bible
ra
🌐 Language
English
Español
Français
Deutsch
Português
Italiano
Nederlands
Русский
中文
日本語
한국어
العربية
Türkçe
Tiếng Việt
ไทย
Indonesia
All Languages
Home
/
Bengali
/
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
/
1 Kings 11
1 Kings 11
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
← Chapter 10
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 22
Chapter 12 →
1
রাজা শলোমন বহু বিজাতীয় রমণীর প্রেমে পড়েছিলেন। মিশর রাজকন্যাকে ছাড়াও তিনি হিত্তিয়, মোয়াবী, আম্মোনী, ইদোমী ও সিদোনী নারীদের বিবাহ করেছিলেন।
2
পরমেশ্বর এই সব জাতির সঙ্গে ইসরায়েলীদের বৈবাহিক সম্পর্ক স্থান করতে নিষেধ করেছিলেন? কারণ এদের বিবাহ করলে তারা তাদের দেবদেবীর প্রতি ইসরায়েলীদের আনুগত্য আকর্ষণ করতে পারে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি এদের বিয়ে করেছিলেন।
3
শলোমন সাতশো রাজকন্যাকে বিবাহ করেছিলেন এবং তিনশো জন উপপত্নী রেখেছিলেন। তারাই তাঁকে ঈশ্বরের কাছ থেকে বিপথে নিয়ে গিয়েছিল।
4
এদের প্ররোচনায় রাজা শলোমন বৃদ্ধ বয়সে অন্য দেবতাদের অনুগামী হলেন। তাঁর পিতার মত তিনিও তাঁর আরাধ্য প্রভু পরমেশ্বরের প্রতি একনিষ্ঠ রইলেন না।
5
তিনি সীদোনের দেবী অষ্টারোৎ ও আম্মোনীদের জঘন্য দেবতা মিল্কমের পূজা করতে লাগলেন।
6
এইভাবে পরমেশ্বরের বিরুদ্ধে তিনি পাপ করলেন। পিতা দাউদের মত একাগ্রচিত্তে তিনি আর প্রভুর অনুগত রইলেন না।
7
জেরুশালেমের পূর্বদিকের পাহাড়ে মোয়াবের জঘন্য দেবতা কেমেশ এবং আম্মোনীদের জঘন্য দেবতা মেল্কমের ‘পূজার থান’ তৈরী করে দিলেন।
8
তিনি আরও অনেক ‘থান’ তৈরী করে দিয়েছিলেন যাতে তাঁর বিজাতীয়া স্ত্রীরা তাদের দেবতাদের কাছে হোমবলি ও ধূপ-দীপ দিতে পারে।
9
এমন কি ইসরায়েলের আরাধ্য প্রভু পরমেশ্বর শলোমনকে দুবার দর্শনও দিয়েছিলেন এবং বিজাতীয় দেবতাদের পূজা করতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও শলোমন পরমেশ্বরের আদেশ অমান্য করলেন, দূরে সরে গেলেন তাঁর কাছ থেকে। পরমেশ্বর ক্রুদ্ধ হলেন শলোমনের উপর।
11
শলোমনকে বললেনঃ যেহেতু তুমি স্বেচ্ছায় আমার সঙ্গে স্থাপিত সম্বন্ধ ভঙ্গ করছ, আমার অনুশাসন অমান্য করেছ সেইজন্য আমি তোমার কাছ থেকে রাজ্য কেড়ে নিয়ে তোমারই একজন কর্মচারীকে দেব।
12
তোমার পিতা দাউদের খাতিরে তোমার জীবনকালে নয় কিন্তু তোমার পুত্রের হাত থেকে রাজ্য কেড়ে নেব।
13
তবে গোটা রাজ্য অবশ্য কেড়ে নেব না, আমর দাস দাউদ ও আমার মনোনীত নগরী জেরুশালেমের মুখ চেয়ে একটি গোষ্ঠীর কর্তৃত্ব তাকে দেব।
14
প্রভু পরমেশ্বর ইদোম রাজবংশের হদদ্কে শলোমনের বিরুদ্ধে দাঁড় করালেন।
15
এর বহুকাল আগে দাউদ ইদোম অধিকার করার পর তাঁর সেনাপতি যোয়াব যুদ্ধে নিহতদের কবর দেবার জন্য সেখানে গিয়েছিলেন। সেখানে সৈন্যদলসহ তিনি ছমাস ছিলেন। এই সময় তাঁরা ইদোমের সমস্ত পুরুষ অধিবাসীকে হত্যা করেন।
17
কেবলমাত্র হদ্দ ও তাঁর পিতার কয়েক জন কর্মাচারী মিশরে পালিয়ে গিয়েছিলেন। সেইসময় হদ্দ ছিলেন নেহাৎই শিশু।
18
তাঁরা মিদিয়ন থেকে পারাণে চলে যান। সেখানে আরও কিছু লোক তাঁদের দলে জুটে যায়। তারপর তাঁরা মিশরে গিয়ে মিশররাজ ফারাওয়ের কাছে আশ্রয় নেন। ফারাও তাঁকে থাকার জন্য বাড়ি ও জমি দেন এবং তাঁর ভরণ-পোষণের জন্য কিছু বৃত্তি দেন।
19
কালক্রমে হদ্দ ফারাওয়ের খুব প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠেন। কাজেই ফারাও তাঁর রাণী তহ্পনেষের বোনের সঙ্গে হদদের বিয়ে দেন।
20
গেনুবৎ নামে তাঁদের একটি পুত্র জন্ম গ্রহণ করে। রাণী তহ্পনেষের কাছেই রাজপ্রাসাদে সে মানুষ হয়। সেখানে রাজপুত্রদের সাথেই সে থাকত।
21
মিশরে থাকতেই হদদ্ দাউদ ও তাঁর সেনাপতি যোয়াবের মৃত্যুসংবাদ পেয়েছিলেন। তাই তিনি ফারাওয়ের কাছে গিয়ে বললেন, এবার আমায় বিদায় দিন, আমি দেশে ফিরে যাব।
22
ফারাও তাঁকে বললেন, এখানে তোমার কিসের অভাব যে তুমি দেশে ফিরে যেতে চাইছ? হদদ্ রাজাকে বললেন, কিছুরই অভাব নেই। তবু দয়া করে আমায় যেতে দিন। ইদোমরাজ হদদ্ ছিলেন ইসরায়েলের চরম শত্রু।
23
ঈশ্বর শলোমনের বিরুদ্ধে আরও একজন শত্রু সৃষ্টি করলেন। সে হল ইলিয়াদার পুত্র রেষোণ। তিনি তাঁর মনিব সোবার রাজা হদদেষরের কাছ থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন
24
এবং একটি দস্যুদল গড়ে তুলে তাদের দলপতি হন (দাউদ যেবার হদদেষরকে পরাস্ত করে সিরীয় সেনাবাহিনীকে হত্যা করেন, ঘটনাটি ঘটে সেইসময়)। রেষোণ তাঁর দলবল নিয়ে দামাসকাসে গিয়ে বসবাস করতে থাকেন এবং তাঁর লোকেরা তাঁকে সিরিয়ার রাজসিংহাসনে বসায়।
25
শলোমনের রাজত্ব কালে ইনিও ছিলেন ইসরায়েলের ঘোরতর শত্রু।
26
আর একজন ব্যক্তি শলোমনের শত্রুতে পরিণত হয়েছিলেন। তিনি হলেন তাঁরই একজন কর্মচারী এবং সরোদা নিবাসী ইফ্রয়িম বংশীয় নবাটের পুত্র যারবিয়াম। এঁর মায়ের নাম সরূয়া। ইনি ছিলেন বিধবা। এই যারবিয়ামও শলোমনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন।
27
তাঁর বিদ্রোহের কাহিনী হলঃ শলোমন জেরুশালেমের পূর্বদিকের নীচু জমি ভরাট করেছিলেন এবং নগরের প্রাচীরের ভগ্নস্থানগুলি মেরামত করাচ্ছিলেন।
28
সেইসময় যারবিয়াম ছিলেন একজন কর্মঠ যুবক। তাঁর কঠোর পরিশ্রমের কাজ দেখে শলোমন তাঁকে মনঃশী ও ইফ্রয়িম গোষ্ঠীর এলাকার সমস্ত বেগার মজুরদের কাজকর্ম তদারক করার ভার দিলেন।
29
একদিন যারবিয়াম জেরুশালেম থেকে বাইরে যাচ্ছিলেন। পথে শীলোনিবাসী নবী অহিয়র সঙ্গে তাঁর দেখা হল। অহিয়র পরণে ছিল নতুন পোষাক।
30
নির্জন পথে দুজনের দেখা হতে অহিয় নিজের পরণের পোষাকটি ছিঁড়ে বারো টুকরো করে ফেললেন,
31
এবং যারবিয়ামকে বললেন, এর দশটা টুকরো তুমি নাও। কারণ ইসরায়েলের পরমেশ্বর প্রভু তোমাকে বলেছেনঃ আমি শলোমনের হাত থেকে রাজ্য কেড়ে নেব এবং দশটি গোষ্ঠীর উপর কর্তৃত্ব তোমাকে দেব।
32
আর আমার দাস দাউদের মুখ চেয়ে এবং ইসরায়েল দেশের মধ্যে আমার মনোনীত নিজস্ব নগরী জেরুশালেমের মুখ চেয়ে শুধু একটি মাত্র গোষ্ঠীর উপর শলোমনের কর্তৃত্ব দেব।
33
সে আমাকে পরিত্যাগ করে সীদোনীদের দেবী অষ্টারৎ, মোয়াবের দেবতা কেমেশ এবং আম্মোনীদের দেবতা মিলকমের পূজা করেছে। শলোমন আমার অবাধ্য হয়েছে,অন্যায় কাজে লিপ্ত হয়েছে এবং তার পিতা দাউদ যেমন আমার বিধান ও অনুশাসন পালন করত, সে তা করে নি।
34
তবুও সমগ্র রাজ্য আমি তার কাছ থেকে কেড়ে নেব না, যতদিন সে জীবিত থাকবে আমি তাকে ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত রাখব। আমার মনোনীত দাস দাউদের খাতিরে আমি এই কাজ করব, সে আমার বিধান ও অনুশাসন পালন করত।
35
আমি শলোমনের পুত্রের হাত থেকে রাজ্য কেড়ে নিয়ে তোমাকে দেব দশ গোষ্ঠীর উপর কর্তৃত্ব
36
কিন্তু আমার উপাসনার জন্য আমার মনোনীত জেরুশালেমে আমার দাস দাউদের একজন বংশধর যাতে রাজত্ব করতে পারে সেইজন্য তাকে একটি গোষ্ঠীর কর্তৃত্ব দেব।
37
যারবিয়াম তোমাকে আমি ইসরায়েলের রাজা করার জন্য এবং যতদূর তোমার ইচ্চা ততখানি এলাকার উপর রাজত্ব করার জন্য তোমাকে নিযুক্ত করব।
38
তুমি যদি সর্বান্তঃকরণে আমার নির্দেশ পালন কর, আমার দাস দাউদের মত আমার বিধি ও অনুশাসন মেনে আমার প্রীতিজনক কাজ কর, তাহলে আমি চিরদিন তোমার সহায় থাকব। আমি তোমাকে ইসরায়েলের রাজা করব এবং দাউদের বংশের মত তোমার বংশধরদেরও তোমার মৃত্যুর পর রাজত্ব দান করব।
39
শলোমনের পাপের জন্যই আমি দাউদের বংশধরদের দণ্ড দেব, তবে তা চিরকালের জন্য নয়।
40
শলোমন যাববিয়ামকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু তিনি মিশরের রাজা শিশকের কাছে পালিয়ে গিয়েছিলেন এবং শলোমনের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই ছিলেন।
41
শলোমনের সমস্ত কর্মের বিবরণ, তাঁর সমস্ত কীর্তি ও প্রজ্ঞার কথা ‘শলোমনের ইতিহাস’ গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করা আছে।
42
শলোমন জেরুশালেমে সমগ্র ইসরায়েলের উপর চল্লিশ বছর রাজত্ব করেন।
43
পরে তাঁর মৃত্যু হলে দাউদ নগরে তাঁকে সমাধি দেওয়া হয়। তাঁর পুত্র রহবিয়াম তাঁর সিংহাসনে বসেন।
← Chapter 10
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 22
Chapter 12 →
All chapters:
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
13
14
15
16
17
18
19
20
21
22