারই সৎ ভাই। তুমি মন খারাপ করো না। তাই তামর সেদিন থেকে অবশালোমের বাড়ীতেই বিষণ্ণ মনে নিঃসঙ্গ জীবন কাটাতে লাগল।
21
একথা রাজা দাউদের কানে গেল। তিনি ভীষণ রেগে গেলেন। কিন্তু অমনোন তাঁর প্রথম সন্তান বলে তাকে খুব ভালবাসতেন । তাই তাকে শাস্তি দিলেন না।
22
বোন তামরকে মানভ্রষ্ট করার জন্য অবশালোম অম্নোনকে তীব্র ঘৃণা করলেও মুখে তাকে ভালমন্দ কিছুই বলল না।
23
দুবছর পর ইফ্রয়িম শহরের কাছে বেলহাৎসোরে অবশালোমের মেষপালের লোমকাটার সময় অবশালোম সমস্ত রাজপুত্রকে এনে সেখানে নিমন্ত্রণ করল।
24
সে রাজার কাছে গিয়ে বল, মহারাজ আপনার সেবকের মেষদের লোম কাটা হবে। এই উৎসবে মহারাজ স্বয়ং তাঁর পারিষদদের নিয়ে যোগ দিলে মহারাজ আপনার সেবক ধন্য হবে।
25
রাজা বললেন, না বৎস, আমরা সবাই গেলে তোমার খুব অসুবিধা হবে। সে তাঁকে পীড়াপীড়ি করতে লাগল, তবু তিনি রাজী হলেন না। তাকে আশীর্বাদ করে বিদায় দিলেন।
26
অবশালোম তখন তাঁকে বললেন,ঠিক আছে, তা যদি না হয় তাহলে আমার বড় ভাই অমনোনকে আমাদের সাথে পাঠান। রাজা বললেন, সে কেন তোমার সঙ্গে যাবে?
27
তবু অবশালোম জিদ ধরে রইল। দাউদ তখন অমনোন ও অন্যান্য সমস্ত রাজকুমারকে তার সঙ্গে যাওয়ার অনুমতি দিলেন। অবশালোম রাজার উপযুক্ত ভোজসভার আয়োজন করলেন।
28
তারপর তাঁর ভৃত্য ও পরিচারকদের নির্দেশ দিয়ে বললেন, অমনোনের ওপর নজর রেখ। সে আকন্ঠ সুরাপানে বেসামাল হয়ে পড়লে, আমি যখন আদেশ দেব, তখন তাকে হত্যা করো। ভয়ের কিছু নেই, সব দায়িত্ব আমার। দ্বিধা করো না, সাহস কর।
29
অবশালোমের আদেশ অনুযায়ী ভৃত্যেরা অমনোনকে হত্যা করল। বাকী রাজপুত্রেরা নিজেদের বাহনে চড়ে পালিয়ে গেল।
30
রাজপুত্রেরা তখনও পথে। ওদিকে দাউদের কাছে সংবাদ চলে গেল যে, অবশালোম সমস্ত রাজপুত্রকে হত্যা করেছে, একজনও রক্ষা পায়নি।
31
এই সংবাদ পেয়ে রাজা নিজের পোশাক ছিঁড়ে ফেলে মাটিতে আছড়ে পড়লেন। তাঁর পরিচারকেরাও নিজেদের পোষাক ছিঁড়ে ফেলে তাঁর কাছে দাঁড়িয়ে রইল।
32
তখন দাউদের ভাই শিমিয়র ছেলে যোনাদব তাঁকে বলল, মহারাজ, রাজপুত্রদের সবাইকে হত্যা করা হয়েছে একথা মনে করবেন না। একমাত্র অমনোনকেই হত্যা করা হয়েছে। কারণ যেদিন সে অবশালোমের বোন তামরকে মানভ্রষ্ট করেছিল সেদিন থেকেই অবশালোমের মুখ দেখে বোঝা যেত যে, সে একম কিছু একটা করবে।
33
কাজেই রাজপুত্রেরা সকলেই নিহত হয়েছে, একথা ভাববেন না, অমনোনই শুধু মারা গেছে।
34
ওদিকে, অবশালোম পালিয়ে গেল। এমন সময় প্রহরী দেখতে পেল, পাহাড়ের গা বেয়ে হরনায়িমের রাস্তা দিয়ে অনেক লোক আসছে। সে গিয়ে রাজাকে এ খবর জানাল এবং বলল, পাহাড়ের গা বেয়ে হরনায়িমের রাস্তা দিয়ে অনেক লোককে আসতে দেখলাম।
35
তখন যোনাদব রাজাকে বলল, দেখুন, আমি যা বলেছিলাম, ঠিক তাই! রাজপুত্রেরা আসছে।
36
তার কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজপুত্রেরা এসে ঘরে ঢুকল এবং হাউমাউ করে কাঁদতে লাগল। রাজা ও তাঁর পারিষদেরাও সবাই কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন।
37
অবশালোম অম্মিহুদের পুত্র গশূরের রাজা তলমায়ির কাছে পালিয়ে গেলেন।তিন বৎসর সেখানে থাকলেন। দাউদ তাঁর পুত্রের জন্য শোকার্ত হয়ে রইলেন।
39
মৃত অমনোনের জন্য দাউদের শোকের আবেগ কমে এলে পুত্র অবশালোমের জন্য তাঁর মন আকুল হয়ে উঠল।
← Chapter 12
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 22
Chapter 23
Chapter 24
Chapter 14 →
All chapters:
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
13
14
15
16
17
18
19
20
21
22
23
24