bible
ra
🌐 Language
English
Español
Français
Deutsch
Português
Italiano
Nederlands
Русский
中文
日本語
한국어
العربية
Türkçe
Tiếng Việt
ไทย
Indonesia
All Languages
Home
/
Bengali
/
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
/
1 Kings 22
1 Kings 22
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
← Chapter 21
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 22
1
এর পরবর্তী দুই বছর ইসরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যে যুদ্ধ বিগ্রহ হয় নি।
2
কিন্তু তৃতীয় বছরে যিহুদীয়ারাজ যিহোশাফট ইসরায়েলরাজ আহাবের সঙ্গে দেখা করতে এলেন।
3
আহাব তাঁর পারিষদদের বললেন, তোমরা জানো রামোৎ-গিলিয়দ নগরটি আমাদের। তাহলে কেন নগরটি সিরিয়ার রাজার হাত থেকে উদ্ধার না করে আমরা হাত গুটিয়ে বসে আছি?
4
আহাব যিহোশাফটকে জিজ্ঞাসা করলেন আপনি কি আমার সঙ্গে রামোৎ-গিলিয়দ আক্রমণ করতে যাবেন? যিহোশাফট বললেন, আপনি গেলে আমিও যেতে প্রস্তুত এবং আমার সৈন্যসামন্ত ও অশ্বারোহী বাহিনীও প্রস্তুত।
5
কিন্তু তার আগে জানতে হবে পরমেশ্বরের কি ইচ্ছা!
6
তখন আহাব প্রায় চারশোজন নবীকে আহ্বান জানালেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন, আমি রামোৎ-গিলিয়দ আক্রমণ করব কি করব না? তাঁরা বললেন। আক্রমণ করুন। ঈশ্বর আপনাকে বিজয়ী করবেন।
7
কিন্তু যিহোশাফট জিজ্ঞাসা করলেন, এখানে কি আর কোন নবী নেই যাঁর মাধ্যমে আমরা পরমেশ্বরের নির্দেশ জানতে পারি?
8
রাজা আহাব বললেন, হ্যাঁ, আর একজন আছেন। তিনি হলেন ইমলার পুত্র মিখাইয়া। কিন্তু আমি তাঁকে বরদাস্ত করতে পারি না। তিনি কখনও আমার পক্ষে ভাল কোন কথা বলেন নি, সবসময় কিছু না কিছু অমঙ্গলের কথা বলেছেন! যিহোশাফট বললেন, মহারাজের মুখে একথা শোভা পায় না।
9
রাজা আহাব তখন রাজ দরবারের একজন রাজপুরুষকে ডেকে সত্বর নবী মিখাইয়াকে তাঁর কাছে নিয়ে আসতে নির্দেশ দিলেন।
10
দুই রাজা—যিহুদীয়ারাজ ও ইসরায়েলরাজ রাজপোষাক পরে শমরিয়ার তোরণের সামনের খোলা মাঠে সিংহাসনে বসেছিলেন এবং নবীরা সব তাঁদের সামনে ভাবোক্তি করছিলেন।
11
এঁদের মধ্যে একজন কেনানার পুত্র সিদিকিয়া লোহার একজোড়া শিং তৈরী করে আহাবকে বললেন, শুনুন, পরমেশ্বর বলছেন, এইগুলি দিয়ে সিরিয়দের আঘাত করে আপনি তাদের সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করবেন।
12
অন্য নবীরাও সেই কথাই বললেন, রামোতের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করুন, আপনার জয় সুনিশ্চিত। পরমেশ্বর আপনাকে বিজয়ী করবেন।
13
ইতিমধ্যে যে রাজপুরুষ নবী মিখাইয়াকে আনতে গিয়েছিলেন, তিনি নবীকে বললেন, দেখুন অন্যান্য নবীরা সকলেই একবাক্যে মহারাজের সাফল্যের কথা বলেছেন। দেখবেন, আপনিও তাঁদের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে মহারাজের সাফল্যের কাথাই বলবেন।
14
কিন্তু মিখাইয়া বললেন, সদা জাগ্রত প্রভুর দিব্য, তিনি আমাকে যা প্রত্যাদেশ করবেন, আমি তাই-ই বলব!
15
রাজা আহাবের কাছে নবী এলে রাজা তাঁকে বললেন, নবী মিখাইয়া, রাজা যিহোশাফট আর আমি রামোৎ-গিলিয়দ আক্রমণ করতে যাব, তা কি ঠিক হবে? মিখাইয়া বললেন, আক্রমণ করুন! নিশ্চয়ই আপনারা জয়ী হবেন। প্রভু আপনাদের বিজয়ী করবেন।
16
কিন্তু রাজা আহাব তাঁকে বললেন তুমি যখন পরমেশ্বরের নামে আমার কাছে কিছু বলবে, তখন সত্য কথা বলবে। কতবার তোমাকে একথা বলতে হবে?
17
মিখাইয়া বললেন, আমি দেখতে পাচ্ছি ইসরায়েলীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালকহীন মেষের মত পাহাড়ে পাহাড়ে ঘুরছে। প্রভু পরমেশ্বর বলছেন, এদের কোন নেতা নেই। এদের শান্তিতে বাড়ি ফিরে যেতে দাও।
18
আহাব যিহোশাফটকে বললেন, দেখলেন তো? আমি কি বলি নি যে লোকটা আমার সম্বন্ধে কোন ভাল কথা বলে না? সব সময় কিছু না কিছু অমঙ্গলের কথা বলবেই।
19
মিখাইয়া বলে চললেন, এবার শুনুন পরমেশ্বর কি বলছেন। আমি দেখলাম প্রভু, পরমেশ্বর স্বর্গে তাঁর সিংহাসনে বসে আছেন। তাঁর সমস্ত দূতবাহিনী তাঁর দুই পাশে দাঁড়িয়ে আছেন।
20
প্রভু দূতদের জিজ্ঞাসা করলেন, রামোৎ-গিলিয়দ আক্রমণ করার জন্য কে আহাবকে ভুলিয়ে নিয়ে যাবে যাতে সেখানে সে নিহত হয়? দূতেরা নানাজনে নানা কথা বলতে লাগলেন।
21
শেষে একটি আত্মা প্রভুর সামনে এসে বললেন, আমি ওকে ভুলিয়ে নিয়ে যাব।
22
প্রভু জিজ্ঞাসা করলেন, কি ভাবে? আত্মাটি বললেন, আমি গিয়ে আহাবের সমস্ত প্রবক্তাদের দিয়ে মিথ্যা কথা বলাব। প্রভু বললেন, যাও, তাকে প্রতারিত কর। তুমিই পারবে।
23
সব শেষে মিখাইয়া বললেন, এই হচ্ছে প্রকৃত ঘটনা। প্রভু স্বয়ং আপনার বিরুদ্ধে মৃত্যুর পরোয়ানা জারি করেছেন বলেই তিনি আপনার প্রবক্তাদের দিয়ে মিথ্যা বলিয়েছেন। আপনার সর্বনাশ অনিবার্য!
24
তখন নবী সিদিকিয়া মিখাইয়ার কাছে গিয়ে তাঁর গালে চড় মেরে বললেন, প্রভুর আত্মা কখন আমাকে ছেড়ে তোমার কাছে গিয়ে কথা বললেন?
25
মিখাইয়া বললেন, যেদিন তোমাকে প্রাণ বাঁচানোর জন্য অন্দরমহলে গিয়ে লুকাতে হবে, সেদিনই জানবে।
26
রাজা আহাব তখন তাঁর একজন রাজকর্মচারীকে হুকুম দিলেন, ওকে বন্দী করে রাজ্যপাল আমোন ও যুবরাজ যোয়াশের কাছে নিয়ে যাও।
27
তাঁদের বল একে কারাগারে বন্দী করে রাখবে। যতদিন না আমি নিরাপদে ফিরে আসি, ততদিন একে একটু রুটি আর জল খেতে দেবে।
28
মিখাইয়া বলে উঠলেন, যদি আপনি নিরাপদে ফেরেন, তাহলে প্রমাণ হবে যে প্রভু আমার মুখ দিয়ে কথা বলেন নি। তারপর জনতাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, তোমরা শুনে রাখ এ কথা।
29
ইসরায়েলরাজ আহাব ও যিহুদীয়ারাজ যিহোশাফট রামোৎ-গিলিয়দ আক্রমণের অভিযানে বেরিয়ে গেলেন।
30
আহাব যিহোশাফটকে বললেন, আমি ছদ্মবেশে যুদ্ধে যাব, আপনি কিন্তু রাজবেশেই থাকবেন। ইসরায়েলরাজ ছদ্মবেশে যুদ্ধে গেলেন।
31
সিরিয়ার রাজা তাঁর বত্রিশজন রথী সেনাপতিকে আদেশ দিয়েছিলেন যেন তাঁরা ইসরায়েলরাজ ছাড়া আর কাউকে আক্রমণ না করেন।
32
তাই যখন তাঁরা রাজা যিহোশাফটকে দেখলেন তখন তাঁকে ইসরায়েলরাজ ভেবে আক্রমণ করলেন। কিন্তু তিনি চীৎকার করে উঠলে তাঁদের ভুল ভেঙ্গে গেল।
33
তাঁরা বুঝলেন যে তিনি ইসরায়েল রাজা নন। তাই তাঁকে আর আক্রমণ করলেন না।
34
কিন্তু একজন সিরীয় সৈন্য আন্দাজে তীর ছুড়লে হঠাৎই সেটা রাজা আহাবের বর্মের জোড়ের মধ্যে দিয়ে শরীরে বিদ্ধ হয়ে গেল। তিনি আহত হয়ে সারথিকে বললেন, রথ ঘোরাও, আমাকে যুদ্ধ ক্ষেত্রের বাইরে নিয়ে চল। আমি আহত।
35
তুমুল যুদ্ধ চলল। সিরীয়দের সামনে রাজাকে রথে হেলান দিয়ে খাড়া করে রাখা হল। তাঁর ক্ষতস্থান থেকে রক্ত ঝরে রথের তলাটা ভরে গেল। সন্ধ্যেবেলায় তিনি মারা গেলেন।
36
সূর্যাস্তের সময় ইসরায়েলী সেনাদের কাছে হুকুম জারি হয়ে গেল, যে যার বাড়িতে ফিরে যাও।
37
রাজা আহাবের মৃত্যুর পর তাঁর শব নিয়ে যাওয়া হল শমরিয়ায় এবং সেখানে তাঁকে কবর দেওয়া হল।
38
শমরিয়ার সরোবরের তীরে তাঁর রথটি ধুয়ে পরিস্কার করার সময় কুকুররা তাঁর রক্ত চেটে খেল। এই সরোবরে গণিকারা স্নান করত। এই ভাবে পরমেশ্বরের কথা সফল হল।
39
আহাবের সমস্ত কীর্তি কাহিনী, তাঁর নির্মিত গজদন্তের প্রাসাদ এবং অন্যান্য নগর নির্মাণের বিবরণ ‘ইসরায়েলের রাজকাহিনীর ইতিহাসে’ লিপিবদ্ধ আছে।
40
তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র অহসিয় রাজা হলেন।
41
ইসরায়েলরাজ আহাবের রাজত্বের চতুর্থ বছরে আসার পুত্র যিহোশাফট যিহুদীয়ার রাজা হন।
42
তিনি পঁয়ত্রিশ বৎসর বয়সে রাজা হন এবং জেরুশালেমে পঁচিশ বছর রাজত্ব করেন। তাঁর মায়ের নাম আসুবা, ইনি শিল্হির কন্যা।
43
যিহোশাফটও তাঁর পিতা আসার মত ঈশ্বরের প্রীতিজনক ন্যায্য কাজ করতেন। কিন্তু তাহলেও পাহাড়ের চূড়ার দেবস্থানগুলি সব ধ্বংস করা হয়নি। ইসরায়েলীরা সেইসব দেবস্থানে গিয়ে বলিদান করত ও ধূপ জ্বালত।
44
যিহোশাফট ইসরায়েলরাজের সঙ্গে সন্ধি করেছিলেন।
45
তাঁর সমস্ত কাজ এবং যুদ্ধ জয় ও বীরত্বের কথা যিহুদীয়ার রাজবংশের ইতিহাসে লিপিবদ্ধ আছে।
46
এই সমস্ত দেবস্থানগুলি থেকে তাঁর পিতা আসার আমলের অবশিষ্ট সমস্ত দেবদাস ও দেবদাসীদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন।
47
ইদোম দেশে তখন কোন রাজা ছিল না। যিহুদীয়ারাজের নিযুক্ত একজন প্রতিনিধি দেশ শাসন করতেন।
48
ওফির থেকে সোনা আমদানী করার জন্য যিহোশাফট কয়েকটি বাণিজ্য তরী নির্মাণ করেছিলেন কিন্তু সেগুলি ইৎসিয়োন গেবরে ভেঙ্গে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আর বাণিজ্যযাত্রা করতে পারে নি।
49
তখন ইসরায়েলরাজ অহসিয় যিহোশাফটের লোকদের সঙ্গে তাঁর লোকজন দিয়ে বাণিজ্যে পাঠাতে চাইলেন কিন্তু যিহোশাফট তাঁর প্রস্তাবে রাজী হলেন না।
50
যিহোশাফটের মৃত্যুর পর তাঁকে দাউদ নগরে রাজপরিবারের সমাধিক্ষেত্রে সমাহিত করা হল। তাঁর পুত্র যিহোরাম তাঁর সিংহাসনে বসলেন।
51
যিহুদীয়ারাজ যিহোশাফটের রাজত্বের সতেরো বছরে আহাবের পুত্র অহসিয় ইসরায়েলের রাজা হন এবং মাত্র দুই বছর শমরিয়া শাসন করেন।
52
পিতা আহাব, জননী ইষেবল ও এবং রাজা যারবিয়ামের কুদৃষ্টান্ত অনুসরণ করে তিনিও পরমেশ্বরের অপ্রীতিজনক কাজ করেছিলেন এবং ইসরায়েলীদের পাপে লিপ্ত করেছিলেন।
53
তিনি ছিলেন বেল দেবের উপাসক। পিতার মত তিনিও ঐসব পাপকাজ করে ইসরায়েলীদের আরাধ্য পরমেশ্বরকে ক্রুদ্ধ করেছিলেন।
← Chapter 21
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 22
All chapters:
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
13
14
15
16
17
18
19
20
21
22