bible
ra
🌐 Language
English
Español
Français
Deutsch
Português
Italiano
Nederlands
Русский
中文
日本語
한국어
العربية
Türkçe
Tiếng Việt
ไทย
Indonesia
All Languages
Home
/
Bengali
/
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
/
Genesis 31
Genesis 31
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
← Chapter 30
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 22
Chapter 23
Chapter 24
Chapter 25
Chapter 26
Chapter 27
Chapter 28
Chapter 29
Chapter 30
Chapter 31
Chapter 32
Chapter 33
Chapter 34
Chapter 35
Chapter 36
Chapter 37
Chapter 38
Chapter 39
Chapter 40
Chapter 41
Chapter 42
Chapter 43
Chapter 44
Chapter 45
Chapter 46
Chapter 47
Chapter 48
Chapter 49
Chapter 50
Chapter 32 →
1
যাকোব শুনতে পেলেন লাবণের ছেলেরা বলাবলি করছে, যাকোব আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি সব হরণ করে নিয়েছে, আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি থেকেই সে এই সব ধনসম্পদ লাভ করেছে।
2
যাকোব লাবণের হাবভাব দেখেও বুঝলেন যে তাঁর প্রতি লাবণের মনোভাব আর আগের মত নেই।
3
প্রভু পরমেশ্বর যাকোবকে বললেন, তুমি তোমার পিতৃভূমিতে আত্মীয়-স্বজনের কাছে ফিরে যাও, আমি তোমার সঙ্গে থাকব।
4
যাকোব তখন লোক পাঠিয়ে প্রান্তরে যেখানে তাঁর পশুপাল ছিল সেখানে রাহেল ও লেয়াকে ডেকে আনলেন।
5
তিনি তাঁদের বললেন, আমি তোমাদের পিতার মুখ দেখে বুঝতে পারছি আমার প্রতি তাঁর মনোভাব আর আগের মত নেই। কিন্তু আমার পিতার আরাধ্য ঈশ্বর আমার সঙ্গেই আছেন।
6
তোমরা জান যে আমার সাধ্যমত আমি তোমাদের পিতার সেবা করেছি।
7
কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি আমাকে ঠকিয়েছেন। দশবার তিনি আমার বেতন পরিবর্তন করেছেন,
8
কিন্তু ঈশ্বর তাঁর দ্বারা আমার কোন ক্ষতি হতে দেন নি। যখন তিনি বলতেন, গায়ে ফুটকিওয়ালা পশুগুলি হবে তোমার বেতন, তখন পালের সব পশুরই ফুটকিওয়ালা বাচ্চা হত। আর যখন তিনি বলতেন, ডোরাকাটা পশুগুলি তোমার বেতন হবে তখন পালের সবগুলি পশুর ডোরাকাটা বাচ্চা হত।
9
আর এ ভাবেই ঈশ্বর তোমাদের পিতার পশুপাল আমাকে দিয়েছেন।
10
পশুগুলির পাল নেওয়ার মরশুমে আমি স্বপ্নে দেখলাম পালের স্ত্রী পশুগুলির সঙ্গে যে পুরুষ পশুগুলি মিলিত হচ্ছে, সেগুলি সবই ডোরাকাটা ফুটকিওয়ালা এবং রঙবেরঙের।
11
তখন ঈশ্বরের দূত স্বপ্নে আমাকে বললেন, শোন যাকোব। আমি উত্তর দিলাম, আদেশ করুন প্রভু!
12
তিনি বললেন, তুমি চোখ মেলে দেখ, স্ত্রী পশুগুলির সঙ্গে যে পুরুষ পশুগুলি মিলিত হচ্ছে, সেগুলি সব ডোরাকাটা, ফুটকিওয়ালা ও রঙবেরঙের। লাবণ তোমার সঙ্গে যে ব্যবহার করেছে, সবই আমি দেখেছি।
13
আমি বেথেলের ঈশ্বর, যেখানে তুমি একটি স্তম্ভ প্রতিষ্ঠা করে আমার উদ্দেশে মানত করেছ। এবার তুমি ওঠ, এদেশ ছেড়ে নিজের জন্মভূমিতে ফিরে যাও।
14
রাহেল ও লেয়া তাঁকে বললেন, পিতৃগৃহে আমাদের কোন অংশ বা অধিকার নেই।
15
তিনি আমাদের পরদেশীর মতই দেখেন। তিনি তো আমাদের বিক্রি করেই দিয়েছেন এবং আমাদের বিনিময়ে যে টাকাকড়ি পেয়েছেন তা সবই ভোগ করেছেন।
16
আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি যা কিছু ঈশ্বর আমাদের পিতার কাছ থেকে নিয়ে নিয়েছেন সে সবই আমাদের ও আমাদের সন্তান-সন্ততিদের। সুতরাং ঈশ্বর তোমাকে যা করতে বলেছেন, তুমি তা-ই কর।
17
তখন যাকোব তাঁর পুত্রকন্যা ও স্ত্রীদের উটের পিঠে চড়ালেন এবং নিজের অর্জিত পশুধন, অর্থাৎ পদ্দন-অরামে তিনি যে পশুপাল ও ধনসম্পত্তি অর্জন করেছিলেন, সব সঙ্গে নিয়ে কনান দেশে তাঁর পিতা ইস্হাকের কাছে যাওয়ার জন্য রওনা হলেন।
19
লাবণ তখন ভেড়ার লোম ছাঁটাই করার জন্য বাড়ী চলে গিয়েছিলেন। এই সুযোগে রাহেল তাঁর পিতার পারিবারিক বিগ্রহগুলি চুরি করে নিলেন।
20
যাকোব অরাম নিবাসী লাবণকে তাঁর পালিয়ে যাওয়ার কোন সংবাদ না দিয়ে তাঁকে বুদ্ধিকৌশলে পরাস্ত করলেন।
21
তিনি তাঁর সমস্ত ধনসম্পদসহ ফরাৎ নীদ পার হয়ে গিলিয়দ প্রদেশের পার্বত্য অঞ্চলের দিকে যেতে লাগলেন।
22
তিনদিন পরে লাবণ যাকোবের পলায়নের সংবাদ পেলেন।
23
তিনি তখন তাঁর আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে সাতদিন যাকোবের পিছনে তাড়া করে গেলেন। গিলিয়দ পর্বতে গিয়ে তিনি তাঁর সংবাদ পেলেন।
24
কিন্তু ঈশ্বর রাত্রে অরাম নিবাসী লাবণকে স্বপ্নে দেখা দিয়ে বললেন, সাবধান, যাকোবকে ভালমন্দ কোন কথাই বলবে না।
25
পরে লাবণ যাকোবের দেখা পেলেন। যাকোব তখন পার্বত্য অঞ্চলে তাঁবু ফেলেছিলেন। লাবণও তাঁর আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে গিলিয়দের পার্বত্য অঞ্চলে তাঁবু ফেললেন। লাবণ যাকোবকে বললেন, তুমি কেন এমন কাজ করলে?
26
তুমি আমার সঙ্গে প্রবঞ্চনা করে কেন আমার মেয়েদের লুঠ করে বন্দীর মত ধরে নিয়ে এল?
27
তুমি কেন আমাকে ঠকিয়ে গোপনে পালিয়ে এলে? কেন আমাকে সংবাদ দিলে না? তাহলে তো আমি আমোদ আহ্লাদ করে, গান গেয়ে তবল ও বীণা বাজিয়ে তোমাকে বিদায় দিতাম।
28
তুমি আমার কন্যা ও তাদের সন্তানদের বিদায় দেওয়ার আগে চুম্বন করতেও দিলে না, তুমি নির্বোধের মত এ কাজ করেছ? তোমার অনিষ্ট করার ক্ষমতা আমার আছে,
29
কিন্তু গত রাত্রে তোমার পিতার আরাধ্য ঈশ্বর আমাকে বলেছেন, সাবধান, যাকোবকে ভালমন্দ কিছুই বলো না।
30
তোমার পৈতৃক নিবাসে ফিরে যাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে তুমি চলে এসেছ, কিন্তু আমার বিগ্রহগুলি তুমি চুরি করে আনলে কেন?
31
যাকোব লাবণকে বললেন, আমি ভয় পেয়েছিলাম, ভেবেছিলাম আপনি হয়তো জোর করে আপনার কন্যাদের আমার কাছ থেকে কেড়ে নেবেন। কিন্তু আপনি আমাদের মধ্যে যার কাছে আপনার বিগ্রহগুলি পাবেন তার প্রাণদণ্ড হবে।
32
আমার কাছে আপনার কি আছে তা আমাদের জ্ঞাতিবর্গের সাক্ষাতে খুঁজে বার করুন এবং নিয়ে নিন। যাকোব জানতেন না যে রাহেল বিগ্রহগুলি চুরি করেছিলেন।
33
লাবণ তখন যাকোব ও লেয়ার তাঁবুতে ঢুকলেন, পরে দুই দাসীর তাঁবুতেও ঢুকলেন কিন্তু সেগুলি কোথাও খুঁজে পেলেন না। তিনি লেয়ার তাঁবু থেকে বেরিয়ে রাহেলের তাঁবুতে ঢুকলেন। রাহেল সেই বিগ্রহগুলি উটের পিঠে গদীতে লাগানো খুলির মধ্যে লুকিয়ে রেখেছিলেন এবং সেই খুলির উপর বসেছিলেন।
34
সেই জন্য লাবণ তাঁর তাঁবুর সব জায়গা হাতড়েও সেগুলি পেলেন না।
35
রাহেল তাঁর পিতাকে বললেন, বাবা, আপনার সামনে উঠে দাঁড়াতে পারছি না বলে আমার উপর রাগ করবেন না, কারণ আমার এখন ঋতু কাল চলছে। লাবণ অনেক খোজাখুঁজি করেও পারিবারিক বিগ্রহগুলি পেলেন না।
36
যাকোব তখন রেগে গিয়ে লাবণকে বকাবকি করতে লাগলেন। লাবণকে তিনি বললেন, কি আমার অপরাধ? আমি কি পাপ করেছি যে আপনি উন্মাদের মত আমার পিছনে ছুটে এসেছেন?
37
আপনি আমার সমস্ত জিনিসপত্র অনুসন্ধান করে দেখেছেন, আপনার বাড়ীর কোন জিনিসপত্র যদি তার মধ্যে পেয়ে থাকেন তাহলে সেগুলি আমার ও আপনার জ্ঞাতিবর্গের সামনে রাখুন, তাঁরাই উভয়পক্ষের বিচার করুন।
38
আমি বিশ বছর আপনার কাছে আছি, কিন্তু এর মধ্যে আপনার কোন ছাগী বা মেষীর গর্ভপাত হয় নি এবং আমি আপনার পালের কোন মেষ খাইনি।
39
বনের পশুদের দ্বারা ছিন্নভিন্ন করা কোন মেষ আমি আপনার কাছে নিয়ে যাই নি, সে ক্ষতি আমি নিজেই স্বীকার করেছি। দিনে বা রাতে যা কিছু চুরি হয়ে যেত তার বদলে আপনি আমার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ নিয়েছেন।
40
দিনে গরম ও রাতে ঠাণ্ডা সহ্য করেছি আমি, আমার কাছ থেকে ঘুম পালিয়ে গিয়েছিল, এই ছিল আমার অবস্থা।
41
বিশ বছর আমি আপনার পরিবারে থেকেছি। আপনার দুই কন্যার জন্য চৌদ্দ বছর আর পশুপালের জন্য ছয় বছর আপনার দাসত্ব করেছি, আর এর মধ্যে আপনি দশ বার আমার বেতন পরিবর্তন করেছেন।
42
আমার পিতার আরাধ্য ঈশ্বর, অব্রাহামের আরাধ্য ঈশ্বর, যিনি ইস্হাকের ত্রাসস্বরূপ, তিনি যদি আমার পক্ষে না থাকতেন, তা হলে আপনি আমাকে শূন্য হাতেই বিদায় দিতেন। কিন্তু ঈশ্বর আমার দুঃখকষ্ট ও পরিশ্রম দেখেছেন, তাই তিনি গতরাত্রে আপনাকে তিরস্কার করেছেন।
43
লাবণ তখন যাকোবকে বললেন, এরা আমারই কন্যা, এদের সন্তানেরা আমারই সন্ততি। আর এই পশুপালও আমার। যা কিছু দেখছো সবই আমার, কিন্তু এখন আমি আমার কন্যাদের ও তাদের সন্তানদের নিয়ে কি করব? বরং এস, তুমি ও আমি উভয়ে মিলে একটা চুক্তি করি,
44
আর তাই হোক তোমার ও আমার সাক্ষী। তখন যাকোব একখণ্ড পাথর নিয়ে স্তম্ভ রূপে স্থাপন করলেন।
45
তিনি তাঁর জ্ঞাতিদের বললেন, আপনারাও পাথর নিয়ে আসুন।
46
তাঁরা সকলে পাথর এনে এক জায়গায় জড়ো করে একটা স্তূপ তৈরী করলেন এবং সেই স্তূপের কাছে বসে তাঁরা খাওয়াদাওয়া করলেন।
47
লাবণ সেই স্তূপের নাম রাখলেন যিগর-সাহদুথা (সাক্ষ্যস্তূপ) অরামীয় ভাষা কিন্তু যাকোব তার নাম দিলেন গাল-এদ্ (সাক্ষ্যস্তূপ)।
48
লাবণ বললেন, এই স্তূপ হল তোমার ও আমার সাক্ষী।
49
এই কারণে তিনি সেই জায়গার নাম দিলেন গাল-এদ্ এবং মিসপা । তিনি বললেন, আমরা যখন পরস্পরের কাছে থাকব না তখন প্রভু পরমেশ্বরই তোমার ও আমার উপর লক্ষ্য রাখবেন।
50
তুমি যদি আমার কন্যাদের কষ্ট দাও এবং আমার কন্যাদের ছাড়া অন্য কাউকে বিবাহ কর তাহলে কোন মানুষ আমাদের কাছে না থাকলেও, জেন, ঈশ্বর তোমার ও আমার কাজের সাক্ষী থাকবেন।
51
লাবণ যাকোবকে আরও বললেন, এই যে স্তূপ ও স্তম্ভ দেখছ, এগুলি আমি তোমার ও আমার মাঝখানে স্থাপন করলাম।
52
এই স্তূপ ও স্তম্ভ এ কথার সাক্ষী থাকল যে আমি তোমার ক্ষতি করার জন্য এই স্তূপ পেরিয়ে তোমার এলাকায় যাব না এবং তুমিও এই স্তম্ভ পেরিয়ে আমার এলাকায় আসবে না।
53
অব্রাহামের আরাধ্য ঈশ্বর, নাহোরের আরাধ্য ঈশ্বর ও তাঁদের পিতৃপুরুষের আরাধ্য ঈশ্বরই আমাদের বিচার করবেন। তখন যিনি ইস্হাকের ত্রাসস্বরূপ তাঁর নামে যাকোব শপথ করলেন।
54
পরে যাকোব পাহাড়ের উপরে বলি উৎসর্গ করে তাঁর জ্ঞাতিকুটুম্বদের ভোজে আপ্যায়িত করলেন। তাঁরা খাওয়াদাওয়া করে পাহাড়ের উপরেই রাত্রিযাপন করলেন।
55
পরদিন ভোরে লাবণ তাঁর মেয়েদের ও নাতিনাতনীদের চুম্বন করে আশীর্বাদ করলেন, তারপর তাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নিজের বাড়িতে ফিরে গেলেন।
← Chapter 30
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 22
Chapter 23
Chapter 24
Chapter 25
Chapter 26
Chapter 27
Chapter 28
Chapter 29
Chapter 30
Chapter 31
Chapter 32
Chapter 33
Chapter 34
Chapter 35
Chapter 36
Chapter 37
Chapter 38
Chapter 39
Chapter 40
Chapter 41
Chapter 42
Chapter 43
Chapter 44
Chapter 45
Chapter 46
Chapter 47
Chapter 48
Chapter 49
Chapter 50
Chapter 32 →
All chapters:
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
13
14
15
16
17
18
19
20
21
22
23
24
25
26
27
28
29
30
31
32
33
34
35
36
37
38
39
40
41
42
43
44
45
46
47
48
49
50