bible
ra
🌐 Language
English
Español
Français
Deutsch
Português
Italiano
Nederlands
Русский
中文
日本語
한국어
العربية
Türkçe
Tiếng Việt
ไทย
Indonesia
All Languages
Home
/
Bengali
/
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
/
Jeremiah 50
Jeremiah 50
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
← Chapter 49
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 22
Chapter 23
Chapter 24
Chapter 25
Chapter 26
Chapter 27
Chapter 28
Chapter 29
Chapter 30
Chapter 31
Chapter 32
Chapter 33
Chapter 34
Chapter 35
Chapter 36
Chapter 37
Chapter 38
Chapter 39
Chapter 40
Chapter 41
Chapter 42
Chapter 43
Chapter 44
Chapter 45
Chapter 46
Chapter 47
Chapter 48
Chapter 49
Chapter 50
Chapter 51
Chapter 52
Chapter 51 →
1
ব্যাবিলন নগর ও তার অধিবাসীদের সম্বন্ধে, প্রভু পরমেশ্বরের এই বার্তা এল আমার কাছে,
2
জাতিবৃন্দের কাছে এ কথা পৌঁছে দাও! দাও সঙ্কেত, ঘোষণা কর সংবাদ! গোপন রেখো না এ কথা–— পতন হয়েছে ব্যাবিলনের! তার দেবতা মরোদক ভূলুণ্ঠিত, ব্যাবিলনের সমস্ত প্রতিমা আনতশির, ঘৃণ্য অলীক মূর্তি হয়েছে চূর্ণ।
3
উত্তর দেশে থেকে এক জাতি ব্যাবিলন আক্রমণ করতে এসেছে। তারা এ দেশকে পরিণত করবে এক পরিত্যক্ত মরুভূমিতে। মানুষ-পশু নির্বিশেষে সবাই পালাবে এ দেশ থেকে, কেউ আর বাস করবে না এখানে।
4
প্রভু পরমেশ্বর বলেন, আমি ইসরায়েল ও যিহুদীয়ার আরাধ্য ঈশ্বর। সেই সময় যিহুদীয়া ও ইসরায়েলের মিলন হবে। তারপর তারা সকলে মিলে আমার সন্ধানে কাঁদতে কাঁদতে আসবে।
5
তারা জানতে চাইবে সিয়োনের পথ এবং সেই নির্দেশিত পথ ধরেই তারা এগিয়ে যাবে। তারা বলবে, ‘চল আমরা প্রভু পরমেশ্বরের সঙ্গে চিরস্থায়ী এক চুক্তিতে আবদ্ধ হই। সে চুক্তি কোনদিনও ভাঙ্গবে না।’
6
পালকদের অবহেলায় আমার প্রজারা পথশ্রান্ত মেষের মত পাহাড়ে পাহাড়ে ঘুরে বেড়িয়েছে, ভুলে গেছে কোথায় তাদের ঘর।
7
যারা ওদের সন্ধানে ছিল, তারাই আক্রমণ করেছে তাদের। তাদের শত্রুরা বলে, ‘ওরা প্রভু পরমেশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ করেছে। কাজেই তাদের প্রতি আমরা যা করেছি, ঠিক করেছি, আন্যায় করিনি কিছুই। প্রভু পরমেশ্বরের উপরে ওদের পূর্বপুরুষদের আস্থা ও নির্ভরতা ছিল। এদেরও তাঁর উপরে বিশ্বাসে অবিচল থাকা উচিত।’
8
হে ইসরায়েলী, পলায়ন কর ব্যাবিলন থেকে। তোমরা পরিত্যাগ কর এদেশ! সবার আগে পলায়নে তৎপর হও।
9
আমি উত্তর দেশে বীর জাতিবৃন্দকে উত্তেজিত করে ব্যাবিলন আক্রমণ করার প্ররোচনা দেব। তারা ব্যাবিলনের বিরুদ্ধে সৈন্য সমাবেশ করে ব্যূহ রচনা করবে, জয় করবে সেই দেশ। তারা নিপুণ শিকারী, যাদের ধনুর্বাণ কখনও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় না।
10
লুণ্ঠিত হবে ব্যাবিলন, এবং যারা লুঠ করবে, তারা যা ইচ্ছা সব নিয়ে যাবে এখান থেকে। আমি, প্রভু পরমেশ্বর, এই কথা বললাম।
11
প্রভু পরমেশ্বর বলেন, হে ব্যাবিলনবাসী,যদিও আমার সন্তানদের তোমরা করেছ লুণ্ঠন, যদিও উল্লাসে আনন্দে হয়ে উঠেছ উত্তাল, যদিও তোমরা শস্যমর্দনকারিণী গাভীর মত চলেছ, হ্রেষাধ্বনি করেছ অশ্বের মত,
12
কিন্তু তোমাদের জননী পড়বে চরম লজ্জায়, অপমানিতা হবে তোমাদের গর্ভধারিণী। জাতিবৃন্দের মাঝে তার স্থান হবে সবার শেষে, সে হবে জলহীন শুষ্ক মরুভূমি।
13
আমার দারুণ রোষে সেখানে গড়ে উঠবে না কোনও বসতি, সেই স্থান হবে পরিত্যক্ত, বিধ্বস্ত। ব্যাবিলনের পাশ দিয়ে যেতে যেতে পথচারী শিউরে উঠবে, স্তম্ভিত হবে তাকে দেখে।
14
ব্যাবিলনকে ঘিরে সৈন্য সাজাও,হে ধনুর্ধরেরা!নিক্ষেপ কর তীক্ষ্ণবাণ তাকে লক্ষ্য করে,কারণ সে আমার বিরুদ্ধে পাপ করেছে।
15
ব্যাবিলনের চারিদিকে তোল রণকোলাহল, আত্মসমর্পণ করেছে সে।তার সুদৃঢ় প্রাকার পড়েছে ভেঙ্গে, ভিত্তিমূল হয়েছে ধূলিসাৎ। কারণ এ হল ব্যাবিলনের উপর আমার চরম প্রতিশোধ। প্রতিশোধ নাও তার উপর,সে যেমন কাজ করেছে, তেমনই কর তার প্রতি।
16
শস্য বপন করতে দিও না ব্যাবিলনে,দিও না কাউকে ফসল কাটতে।শত্রুপক্ষের আক্রমণে এ দেশের প্রবাসী বিদেশীরা ভয়ে পালিয়ে যাবে স্বদেশে,আপন জনের কাছে।
17
প্রভু পরমেশ্বর বলেন, ইসরায়েলীরা মেষের মত সিংহের তাড়া খেয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিকে। প্রথমে তারা আক্রান্ত হয়েছে আসিরিয়ার রাজার দ্বারা, তারপর তাদের আক্রমণ করেছে ব্যাবিলনরাজ নেবুকাডনেজার, চূর্ণ করেছে তাদের অস্থি।
18
সেইজন্য, আমি সর্বাধিপতি ঈশ্বর, ইসরায়েলের আরাধ্য ঈশ্বর, রাজা নেবুকাডনেজার ও তার দেশকে শাস্তি দেব, ঠিক যেভাবে আমি শাস্তি দিয়েছি আসিরিয়ার সম্রাটকে।
19
আমি ইসরায়েলকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করব তাদের দেশে। কার্মেল পর্বতে ও বাশান অঞ্চলে তারা উৎপন্ন খাদ্যশস্য ভোগ করবে। ইফ্রয়িম ও গিলিয়দ অঞ্চলে উৎপাদিত খাদ্যশস্যে তাদের চাহিদা অনুযায়ী ক্ষুধা মিটাবে।
20
সেই সময়ে ইসরায়েলীদের মধ্যে পাপের লেশমাত্র খুঁজে পাওয়া যাবে না, কারণ আমি মার্জনা করেছি তাদের সকল অপরাধ, দিয়েছি তাদের প্রাণবিক্ষা। আমি, প্রভু পরমেশ্বর, এই কথা বললাম।
21
প্রভু পরমেশ্বর বলেন, মরাথমিয় ও পকোদের লোকদের আক্রমণ কর, হত্যা কর, ধ্বংস কর তাদের। যা কিছু আমি নির্দেশ দিয়েছি, সব নিখুঁতভাবে সমাধা কর। আমি, প্রভু পরমেশ্বর এই কথা বললাম।
22
দেশের মধ্যে শোনা যাচ্ছে রণ-কোলাহল, সেখানে চলেছে ভয়াবহ ধ্বংসলীলা।
23
ব্যাবিলন সারা পৃথিবীকে অস্ত্রের আঘাতে খণ্ড খণ্ড করে দিয়েছে। এবারে সেই অস্ত্র গিয়েছে ভেঙ্গে। সেই দেশের দুর্দশায় সমস্ত জাতি আজ স্তম্ভিত, নির্বাক।
24
হে ব্যাবিলন, তুমি আমার বিরোধিতা করেছিলে, কিন্তু তুমি নিজের পাতা ফাঁদে ধরা পড়েছ নিজেরই অজান্তে।
25
যেখানে আমি অস্ত্রশস্ত্র জমা করে রেখেছি, সেখানে আমার সেই অস্ত্রভাণ্ডার আমি খুলে দিয়েছি, বার করে এনেছি সব অস্ত্র দারুণ ক্রোধে কারণ ব্যাবিলনে আমার, সর্বাধিপতি প্রভু পরমেশ্বরের, অনেক কিছু করণীয় আছে।
26
চতুর্দিক থেকে আক্রমণ কর একে, ভেঙ্গে ফেল এর শস্যভাণ্ডার! শস্যের স্তূপের মত স্তূপাকার কর লুণ্ঠিত দ্রব্য! দ্বংস কর দেশ! বাকী রেখ না কিছুই।
27
তার সমস্ত যোদ্ধাদের হত্যা কর! ব্যাবিলনের মানুষ ধ্বংস হয়ে যাক! ঘনিয়ে এসেছে তাদের শাস্তির দিন।
28
দেখ, উদ্বাস্তুরা ব্যাবিলন থেকে জেরুশালেমে পালিয়ে এসেছে। এই মন্দিরের প্রতি ব্যাবিলনীয়রা যে ব্যবহার করেছে, তার প্রতিশোধ প্রভু পরমেশ্বর কিভাবে নিয়েছেন, সেই কথা তারা বলছে।
29
ধনুর্ধরদের বল, ব্যাবিলন আক্রমণ করতে। নগরী ঘিরে ফেল চারিদিক থেকে। কাউকে পালাতে দিও না। সে যা করেছে, প্রতিশোধ নাও তার। অন্যের সঙ্গে সে যে ব্যবহার করেছে, তার সঙ্গে সেইরকমই ব্যবহার কর। কারণ, ইসরায়েলের পবিত্রতম যে আমি, আমাকে সে অবজ্ঞা করেছে দম্ভভরে।
30
সেইজন্য তার বীর যুবকেরাই নিহত হবে নগরের পথে পথে এবং সেদিন তার সমগ্র সৈন্যবাহিনী ধ্বংস হয়ে যাবে। আমি, প্রভু পরমেশ্বর, এই কথা বললাম।
31
হে ব্যাবিলন, তুমি অহঙ্কারে পূর্ণ হয়েছ। তাই আমি, সর্বাধিপতি প্রভু পরমেশ্বর, তোমার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি। তোমাকে শাস্তি দেবার সময় হয়ে গেছে।
32
অহঙ্কারে মত্ত হয়ে তুমি উছোট খাবে, পতন হবে তোমার। কেউ তোমাকে উঠতে সাহায্য করবে না। তোমার শহরে-নগরে আমি আগুন লাগিয়ে দেব, তোমার সর্বস্ব পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।
33
সর্বাধিপতি প্রভু বলেন, ইসরায়েল ও যিহুদীয়ার মানুষ নিপীড়িত। যারা তাদের জয় করেছিল, তারা সতর্ক প্রহরায় রেখেছে, কিছুতেই তাদের মুক্তি দেবে না।
34
কিন্তু তাদের একজন মহাশক্তিধর মুক্তিদাতা আছেন। তিনি স্বয়ং সর্বাধিপতি প্রভু পরমেশ্বর। তিনি তাদের বিচার নিষ্পত্তির ভার নেবেন এবং এই পৃথিবীতে নেমে আসবে শান্তি। তবে, চরম বিপর্যয় নেমে আসবে ব্যাবিলনের উপর।
35
প্রভু পরমেশ্বর বলেন, যুদ্ধে বিনাশ হোক ব্যাবিলনের! মরুক তার শাসনকর্তা আর লোকজনেরা, মৃত্যু ছিনিয়ে নিক তার সন্তানদের, মৃত্যু হোক তার প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের।
36
ধ্বংস হোক মিথ্যাবাদী নবীরা, মূর্খ তারা! বিনষ্ট হোক তার সৈন্যবাহিনী, ত্রাসে আতঙ্কে বিচলিত হয়েছে তারা।
37
ধ্বংস করে দাও তার অশ্ব ও রথ, মারা পড়ুক তার ভাড়া করা সৈন্যরা, কী দুর্বল শক্তিহীন তারা! ধ্বংস কর ওদের ধন ভাণ্ডার, লুণ্ঠন কর, কেড়ে নাও সব।
38
এ দেশের বুকে আনো খরা, শুকিয়ে দাও তার নদী নির্ঝর। কারণ ব্যাবিলন এক ভীতিপ্রদ অলীক প্রতিমার দেশ, সেই প্রতিমার মোহে অন্ধ হয়ে আছে দেশবাসী।
39
তাই ব্যাবিলন হবে হিংস্র বন্যজন্তুর আস্তানা, এখানে চিল-শকুন আসবে বাসা বাঁধতে। মানুষ এখানে বাস করবে না কোনদিন।
40
সন্নিহিত অঞ্চলসমূহ সদোম ও ঘমোরাকে সেদিন যেমন আমি শাস্তি দিয়েছিলাম, সেইভাবে শাস্তি দেব ব্যাবিলনকেও। সেখানে কেউ আর থাকবে না বেঁচে, বসতিও গড়ে উঠবে না কোনদিন। একথা আমি প্রভু পরমেশ্বর বললাম।
41
উত্তর দেশ থেকে লোকেরা আসছে, আসছে এক দুধর্ষ জাতি, বহু নৃপতি প্রস্তুত হচ্ছে যুদ্ধের জন্যে।
42
তাদের হাতে আছে ধনুর্বাণ ও তরবারি, তারা নৃশংস ও নির্মম। অশ্বারোহণে তারা যখন ধাবিত হয়, তখন ওঠে সমুদ্রগর্জনের ধ্বনি। তারা একযোগে ব্যাবিলনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।
43
ব্যাবিলনরাজ শুনেছে এ সংবাদ, শক্তিহীন শিথিল হয়েছে তার বাহু। ভীতি গ্রাস করেছে তাকে, প্রসববেদনাতুরা নারীর মত সে যন্ত্রণায় কাতর।
44
নিবিড় অরণ্য থেকে বেরিয়ে এসে জর্ডনের পাড় দিয়ে সবুজ চারণভূমির দিকে এগিয়ে যাওয়া সিংহের মত আমি, প্রভু পরমেশ্বর আসব, ব্যাবিলনবাসীকে বাধ্য করব অকস্মাৎ নগর ছেড়ে পালাতে। তখন যাকে আমি মনোনীত করব, সে-ই হবে জাতির শাসনকর্তা। আমার সঙ্গে কার তুলনা চলে? কে জানাতে পারে আমাকে স্পর্ধিত আহ্বান? কোন শাসনকর্তা আমার প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে?
45
অতএব ব্যাবিলনের বিরুদ্ধে আমি যে পরিকল্পনা তৈরী করেছি, শোন মন দিয়ে। এই পরিকল্পনা আমি তাদের উপরে কার্যকরী করতে চাই। তাদের কেউ রেহাই পাবে না, এমন কি টেনে নিয়ে যাওয়া হবে তাদের সন্তানদেরও। প্রত্যেকে হবে আতঙ্কে বিহ্বল।
46
ব্যাবিলনের পতনকালে এমনই ভয়াবহ কোলাহল উঠবে যাতে কেঁপে উঠবে সমগ্র জগৎ। অন্যান্য জাতিসমূহ শুনবে তাদের আর্ত চীৎকার।
← Chapter 49
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 22
Chapter 23
Chapter 24
Chapter 25
Chapter 26
Chapter 27
Chapter 28
Chapter 29
Chapter 30
Chapter 31
Chapter 32
Chapter 33
Chapter 34
Chapter 35
Chapter 36
Chapter 37
Chapter 38
Chapter 39
Chapter 40
Chapter 41
Chapter 42
Chapter 43
Chapter 44
Chapter 45
Chapter 46
Chapter 47
Chapter 48
Chapter 49
Chapter 50
Chapter 51
Chapter 52
Chapter 51 →
All chapters:
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
13
14
15
16
17
18
19
20
21
22
23
24
25
26
27
28
29
30
31
32
33
34
35
36
37
38
39
40
41
42
43
44
45
46
47
48
49
50
51
52