bible
ra
🌐 Language
English
Español
Français
Deutsch
Português
Italiano
Nederlands
Русский
中文
日本語
한국어
العربية
Türkçe
Tiếng Việt
ไทย
Indonesia
All Languages
Home
/
Bengali
/
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
/
1 Kings 20
1 Kings 20
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
← Chapter 19
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 22
Chapter 21 →
1
সিরিয়ার রাজা বেন-হদদ তাঁর সমস্ত সৈন্য সামন্ত একত্র করলেন। আরও বত্রিশজন রাজা তাঁদের অনেক অশ্ব ও রথ নিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগ দিলেন। সকলকে নিয়ে বেন-হদদ শমরিয়া অবরোধ করলেন এবং দখল করার জন্য আক্রমণ চালাতে লাগলেন।
2
ইসরায়েলরাজ আহাবের কাছে তিনি দূতদের পাঠিয়ে বললেন,
3
আপনার সমস্ত সোনা-রূপো, পত্নীদের ও আপনার সুস্থ-সবল সন্তানদের আমার হাতে সমর্পণ করুন। এ সব আমার।
4
আহাব বললেন, আমার প্রভু, মহারাজকে বল যে আমি রাজী। আমি নিজেকে এবং আমার যথাসর্বস্ব তাঁর হাতে সমর্পণ করছি।
5
পরে দূতেরা আবার আহাবের কাছে ফিরে এসে বেন-হদদের আর একটা দাবী জানাল। বলল, বেন-হদদ বলেছেন, আমি তোমাকে বলে পাঠিয়েছিলাম, তোমার সোনা-রূপো, পত্নীবর্গ এবং সন্তানদের আমার হাতে সমর্পণ কর।
6
কিন্তু এখন আমি বলছি, আগামীকাল এই সময় আমি আমার কর্মচারীদের তোমার কাছে পাঠাব। তারা তোমার প্রাসাদ ও তোমার কর্মচারীদের ঘর-বাড়ি তল্লাসী করে যা তাদের ভাল লাগবে সব নিয়ে আসবে।
7
ইসরায়েলরাজ তখন দেশের প্রধান নেতাদের ডেকে বললেন, দেখুন, এই লোকটি আমাদের ধ্বংস করতে চায়। সে আমার স্ত্রী-পুত্র সোনা-রূপো দাবী করেছিল। আমি তার দাবী মেনে নিয়েছি।
8
প্রবীণ নেতৃবৃন্দ ও প্রজারা বলল, আপনি ওর কথায় কান দেবেন না, রাজী হবেন না ওর প্রস্তাবে।
9
আহাব তখন বেন-হদদের দূতদের বললেন, আমার প্রভু মহারাজকে গিয়ে বল যে, আমি তাঁর প্রথম দাবীতে রাজী কিন্তু তাঁর দ্বিতীয় দাবীতে রাজী হতে পারি না।দূতেরা ফিরে গিয়ে বেন-হদদকে এ কথা জানাল।
10
বেন-হদদ তাদের দিয়ে এবার বলে পাঠালেন, আমার লোকজন দিয়ে তোমার এই শমরিয়া নগর আমি ধূলিসাৎ করে দেব। আমার এত লোক আছে যে তারা স্তূপের জঞ্জাল একমুঠো করে তুলে আনলেই ধ্বংসস্তূপ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। যদি না করি তাহলে যেন দেবতাদের অভিশাপে আমার মরণ হয়।
11
ইসরায়েলরাজ বললেন, রাজা বেন-হদদকে বল গিয়ে, প্রকৃত যোদ্ধা যুদ্ধের পরেই বড়াই করে, তার আগে নয়।
12
আহাবের এই উত্তর যখন বেন-হদদের কাছে পৌঁছাল তখন তিনি তাঁর মিত্রপক্ষ ও অন্যান্য রাজাদের সঙ্গে তাঁবুতে বসে মদ্যপান করছিলেন। তিনি তাঁর সেনানায়কদের আদেশ করলেন, সৈন্য সাজাও। তারা তখন নগর আক্রমণের জন্য ব্যুহ রচনা করে আক্রমণের জন্য তৈরী হল।
13
এমন সময়ে একজন নবী রাজা আহাবের কাছে গিয়ে বললেন, পরমেশ্বর বলেছেন, এই বিরাট সৈন্যদল দেখে ভয় পেয়ো না। আজ আমি এদের উপরে তোমাকে বিজয়ী করব। তাতে তুমি জানবে যে আমিই প্রভু পরমেশ্বর।
14
আহাব জিজ্ঞাসা করলেন, কে এই আক্রমণ পরিচালনা করবে? নবী বললেন, পরমেশ্বর বলেছেন, প্রাদেশিক সৈন্যাধক্ষদের অধীন তরুণ সৈনিকেরাই এ কাজ করবে। রাজা জিজ্ঞাসা করলেন, কে প্রথমে এগোবে? নবী বললেন, তুমি স্বয়ং।
15
রাজা তখন প্রাদেশিক সৈন্যাধক্ষদের অধীন তরুণ সৈনিকদের একত্র করলেন। তারা সংখ্যায় ছিল 232 জন। তারপর তিনি বাকী ইসরায়েলী সৈনদের সাজালেন। এরা সংখ্যায় ছিল মোট 7 হাজার।
16
দুপুরবেলায় তারা আক্রমণ শুরু করল।বেন-হদদ তখন তাঁর মিত্র পক্ষের বত্রিশজন রাজাকে নিয়ে তাঁবুর মধ্যে মদ্যপানে মত্ত ছিলেন।
17
আক্রমণের পুরোভাগে ছিল তরুণ সেনাদল। বেন-হদদের চরেরা তাঁকে গিয়ে খবর দিল যে, শমরিয়া থেকে একদল সৈন্য এগিয়ে আসছে।
18
রাজা তাদের আদেশ করলেন, ওরা যুদ্ধ করতেই আসুক বা সন্ধির জন্য আসুক—যে জন্যই ওরা আসুক না কেন, ওদের জীবিত অবস্থায় বন্দী কর।
19
তরুণ সৈনিকদের পিছনে পিছনে ইসরায়েলী সৈন্যবাহিনী নগর থেকে বেরিয়ে এসে তাদের আক্রমণ করল এবং
20
প্রত্যেকে তার প্রতিপক্ষকে হত্যা করল। সিরীয় সৈন্যরা তখন পালাতে লাগল। ইসরায়েলী সৈনিকেরা তাদের পিছনে তাড়া করে গেল। সিরিয়ার রাজা বেন-হদদ কয়েকজন অশ্বারোহী সৈন্যের সাথে ঘোড়ায় চড়ে পালিয়ে বাঁচলেন।
21
ইসরায়েলরাজ রণক্ষেত্রে এসে অশ্ব ও রথগুলি দখল করলেন এবং সিরীয় সৈন্যদের প্রচণ্ডভাবে পরাজিত করলেন।
22
নবী রাজা আহাবের কাছে গিয়ে বললেন, আপনি ফিরে গিয়ে আপনার সৈন্যদলকে নতুনভাবে সংগঠন করুন এবং ভেবেচিন্তে যুদ্ধের পরিকল্পনা তৈরী করুন। কারণ আগামী বসন্তে সিরিয়ার রাজা আবার আপনার বিরুদ্ধে অভিযান করবেন।
23
রাজা বেন-হদদের অমাত্যেরা তাঁকে বললেন, ইসরায়েলের দেবতারা হলেন পাহাড়ী দেবতা। সেইজন্যই তারা আমাদের হারিয়ে দিয়েছে। কিন্তু সমতল ভূমিতে যুদ্ধ হলে নিশ্চয়ই আমরা ওদের হারিয়ে দেব।
24
এখন, আপনি এক কাজ করুন, ঐ বত্রিশজন রাজাকে তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে তাঁদের জায়গায় সেনাপতিদের নিযুক্ত করুন,
25
এবং এই যুদ্ধে আপনি যতগুলি রথ ও অশ্ব হারিয়েছেন, ততগুলি রথ ও অশ্ব সংগ্রহ করুন। তারপর সমতল ভূমিতে আমরা ইসরায়েলীদের সঙ্গে যুদ্ধ করব এবং এবার আমরা ওদের হারিয়ে দেব। রাজা বেন-হদদ তাঁদের কথায় রাজী হয়ে তাঁদের পরামর্শ মত কাজ করলেন।
26
বসন্তকাল এলে বেন-হদদ তাঁর সৈন্য সামন্তদের নিয়ে ইসরায়েলীদের আক্রমণ করার জন্য অফেক-এ গেলেন।
27
ইসরায়েলীরাও রণসাজে সজ্জিত হয়ে যুদ্ধে এগিয়ে গেল এবং দুই দলে ভাগ হয়ে সিরীয়দের দিকে মুখ করে শিবির স্থাপন করল। সিরীয়দের তুলনায় তাদের দেখাচ্ছিল ছোট ছোট দুটো ছাগলের পালের মত। সিরীয় সেনারা সারা দেশ ছেয়ে ফেলেছিল।
28
একজন নবী তখন রাজা আহাবকে গিয়ে বললেন, পরমেশ্বর বলেছেন, যেহেতু সিরীয়রা বলেছে যে আমি পাহাড়ের দেবতা, পাহাড়তলীর দেবতা নই, সেইহেতু আমি ওদের ঐ অসংখ্য সৈন্যবাহিনীর উপর তোমাকে বিজয়ী করব। তখন তুমি ও তোমার প্রজারা জানবে যে আমিই পরমেশ্বর।
29
সিরীয় সৈন্য ও ইসরায়েলী সৈন্য পরস্পর মুখোমুখি হয়ে নিজেদের ছাউনিতে সাতদিন অবস্থান করল। সপ্তম দিনে তারা যুদ্ধ শুরু করল। ইসরায়েলীরা একদিনেই সিরীয়দের একলক্ষ সৈন্য ধ্বংস করল।
30
বাকী সৈন্যরা অফেক নগরে পালিয়ে গেল। সেখানে নগরের দেওয়াল চাপা পড়ে বাকী সাতাশ হাজার সৈন্য মারা গেল।বেন-হদদও পালিয়ে গিয়ে নগরেরই একটি বাড়িতে অন্দরমহলে গিয়ে আশ্রয় নিলেন।
31
রাজার অমাত্যরা তাঁর কাছে গিয়ে বললেন, আমরা শুনেছি যে ইসরায়েলী রাজারা খুব দয়ালু। আপনি অনুমতি দিন, আমরা চট পরে আর গলায় দড়ি জড়িয়ে ইসরায়েলরাজের কাছে যাই, তাহলে হয়তো তিনি আপনার প্রাণভিক্ষা দেবেন।
32
তাঁরা চট পরে, গলায় দড়ি জড়িয়ে রাজা আহাবের কাছে গিয়ে বললেন, আপনার দাস বেন-হদদ আপনার কাছে প্রাণভিক্ষা চাইছেন। আহাব বললেন, তিনি এখনও বেঁচে আছেন? উত্তম। তিনি তো আমার ভাইয়ের মত।
33
বেন-হদদের অমাত্যেরা একটি শুভলক্ষণের অপেক্ষা করছিলেন। যখন আহাব তাঁকে ‘ভাই’ বললেন, সঙ্গে সঙ্গে তাঁর কথাটা লুফে নিয়ে বললেন, হ্যাঁ, বেন-হদদ আপনার ভাই। রাজা আহাব তাদের আদেশ দিলেন, যাও, বেন-হদদকে আমার কাছে নিয়ে এস। বেন-হদদ তাঁর কাছে এলে আহাব তাঁকে রথে তুলে নিলেন।
34
বেন-হদদ তাঁকে বললেন, আমার পিতা আপনার পিতার কাছ থেকে যে নগরগুলি দখল করে নিয়েছিলেন, সেগুলি আমি আপনাকে ফিরিয়ে দেব। আমার পিতা যেমন শমরিয়ায় বাণিজ্যকেন্দ্র স্থাপন করছিলেন, আপনিও দামাস্কাসে তেমনি একটি বাণিজ্য কেন্দ্র স্থাপন করুন। আহাব তাঁকে বললেন, এই শর্তেই আমি আপনাকে মুক্তি দিতে পারি। তিনি তাঁর সঙ্গে এই শর্তে সন্ধি করলেন এবং তাঁকে মুক্তি দিলেন।
35
পরমেশ্বরের প্রত্যাদেশে নবী সম্প্রদায়ের একজন নবী তাঁর এক সতীর্থকে বললেন, তুমি আমাকে আঘাত কর। কিন্তু তিনি রাজী হলেন না।
36
সেই নবী তাঁকে বললেন, তুমি পরমেশ্বরের আদেশ অমান্য করলে। ফলে, আমার কাছ থেকে তুমি চলে যাবার সঙ্গে সঙ্গে একটা সিংহ তোমাকে বধ করবে। সেই নবী তাঁর কাছ থেকে চলে যাওয়ামাত্র একটা সিংহ এসে তাঁকে বধ করল।
37
তখন সেই নবী আর একজন নবীর কাছে গিয়ে বললেন, আমাকে আঘাত কর! ইনি তাঁকে জোরে আঘাত করে আহত করলেন।
38
নবী তখন একটি কাপড় দিয়ে মুখ বেঁধে ছদ্মবেশে রাস্তার ধারে গিয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন, ইসরায়েলরাজ সেই পথ দিয়ে যাবেন, তাঁরই অপেক্ষায়।
39
রাজা সেই পথ দিয়ে যাবার সময় সেই নবী তাঁকে ডেকে বললেন, মহারাজ, আমি যুদ্ধে গিয়েছিলাম। সেখানে এক সৈনিক একটি বন্দী শত্রুকে আমার হাতে দিয়ে বলল, একে পাহারা দাও! এ যদি পালায় তবে তোমাকে এর বদলে প্রাণ দিতে হবে আর নইলে তিন হাজার রৌপ্যমুদ্রা জরিমানা দিতে হবে।
40
কিন্তু আমি অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম, সেই ফাঁকে লোকটি পালায়। ইসরায়েলরাজ তাঁকে বললেন, তুমি তোমার নিজের বিচার নিজেই করেছ, তোমাকে সেই মতই শাস্তি পেতে হবে।
41
নবী তখন নিজের মুখ থেকে কাপড় সরিয়ে ফেললেন। রাজা সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে নবীদের একজন বলে চিনতে পারলেন।
42
নবী তখন রাজাকে বললেন, পরমেশ্বর বলেছেন, যাকে আমি হত্যা করতে বলেছিলাম, তাকে তুমি ছেড়ে দিয়েছ। তাই তার পরিবর্তে তোমাকে প্রাণ দিতে হবে এবং তার সৈন্যদলকে ছেড়ে দেওয়ার অপরাধে তোমার সৈন্যদল বিধ্বস্ত হবে।
43
এ কথা শুনে রাজা হতাশ ও বিষণ্ণমনে শমরিয়ায় তাঁর প্রাসাদে ফিরে গেলেন।
← Chapter 19
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 22
Chapter 21 →
All chapters:
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
13
14
15
16
17
18
19
20
21
22