bible
ra
🌐 Language
English
Español
Français
Deutsch
Português
Italiano
Nederlands
Русский
中文
日本語
한국어
العربية
Türkçe
Tiếng Việt
ไทย
Indonesia
All Languages
Home
/
Bengali
/
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
/
1 Samuel 17
1 Samuel 17
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
← Chapter 16
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 22
Chapter 23
Chapter 24
Chapter 25
Chapter 26
Chapter 27
Chapter 28
Chapter 29
Chapter 30
Chapter 31
Chapter 18 →
1
ফিলিস্তিনীরা যুদ্ধের জন্য সৈন্য সমাবেশ করল। তারা যিহুদীয়ার অন্তর্গত শোখোতে একত্র হয়ে শোখো এবং আসেকার মধ্যবর্তী স্থান এফেস-দম্মীমে শিবির স্থাপন করল।
2
এদিকে শৌল ইসরায়েল সেনাবাহিনীসহ এলা উপত্যকায় শিবির স্থাপন করে ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে ব্যূহ রচনা করলেন।
3
একদিকে ফিলিস্তিনীরা একটি পাহাড়ে, অন্যদিকে ইসরায়েলীরা অন্য একটি পাহাড়ে ঘাঁটি স্থাপন করল। তাদের মাঝখানে ছিল একটি উপত্যকা।
4
ফিলিস্তিনীদের শিবিরে একজন বীর যোদ্ধা ছিল। তার নাম গলিয়াৎ। সে ছিল গাতের অধিবাসী।
5
লম্বায় সে সাড়ে ছয় হাত। তার মাথায় ছিল পিতলের শিরস্ত্রাণ। আঁশযুক্ত বর্মে সে সজ্জিত ছিল। ধাতু নির্মিত এই বর্মের ওজন ছিল পাঁচ হাজার শেকেল পিতলের সমান।
6
তার পা দুটিও পিতলের বর্মে ঢাকা ছিল, আর তার কাঁধে ছিল পিতলের বর্শা।
7
বর্শার দণ্ডটি ছিল তাঁতযন্ত্রের নরাজের মত এবং এর ফলকের ওজন ছিল ছশো শেকেল লোহার সমান। একজন ঢালী ঢাল নিয়ে তার আগে আগে যেত।
8
গলিয়াৎ শিবিরের বাইরে এসে ইসরায়েলী সৈন্যবাহিনীকে উদ্দেশ্য করে বলত, তোমরা সৈন্য সাজিয়ে যুদ্ধ করতে এসেছ কেন? আমি একজন ফিলিস্তিনী আর তোমরা শৌলের দাস। তোমরা বরং নিজেদের মধ্যে থেকে একজনকে বেছে নাও, সে আমার কাছে চলে আসুক।
9
সে যদি আমার সঙ্গে যুদ্ধে জয়ী হয়ে আমাকে হত্যা করতে পারে, তাহলে আমরা তোমাদের দাস হব। আর আমি যদি তাকে পরাস্ত করে হত্যা করতে পারি তবে তোমরা আমাদের দাস হয়ে আমাদের সেবা করবে।
10
সেই ফিলিস্তিনী লোকটি আরও বলত, আমি আজ ইসরায়েলী সৈন্যদের আহ্বান করছি তোমরা পাঠাও কাউকে, সে এসে লড়াই আমার সঙ্গে।
11
তার এই সব কথা শুনে শৌল এবং ইসরায়েলীরা সকলে অত্যন্ত ভীত ও হতাশ হয়ে পড়ল।
12
দাউদের পিতা যিশয় ছিলে যিহুদীয়া প্রদেশের বেথলেহেমের অধিবাসী। তিনি ইফ্রয়িম বংশের লোক। তাঁর ছিল আট পুত্র। শৌলের আমলে তিনি বৃদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। তাঁর সমকালীন লোকজনের মধ্যে তিনিই ছিলেন বয়সে সবচেয়ে প্রবীণ।
13
যিশয়ের পুত্রদের মধ্যে বড় তিনজন শৌলের সঙ্গে যুদ্ধে গিয়েছিল। এই তিনজনের মধ্যে বড়টির নাম ইলিয়াব, দ্বিতীয়ের নাম অবিনাদব এবং তৃতীয়ের নাম শাম্মা।
14
দাউদ ছিলেন সকলের ছোট।
15
বড় তিনজন শৌলের সঙ্গে ছিল, কিন্তু দাউদ বেথলেহেমে তাঁর পিতার মেষপাল চরাতেন আর শৌলের শিবিরে যাতায়াত করতেন।
16
এই সময়ে চল্লিশ দিন ধরে সেই ফিলিস্তিনী লোকটি সকাল ও সন্ধ্যায় এইভাবে আস্ফালন করত।
17
একদিন যিশয় দাউদকে বললেন, তোমার ভাইদের জন্য এই এক এফা পরিমাণ ভাজা শস্য এবং দশটি রুটি নিয়ে তাড়াতাড়ি সৈন্য শিবিরে যাও।
18
আর এই দশ তাল পনীর তাদের একহাজারী সেনানায়কের জন্য নিয়ে যাও। তোমার ভাইয়েরা কেমন আছে দেখে এস আর তাদের কাছ থেকে কোন একটি নিদর্শন নিয়ে এস।
19
শৌল এবং ইসরায়েলীদের সঙ্গে দাউদের ভাইয়েরা তখন এলা উপত্যকায় ফিলিস্তিনীদের সঙ্গে যুদ্ধ করছিল।
20
ভোরে উঠে দাউদ মেষগুলিকে একজন রক্ষকের জিম্মায় রেখে যিশয়ের আদেশ মত সব জিনিস নিয়ে চলে গেলেন।
21
তিনি যখন সৈন্য শিবিরের কাছে এসে পৌঁছালেন তখন সৈন্যরা রণহুঙ্কার ছেড়ে যুদ্ধক্ষেত্রে বেরিয়ে যাচ্ছিল। ইসরায়েলী ও ফিলিস্তিনী বাহিনী মুখোমুখি ব্যূহ রচনা করল।
22
দাউদ তখন পাহারাদারদের কাছে তাঁর জিনিসপত্র রেখে সৈন্যশ্রেণীর মধ্যে দৌড়ে গিয়ে তাঁর ভাইদের কুশল সংবাদ জানতে চাইলেন।
23
তিনি যখন তাদের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন গাৎনিবাসী সেই ফিলিস্তিনী যোদ্ধা গলিয়াৎ সৈন্যশ্রেণীর মধ্য থেকে বেরিয়ে এসে আগের মত আস্ফালন করতে লাগল। দাউদ তার সমস্ত কথাই শুনলেন।
24
ইসরায়েলীরা সকলে এই লোকটাকে দেখে অত্যন্ত ভীত হয়ে তার সামনে থেকে পালিয়ে গেল।
25
তাদের মধ্যে একজন বলল, এই যে লোকটি বেরিয়ে এল, একে দেখেছ তো? এ ইসরায়েলীদের অপদস্থ করতে এসেছে। একে যে বধ করতে পারবে মহারাজ তাকে প্রচুর ধনসম্পদ দেবেন আর সেই সঙ্গে তাকে নিজ কন্যাও দান করবেন। তার পিতৃকুলকেও সমস্ত কর থেকে তিনি মুক্ত করে দেবেন।
26
পাশে যে সব লোক দাঁড়িয়েছিল দাউদ তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, এই ফিলিস্তিনীটাকে হত্যা করে যে ইসরায়েলকুলের কলঙ্ক দূর করবে, তাকে কি পুরস্কার দেওয়া হবে? এই বর্বর ফিলিস্তিনীটা কে যে জাগ্রত ঈশ্বরের সেনাবাহিনীকে ধিক্কার দেয়?
27
সেই লোকগুলি ঐ সমস্ত পুরস্কারের কথা উল্লেখ করে তাঁকে বলল, যে ঐ লোকটাকে হত্যা করতে পারবে তাকে ঐ সব পুরস্কার দেওয়া হবে।
28
ঐ লোকগুলির সঙ্গে দাউদের যেসব কথাবার্তা হচ্ছিল সবই তার বড় ভাই ইলিয়াব শুনলেন। তিনি দাউদের উপর রেগে গিয়ে বললেন, তুই কেন এখানে এসেছিস? মাঠের মধ্যে ভেড়াগুলিকে কার কাছে রেখে এলি?
29
আমি তোর দেমাক আর কুমতলবের কথা সব জানি। তুই লড়াই দেখতে এসেছিস। দাউদ বললেন, আমি কি দোষ করলাম? একটা কথা শুধু জিজ্ঞাসা করেছি বৈ তো নয়?
30
তিনি তখন অন্যজনের দিকে ফিরে তাকে সেই একই কথা জিজ্ঞাসা করলেন। সবাই তাঁকে আগের মতই উত্তর দিল।
31
দাউদ যে সব কথা বলেছিলেন তা চারিদিকে রাষ্ট্র হয়ে গেল, শৌলের কানে গিয়ে সে সব কথা পৌঁছাল। তিনি তখন দাউদকে তাঁর কাছে ডেকে আনালেন।
32
দাউদ শৌলকে বললেন, মহারাজ, এই লোকটার ব্যাপারে কারও ভয় পাবার কিছু নেই। আপনার এই দাসই ঐ ফিলিস্তিনীটার সঙ্গে লড়াই করবে।
33
কিন্তু শৌল বললেন, ঐ ফিলিস্তিনী লোকটার সঙ্গে তুমি কি করে লড়াই করবে? তুমি তো বালকমাত্র আর এই লোকটা অল্প বয়স থেকেই যোদ্ধা।
34
দাউদ বললেন, আপনার এই দাস তার পিতার মেষপাল চরায়। একবার একটা সিংহ আর একবার একটা ভালুক এসে পালের মধ্যে থেকে ভেড়া ধরে নিয়ে যায়।
35
আমি তখন তার পিছু পিছু ধাওয়া করে তাকে ঘায়েল করে তার মুখ থেকে ভেড়াটিকে উদ্ধার করে এনেছিলাম। সে উঠে রুখে দাঁড়ালে আমি তার টুঁটি ধরে আঘাত করে তাকে মেরে ফেললাম।
36
আপনার এই দাস সিংহ ও ভালুক দুই-ই মেরেছে। এই বর্বর ফিলিস্তিনীটা ঐ দুইয়ের কোন একটার মতই হবে, কারণ এ জাগ্রত ঈশ্বরের সেনাবাহিনীকে উপহাস করছে।
37
দাউদ আরও বললেন, যে প্রভু পরমেশ্বর আমাকে সিংহ ও ভালুকের থাবা থেকে উদ্ধার করেছেন, তিনিই এই ফিলিস্তিনীটার হাত থেকে আমাকে রক্ষা করবেন। তখন শৌল দাউদকে বললেন, আচ্ছা যাও, প্রভু পরমেশ্বর তোমার সঙ্গে থাকুন।
38
শৌল নিজের সাজ দাউদকে পরিয়ে দিলেন। তার মাথায় দিলেন পিতলের শিরস্ত্রাণ আর গায়ে পরিয়ে দিলেন বর্ম।
39
দাউদ ঐ সব সাজসজ্জা পরে কোমরে তরবারি বেঁধে চলা ফেরার চেষ্টা করলেন কিন্তু পারলেন না। কারণ এই সব সাজসজ্জায় তিনি অভ্যস্ত ছিলেন না। দাউদ শৌলকে বললেন, এই বেশে আমি যেতে পারব না, এতে আমি অভ্যস্ত নই। এই বলে তিনি সাজসজ্জা সব খুলে ফেললেন।
40
শুধু লাঠিখানা হাতে নিলেন আর পাহাড়ী সোঁতা থেকে পাঁচটি চিকণ নুড়ি পাথর বেছে নিয়ে নিজের ঝুলিতে রাখলেন। আর ফিঙ্গাটি হাতে নিয়ে তিনি ঐ ফিলিস্তিনী লোকটির দিকে এগিয়ে গেলেন।
41
গলিয়াৎও দাউদের দিকে এগিয়ে আসতে লাগল। তার আগে আগে আসছিল তার ঢালী।
42
গলিয়াৎ দাউদকে দেখে তুচ্ছজ্ঞান করল। কারণ দাউদ বয়সে ছিলেন কিশোর। তাঁর গায়ের রং রক্তিম, দেখতে তিনি খুব সুন্দর।
43
ফিলিস্তিনী যোদ্ধা গলিয়াৎ দাউদকে বলল, আমি কি কুকুর যে তুই লাঠি নিয়ে আমার কাছে আসছিস? সে তখন নিজের ইষ্টদেবতাদের নাম করে দাউদকে অভিশাপ দিয়ে বলল, এগিয়ে আয়,
44
আমি তোর মাংস আকাশের পাখি আর মাঠের পশুদের খাওয়াব।
45
দাউদ তাকে বললেন, তুমি তরবারি, বর্শা ও বল্লম নিয়ে আমার কাছে এসেছ, কিন্তু তুমি যাঁকে উপহাস করেছ, সেই সর্বাধিপতি প্রভু পরমেশ্বর ইসরায়েলী সেনানীর আরাধ্য ঈশ্বরের নাম নিয়েই আমি তোমার সম্মুখে এসেছি।
46
প্রভু আজ আমার হাতে তোমার পরাজয় ঘটাবেন। আমি তোমাকে পরাস্ত করে তোমার শিরচ্ছেদ করব আর ফিলিস্তিনী সৈন্যদের শব আকাশের পাখি ও মাঠের পশুদের খাওয়াব। তা দেখে পৃথিবীর সকলে জানবে যে ইসরায়েলীদেরও একজন আরাধ্য ঈশ্বর আছেন।
47
আর এও জানবে সকলে যে, আমাদের আরাধ্য ঈশ্বর প্রভু পরমেশ্বর তরবারি ও বর্শা ছাড়াই উদ্ধার করতে পারেন। স্বয়ং প্রভু পরমেশ্বরই এ যুদ্ধের নেতা, তিনিই আমাদের হাতে তোমাদের পরাজয় ঘটাবেন।
48
গলিয়াৎ তখন দাউদের দিকে ক্রমশঃ এগিয়ে আসতে লাগল, দাউদও তার কাছে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সৈন্য শ্রেণীর দিকে দৌড়ে গেলেন
49
এবং ঝুলি থেকে একটা পাথর বার করে ফিঙ্গাতে পুরে পাক দিয়ে গলিয়াতের কপালে ছুঁড়ে মারলেন। পাথরটি তার কপালে ঢুকে গেল, সঙ্গে সঙ্গে সে মুখ থুবড়ে মাটিতে পড়ে গেল।
50
এইভাবে দাউদ ফিঙ্গা ও পাথর দিয়ে গলিয়াৎকে পরাস্ত করলেন।
51
দাউদের হাতে তরবারি ছিল না তাই তিনি দৌড়ে ঐ লোকটার পাশে গিয়ে তারই তরবারি খাপ থেকে খুলে নিয়ে তার মাথা কেটে ফেললেন। ফিলিস্তিনীরা তাদের বীর যোদ্ধাকে নিহত হতে দেখে পালাতে শুরু করল।
52
তাই দেখে ইসরায়েল ও যিহুদীগোষ্ঠীর সমস্ত লোক জয়ধ্বনি করে উঠল এবং গয় ও এক্রোণের প্রবেশমুখ পর্যন্ত তাদের তাড়া করে নিয়ে গেল। আর শরায়িম থেকে গাত ও এক্রোণ পর্যন্ত পথের দুধারে আহত ফিলিস্তিনীরা পড়ে রইল।
53
ইসরায়েলীরা তখন আর ফিলিস্তিনীদের পিছনে তাড়া না করে ফিরে এসে তাদের শিবির লুঠ করল।
54
দাউদ গলিয়াতের কাটা মুণ্ডটি জেরুশালেমে নিয়ে এলেন কিন্তু তার সাজসজ্জাগুলি নিজের শিবিরে রেখে এলেন।
55
গলিয়াতের বিরুদ্ধে দাউদকে যুদ্ধে যেতে দেখে শৌল তাঁর সেনাপতি অবনেরকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, অবনের এ কার পুত্র? অবনের বলেছিলেন, মহারাজ সত্যি বলছি, আমি ঠিক জানি না।
56
রাজা বলেছিলেন, তাহলে খোঁজ নাও ছেলেটি কার।
57
তাই দাউদ যখন গলিয়াৎকে বধ করে ফিরে আসছিলেন তখন অবনের তাঁকে শৌলের কাছে নিয়ে গেলেন। তাঁর হাতে তখন ঐ ফিলিস্তিনী লোকটার কাটা মুণ্ড ছিল।
58
শৌল তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কার পুত্র? দাউদ উত্তর দিলেন, আমি আপনার দাস বেথলেহেমনিবাসী যিশয়ের পুত্র।
← Chapter 16
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 22
Chapter 23
Chapter 24
Chapter 25
Chapter 26
Chapter 27
Chapter 28
Chapter 29
Chapter 30
Chapter 31
Chapter 18 →
All chapters:
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
13
14
15
16
17
18
19
20
21
22
23
24
25
26
27
28
29
30
31