bible
ra
🌐 Language
English
Español
Français
Deutsch
Português
Italiano
Nederlands
Русский
中文
日本語
한국어
العربية
Türkçe
Tiếng Việt
ไทย
Indonesia
All Languages
Home
/
Bengali
/
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
/
Genesis 41
Genesis 41
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
← Chapter 40
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 22
Chapter 23
Chapter 24
Chapter 25
Chapter 26
Chapter 27
Chapter 28
Chapter 29
Chapter 30
Chapter 31
Chapter 32
Chapter 33
Chapter 34
Chapter 35
Chapter 36
Chapter 37
Chapter 38
Chapter 39
Chapter 40
Chapter 41
Chapter 42
Chapter 43
Chapter 44
Chapter 45
Chapter 46
Chapter 47
Chapter 48
Chapter 49
Chapter 50
Chapter 42 →
1
এর দুবছর পরে ফারাও স্বপ্নে দেখলেন, তিনি নীল নদের তীরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন,
2
এমন সময় নদীর মধ্যে থেকে হৃষ্টপুষ্ট সাতটি গাভী উঠে এসে ঘাস খেতে লাগল।
3
এদের পরে আরও সাতটি রোগা ও বিশ্রী গাভী নদী থেকে উঠে এল।
4
এগুলি এসে নদীতীরে প্রথম গাভীগুলির পাশে দাঁড়াল। তারপর রোগা ও বিশ্রী গাভীগুলি হৃষ্টপুষ্ট গাভীগুলিকে খেয়ে ফেলল।
5
এর পর ফারাও-এর ঘুম ভেঙ্গে গেল। তিনি আবার ঘুমিয়ে পড়লেন এবং আর একটি স্বপ্ন দেখলেন। তিনি দেখলেন, একটি শস্যের গোছায় পাকা ও পরিপুষ্ট সাতটি শীষ রয়েছে।
6
এর পরে ঐ গোছায় আরও সাতটি শীষ গজালো। এগুলি ছিল শীর্ণ ও পূবালী বাতাসে ঝলসানো।
7
শীর্ণ শীষগুলি পাকা ও পরিপুষ্ট শীষগুলিকে খেয়ে ফেলল। ফারাও জেগে উঠে বুঝলেন, এ সবই স্বপ্ন।
8
সকাল হলে তিনি মনে মনে খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে মিশরের সমস্ত জাদুকর ও গুণিনদের ডেকে আনলেন। তাদের কাছে তিনি স্বপ্নের কথা বললেন, কিন্তু কেউই ফারাও-এর কাছে তাঁর স্বপ্নের অর্থ ব্যাখ্যা করতে পারল না।
9
ফারাও-এর প্রধান খানসামা তখন বলল, আজ আমার একটা ত্রুটির কথা মনে পড়ছে।
10
ফারাও যখন তাঁর ভৃত্যদের উপর ক্রুদ্ধ হয়ে আমাকে ও প্রধান পাচককে রক্ষীদলের অধ্যক্ষের প্রাসাদে কারারুদ্ধ করে রেখেছিলেন,
11
তখন সেখানে এক রাত্রে আমরা দুজনেই ভিন্ন অর্থবিশিষ্ট দুটি স্বপ্ন দেখেছিলাম।
12
সেখানে আমাদের সঙ্গে একটি হিব্রু যুবক ছিল, সে ছিল রক্ষীদলের অধ্যক্ষের ক্রীতদাস। আমরা তাকে আমাদের স্বপ্নের কথা বললে সে তার অর্থ আমাদের বলে দিয়েছিল। প্রত্যেকের স্বপ্নের ভিন্ন অর্থ সে ব্যাখ্যা করেছিল,
13
এবং সে যে রকম বলেছিল ঠিক সেইরকমই ঘটেছিল। আমি আমার পূর্বপদে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলাম আর পাচকের হয়েছিল ফাঁসী।
14
এ কথা শুনে ফারাও যোষেফকে ডেকে পাঠালেন। যোষেফকে তাড়াতাড়ি কারাগার থেকে মুক্ত করা হল। যোষেফ দাড়ি কামিয়ে পোষাক বদলে ফারাও-এর দরবারে উপস্থিত হলেন।
15
ফারাও তাঁকে বললেন, আমি একটা স্বপ্ন দেখেছি, কিন্তু তার অর্থ কেউ আমাকে বলতে পারছে না। আমি শুনেছি যে তুমি স্বপ্নের বিবরণ শুনে তার অর্থ ব্যাখ্যা করতে পার।
16
যোষেফ বললেন, আমি নই, ঈশ্বরই ফারাও-এর স্বপ্নের শুভ ব্যাখ্যা করবেন।
17
ফারাও বললেন, আমি স্বপ্নে দেখলাম, নীল নদের তীরে আমি দাঁড়িয়ে রয়েছি।
18
এমন সময় নদী থেকে সাতটা হৃষ্টপুষ্ট গাভী উঠে এসে ঘাস খেতে লাগল।
19
এগুলির পরে আরও সাতটা ভীষণ রোগা ও বিশ্রী গাভী উঠে এল। সারা মিশরে আমি অমন বিদঘুটে গাভী আর দেখি নি।
20
রোগা গাভী মোটাসোটা গাভীগুলিকে খেয়ে ফেলল।
21
কিন্তু সেগুলিকে খাওয়ার পরও তাদের দেখে কারও বোঝার সাধ্য ছিল না যে সেগুলির তাদের উদরস্থ হয়েছে, তাদের চেহারা আগের মতই বিশ্রী দেখাতে লাগল। এর পরে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল।
22
পরে আবার আমি স্বপ্নে দেখলাম, এখটি শস্যের গোছায় সাতটি পাকা পরিপুষ্ট শীষ রয়েছে।
23
এদের পরে আরও সাতটি শীষ গজালো। এগুলি ছিল শীর্ণ ও পূবালী বাতাসে ঝলসানো।
24
শীর্ণ শীষগুলি পরিপুষ্ট শীষগুলিকে গ্রাস করল। আমি জাদুকরদের কাছে স্বপ্নের কথা বললাম, কিন্তু তারা কেউই এর অর্থ ব্যাখ্যা করতে পারল না।
25
যোষেফ তখন ফারওকে বললেন, ফারাও-এর দুটি স্বপ্নের অর্থ একই। ঈশ্বর যা করতে চলেছেন, তা-ই তিনি ব্যক্ত করেছেন ফারাও-এর কাছে।
26
সাতটি হৃষ্টপুষ্ট গাভী সাতটি বছরের প্রতীক। সাতটি পরিপুষ্ট শীষও সাত বছরের প্রতীক। দুটি স্বপ্নেরই অর্থ এক।
27
পরে যে সাতটি রোগা ও বিশ্রী গাভী উঠে এসেছিল সেগুলিও সাতটি বছরের প্রতীক। সাতটি শীর্ণ, পূবালী বাতাসে ঝলসানো শীষ সাতটি দুর্ভিক্ষক্লিষ্ট বছরের প্রতীক।
28
আমি ফারাওকে যেমন বলেছি, ঈশ্বর কি করবেন তা-ই তিনি ফারাওকে দেখিয়েছেন।
29
সারা মিশরে সাত বছর প্রচুর ফসল ফলবে কিন্তু তার পরের সাত বছর দুর্ভিক্ষ হবে,
30
প্রাচুর্যের বছরগুলির কথা মিশরীরা ভুলে যাবে। দুর্ভিক্ষে দেশ উচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
31
পরবর্তী কালের দুর্ভিক্ষের জন্য প্রাচুর্যের বছরগুলির কথা দেশের কারও স্মরণে থাকবে না কারণ সেই দুর্ভিক্ষ হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।
32
ফারাও-এর দুবার স্বপ্ন দেখার অর্থ হচ্ছে এই যে এই ব্যাপার ঈশ্বর স্বয়ং নির্ধারণ করেছেন এবং তিনি শীঘ্রই এই ঘটনা ঘটাবেন।
33
ফারাও-এর এখন উচিত একজন বিচক্ষণ ও বিজ্ঞ লোকের সন্ধান করে তার হাতে দেশের ভার ন্যস্ত করা।
34
অবস্থা পর্যবেক্ষণ করার জন্য ফারাও এখন সারা দেশে একদল পরিদর্শক নিযুক্ত করুন। তারা প্রাচুর্যের সাতটি বছরে দেশের উৎপন্ন শস্যের পাঁচভাগের এক ভাগ সংগ্রহ করবে।
35
আগামী সাতটি প্রাচুর্যের বছরে উৎপন্ন খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে তারা ফারাও-এর নিয়ন্ত্রণাধীনে বিভিন্ন নগরে গুদামজাত করে রাখুক এবং তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা করুক।
36
এই খাদ্য মিশরের আগামী সাতটি দুর্ভিক্ষের বছরের জন্য মজুত করা থাকবে তা হলে আর দুর্ভিক্ষে দেশ উচ্ছন্নে যাবো না।
37
ফারাও এবং তাঁর অমাত্যবৃন্দ সকলের কাছেই এই পরিকল্পনা ভাল বলে মনে হল।
38
ফারাও তাঁর অমাত্যদের বললেন, এঁর মত দিব্যজ্ঞানসম্পন্ন লোক আমরা আর কোথায় পাব?
39
তিন তাই যোষেফকে বললেন, ঈশ্বর তোমাকেই এই সমস্ত বিষয় জানিয়েছেন, সুতরাং তোমার চেয়ে বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ লোক আর কেউ নেই।
40
তোমার হাতেই থাকবে আমার রাজ্যের কর্তৃত্ব, আমার প্রজারা সকলেই তোমার নির্দেশ পালন করবে, কেবলমাত্র সিংহাসনের অধিকারী হওয়ার জন্য আমি তোমার চেয়ে বড় থাকব।
41
ফারাও যোষেফকে বললেন, আমি তোমাকে সারা মিশর দেশের শাসকরূপে নিযুক্ত করলাম।
42
তিনি নিজের হাত থেকে আঙটি খুলে যোষেফের আঙ্গুলে পরিয়ে দিলেন। তিনি তাঁকে রেশমী পোষাক পরালেন এবং তাঁর গলায় সোনার হার পরিয়ে দিলেন।
43
তারপর তিনি তাঁকে রাজপ্রতিনিধির রথে চড়ালেন এবং লোকে তাঁর আগে আগে ‘রাস্তা ছাড়, রাস্তা ছাড়’ বলে চীৎকার করতে লাগল। ফারাও এইভাবে তাঁকে সারা মিশর দেশের শাসনকর্তার পদে নিযুক্ত করলেন।
44
তিনি যোষেফকে বললেন, আমিই ফারাও কিন্তু তোমার হুকুম ছাড়া সারা মিশরে কোন লোক কোন কাজ করতে পারবে না।
45
ফারাও যোষেফের নাম দিলেন সাফে-নাৎ-পানেহা। তিনি ওন নগরের পুরোহিত পটিফেরার মেয়ে আসে-নাৎ-এর সঙ্গে যোষেফের বিবাহ দিলেন। যোষেফ সারা মিশর দেশ পরিভ্রমণ করলেন।
46
যোষেফ ত্রিশ বছর বয়সে মিশররাজ ফারাও-এর কর্মচারীরূপে নিযুক্ত হলেন। তিনি ফারাও-এর দরবার থেকে বিদায় নিয়ে সারা মিশর দেশ পরিভ্রমণ করলেন।
47
প্রাচুর্যের সাত বছরে দেশে প্রচুর ফসল উৎপন্ন হল।
48
যোষেফ এই বছরগুলিতে মিশরে উৎপন্ন সমস্ত খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে নগর সমূহে মজুত করে রাখলেন। প্রত্যেক নগরের সংলগ্ন ক্ষেতের উৎপন্ন ফসল তিনি সেই নগরে সঞ্চয় করে রাখলেন।
49
যোষেফের সংগৃহীত শস্যের পরিমাণ হল সাগরতীরের বালুকারাশির মতই অপরিমেয়। সংগৃহীত শস্যের পরিমাণ এত বেশী হল যে তিনি শেষে পরিমাণ করা স্থগিত রাখলেন, কারণ শস্যের পরিমাপ করা আর সম্ভব ছিল না।
50
দুর্ভিক্ষের বছরগুলি শুরু হওয়ার আগেই ওনের পুরোহিত পটিফেরার কন্যা আসে-নাৎ-এর গর্ভে যোষেফের দুটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করল।
51
ঈশ্বর তাঁর সমস্ত দুঃখ দুর্দশা ও পিতৃকুলের কথা ভুলিয়ে দিয়েছিলেন বলে যোষেফ তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্রের নাম রাখলেন মনঃশি।
52
আর যে দেশে তিনি দুঃখকষ্ট ভোগ করেছিলেন সেই দেশেই ঈশ্বর তাঁকে ফলবান করেছেন বলে যোষেফ তাঁর কনিষ্ঠ পুত্রের নাম রাখলেন ইফ্রয়িম।
53
মিশর দেশের প্রাচুর্যের সাতটি বছর শেষ হল। যোষেফ যেমন বলেছিলেন তেমনই সাত বছর ব্যাপী দুর্ভিক্ষ শুরু হল। সব দেশেই দুর্ভিক্ষ সুরু হল কিন্তু মিশরের সর্বত্র খাদ্য মজুত ছিল।
55
মিশরে খাদ্যাভাব দেখা দিলে প্রজারা ফারাও-এর কাছে খাদ্যের জন্য আবেদন জানাল। ফারাও মিশরীদের বললেন, তোমরা যোষেফের কাছে যাও। তিনি যা করতে বলেন তা-ই কর।
56
দেশের সর্বত্র দুর্ভিক্ষ দেখা দেওয়ায় যোষেফ সমস্ত শস্য ভাণ্ডার খুলে দিলেন এবং মিশরীদের কাছে খাদ্যশস্য বিক্রি করতে লাগলেন, কারণ মিশরে তখন দুর্ভিক্ষ প্রবল হয়ে উঠেছিল।
57
সব দেশেই দারুণ দুর্ভিক্ষ হওয়ায়, পৃথিবীর সমস্ত দেশের লোক যোষেফের কাছ থেকে খাদ্যশস্য ক্রয় করার জন্য মিশরে আসতে লাগল।
← Chapter 40
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 22
Chapter 23
Chapter 24
Chapter 25
Chapter 26
Chapter 27
Chapter 28
Chapter 29
Chapter 30
Chapter 31
Chapter 32
Chapter 33
Chapter 34
Chapter 35
Chapter 36
Chapter 37
Chapter 38
Chapter 39
Chapter 40
Chapter 41
Chapter 42
Chapter 43
Chapter 44
Chapter 45
Chapter 46
Chapter 47
Chapter 48
Chapter 49
Chapter 50
Chapter 42 →
All chapters:
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
13
14
15
16
17
18
19
20
21
22
23
24
25
26
27
28
29
30
31
32
33
34
35
36
37
38
39
40
41
42
43
44
45
46
47
48
49
50