bible
ra
🌐 Language
English
Español
Français
Deutsch
Português
Italiano
Nederlands
Русский
中文
日本語
한국어
العربية
Türkçe
Tiếng Việt
ไทย
Indonesia
All Languages
Home
/
Bengali
/
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
/
Mark 14
Mark 14
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
← Chapter 13
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 15 →
1
তারণোৎসব ও খামিরবিহীন রুটির পর্বের আর দুদিন বাকী। পুরোহিতদের নেতৃবৃন্দ আর শাস্ত্রীরা যীশুকে কৌশলে গ্রেপ্তার করে হত্যা করার উপায় খুঁজছিলেন।
2
তাঁরা বললেন, পর্বের সময় আমরা এ কাজ করব না, তাহলে জনসাধারণের মধ্যে বিক্ষোভ সৃষ্টি হতে পারে।
3
এই সময় যীশু ছিলেন বেথানিতে, শিমোনের বাড়িতে। ইনি একসময় কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হয়এছিলেন। যীশু খেতে বসেছেন, এমন সময় একটি স্ত্রীলোক স্ফটিকে পাত্রের বহুমূল্য সুগন্ধি আতর নিয়এ এল। তারপর সেটার মুখ ভেঙ্গে যীসুর মাথায় ঢেলে দিল।
4
সেখানে তাঁর সঙ্গে যারা ছিল তাদের কেউ কেউ এতে রেগে গিয়ে বলতে লাগল, এভাবে আতর নষ্ট করা হচ্ছে কেন?
5
তিনশো দীনারের চেয়েও বেশী দামে এই আতর বিক্রী করে গরীবদের দেওয়া যেত। তার উপর তারা খুব বিরক্ত হল।
6
কিন্তু যীশু বললেন, ওকে ছেড়ে দাও, কেন ওগে কষ্ট দিচ্ছ তোমরা?
7
আমার প্রতি এর এই আচরণ অপূর্ব সুন্দর। গরীবেরা সবসময়ই তোমাদের কাছে রয়েছে। যখন ইচ্ছা তোমরা তাদের উপকার করতে পার কিন্তু আমাকে তোমরা সবসময় কাছে পাবে না।
8
সে তার সাধ্যমত করেছে, সে আগে থেকেই সমাধির জন্য আমার দেহকে অভিষিক্ত করেছে।
9
সত্যিই আমি তোমাদের বলছি, পৃথিবীর যেখানেই সুসমাচার প্রচারিত হবে, সেখানেই এর কথা স্মরণ করে এই কীর্তির উল্লেখ করা হবে।
10
বারোজন শিষ্যের একজন, যিহুদা ইস্কারিয়োথ নেতৃস্থানীয় পুরোহিতদের কাছে চলে গেলেন যীশুকে তাঁদের হাতে ধরিয়ে দেবেন, একথা বলার জন্য।
11
এ কথা শুনে তাঁরা খুব খুশি হলেন এবং তাঁকে অর্থ দেবার প্রতিশ্রুতি দিলেন। তখন থেকে যিহুদা যীশুকে ধরিয়ে দেবার সুযোগ খুঁজতে লাগলেন।
12
খামিরবিহীন রুটির পর্বের প্রথম দিনে যখন তাঁরা তারণোৎসবের মেষশাবক বলি দিলেন তখন যীশুরর শিষ্যেরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনার জন্য তারণোৎসবের ভোজ আমরা কোথায় তৈরী করব? আপনি আমাদের কোথায় যেতে বলেন?
13
যীশু তখন তাঁর দুজন শিষ্যকে এই নির্দেশ দিয়ে পাঠালেন, শহরে যাও, সেখানে দেখবে একটি লোক কলসীতে করে জল নিয়ে যাচ্ছে, তাকে অনুসরণ করবে।
14
যে বাড়িতে সে ঢুকবে সেই বাড়ির মালিককে বল, গুরুদেব জিজ্ঞাসা করেছেন যে, তিনি সিষ্যদের সঙ্গে যে ঘরে তারণোৎসবের ভোজের অনুষ্ঠান পালন করবেন সেই ঘরটা কোথায়?
15
তখন তিনি তোমাদের ওপরের তলায় একটি বড় সুসজ্জিত ঘর দেখিয়ে দেবেন। ঘরটি ভোজের জন্যই। সেখানেই ভোজের আয়োজন করো।
16
শিষ্যেরা চলে গেলেন শহরে এবং যীশুর কথামত সবকিছু পেলেন। সেখানে তাঁরা তারণোৎসবের ভোজের আয়োজন করলেন।
17
সন্ধ্যাবেলায় যীশু তাঁর বারোজন শিষ্যকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে এলেন।
18
তাঁদের সঙ্গে বসে আহারের সময় যীশু বললেন, সত্যিই আমি তোমাদের বলছি, তোমাদেরই একজন, যে আমার সঙ্গে খাচ্ছে, সে-ই আমাকে ধরিয়ে দেবে।
19
তাঁরা এ কথায় খুব দুঃখ পেলেন এবং সকলে একে একে তাঁকে জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন, সে কি আমি?
20
তিনি তাঁদের বললেন, সে বারোজনেরই একজন, আমারই সঙ্গে সে বাটিতে রুটি ডুবাচ্ছে।
21
কারণ শাস্ত্রে তাঁর সম্বন্ধে যেমন লেখা আছে, মানবপুত্র সেই নির্দিষ্ট পথেই এগিয়ে চলেছেন। কিন্তু হতভাগ্য সেইজন যে মানবপুত্রকে ধরিয়ে দেবে। তার জন্ম না হওয়াই ভাল ছিল।
22
তাঁরার সকলে খেতে বসলে যীশু রুটি হাতে নিয়ে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলেন, তারপর টুকরো টুকরো করে শিষ্যদের দিয়ে বললেন, এই নাও, আমার দেহ।
23
তারপর পানপাত্র হাতে নিয়ে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিয়ে তাঁদের দিলেন। সকলে সেই পানপাত্র থেকে পান করলেন।
24
যীশু তাঁদের বললেন, ঈশ্বরের সঙ্গে সম্বন্ধের প্রতীক এই আমার রক্ত, যা বহুজনের জন্য নিঃসারিত।
25
সত্যিই আমি তোমাদের বলছি, ঈশ্বরের রাজ্যে নতুন করে পান করার আগে আর কোন দিন আমি দ্রাক্ষারস পান করব না।
26
তাঁরা তারণোৎসবের গান গাইলেন, তারপর অলিভ পর্বতে গেলেন।
27
যীশু তাঁদের বললেন, তোমরা সকলে আমাকে পরিত্যাগ করবে কারণ শাস্ত্রে লেখা আছে, ‘মেষপালককে আমি আঘাত করব, মেষেরা তখন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়বে।’
28
কিন্তু আমি পুনরুত্থিত হবার পর তোমাদের আগে গালীলে যাব।
29
পিতর বললেন, সকলে আপনাকে পরিত্যাগ করলেও আমি করব না।
30
যীশু তাঁকে বললেন, সত্যিই তোমায় আমি বলছি, আজই রাত্রে মোরগ দুবার ডাকার আগে তুমি আমাকে তিনবার অস্বীকার করবে।
31
কিন্তু পিতর আরও জোরের সঙ্গে বললেন, আপনার সঙ্গে যদি আমার মরতেও হয় তবু আমি আপনাকে অস্বীকার করব না। সকলেই একই কথা বললেন।
32
গেৎশিমানী নামে একটা জায়গায় তাঁরা এলেন। যীশু তাঁর শিষ্যদের বললেন, যতক্ষণ আমি প্রার্থনা করি, তোমরা ততক্ষণ এখানে বসে থাক।
33
পিতর, যাকোব আর যোহনকে যীসু সঙ্গে নিয়ে গেলেন। তিনি দুঃখে অভিভূত ও বিচলিত হয়ে পড়লেন।
34
তাই যীশু তাঁদের বললেন, আমার প্রাণ মর্মান্তিক যন্ত্রণায় জর্জরিত। তোমরা এখানে অপেক্ষা কর, জেগে থাক।
35
তারপর একটু দূরে এগিয়ে গিয়ে যীশু মাটিতে লুটিয়ে পড়ে প্রার্থনা করতে লাগলেন, যদি সম্ভব হয় তাহলে যেন সেই মর্মান্তিক ক্ষণ থেকে তিনি অব্যাহতি পান।
36
তিনি বললেন, আব্বা, পিতা, তোমার পক্ষে সবই সম্ভব। এই পানপাত্র আমার কাছ থেকে সরিয়ে নাও। তবে আমার ইচ্ছা নয় তোমার ইচ্ছাই পূর্ণ হোক।
37
তারপর ফিরে এসে তিনি দেখলেন, তাঁরা ঘুমিয়ে পড়েছেন। তখন পিতরকে তিনি বললেন, শিমোন, তুমি ঘুমাচ্ছ? এক ঘণ্টাও জেগে থাকতে পারলে না?
38
জেগে থাক, প্রার্থনা কর যেন প্রলোভনে না পড়। আত্মা আগ্রহী হলেও দেহ দুর্বল।
39
যীশু আবার ফিরে গিয়ে সেই একই প্রার্থনা করলেন।
40
আবার ফিরে এলেন তাঁদের কাছে। দেখলেন, তাঁরা ঘুমাচ্ছেন, চোখ তাঁদের ঘুমে ভারী হয়ে উঠেছে। যীশুকে তাঁরা যে কি উত্তর দেবেন খুঁজে পেলেন না।
41
যীশু তাঁদের কাছে তৃতীয়বার এলেন, এসে বললেন, এখনও ঘুমাচ্ছ, বিশ্রাম করছ? যথেষ্ট হয়েছে, সময় ঘনিয়ে এসেছে! দেখ, মানবপুত্রকে পাপীদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
42
ওঠ, চল আমরা যাই। যে আমায় ধরিয়ে দেবে ঐ দেখ সে এগিয়ে আসছে।
43
যীশুর কথা শেষ হতে না হতে বারোজন শিষ্যের অন্যতম যিহুদা এসে পৌঁছাল। তার সঙ্গে ছিল লাঠি ও তরবারি হাতে বিরাট একদল লোক। পুরোহিতদের নেতৃবৃন্দ, শাস্ত্রী এবং সমাজপতিরা এদের পাঠিয়েছিলেন।
44
যীশুকে যে ধরিয়ে দিতে এসেছিল, সে তাদের একটা সঙ্কগেত দিয়েছিল, বলেছিল, আমি যাঁকে চুম্বন করব, তিনিই সেই ব্যক্তি। তাঁকে গ্রেপ্তার করে তোমরা সাবধানে নিয়ে যেও।
45
সে সোজা যীশুর কাছে গিয়ে ‘রব্বি’ বলে সম্বোধন করে তাঁকে চুম্বন করল।
46
তারা তখন যীশুকে গ্রেপ্তার করল।
47
যীশুর পাশে যাঁরা দাঁড়িয়েছিলেন তাঁদেরই একজন তরবারি বের করে প্রধান পুরোহিতের ক্রীতদাসের একটা কান কেটে ফেললেন।
48
যীশু তাঁদের বললেন, যেভাবে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে লোকে ডাকাত ধরতে যায়, সেইভাবে তোমরা কেন আমায় ধরতে এসেছ?
49
দিনের পর দিন মন্দিরে আমি তোমাদের সামনেই উপদেশ দিয়েছি, তখন তো তোমরা আমায় গ্রেপ্তার করনি। কিন্তু শাস্ত্রের বচন সফল হরবেই।
50
শিষ্যেরা তখন সকলে তাঁকে ফেলে পালিয়ে গেলেন।
51
একজন যুবক খালি গায়ে একটা মাত্র চাদর জড়িয়ে তাঁর পিছনে পিছনে যাচ্ছিল।
52
তারা তাকে ধরতেই সে গায়ের চাদরটা ফেলে উলঙ্গ অবস্থাতেই পালিয়ে গেল।
53
তারার যীশুকে নিয়ে গেল প্রধান পুরোহিতের কাছে। তখন পুরোহিতদের নেতৃবৃন্দ, সমাজপতিরা ও শাস্ত্রীরা একত্রিত হলেন।
54
পিতর দূরে থেকেক যীশুর অনুসরণ করে সোজা প্রধান পুরোহিতের উঠোনের মধ্যে চলে গেলেন এবং সেখানে দাস-দাসীদের সঙ্গে তিনিও আগুন পোহাতে লাগলেন।
55
নেতৃস্থানীয় পুরোহিতেরা ও সমগ্র মহাসভা যীশুর বিরুদ্ধে সাক্ষ্যপ্রমাণ খুঁজতে লাগলেন যাতে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়অ যায় কিন্তু কোন কিছুই পাওয়া গেল না।
56
অনেকে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিল কিন্তু তাদের সাক্ষ্যে কোন মিল ছিল না।
57
কয়েকজন আবার উঠে দাঁড়িয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়ে বলল,
58
আমরা ওকে এই কথা বলতে শুনেছি, ‘আমি মানুষের হাতে গড়া এই মন্দির ভেঙ্গে ফেলে তিনদিনের মধ্যে আর একটি মন্দির গড়ে তুলব যা মানুষের হাতে গড়া নয়’।
59
কিন্তু তাদের এই সাক্ষ্যেরও মিল হল না।
60
তখন প্রধান পুরোহিত সকলের সামনে দাঁড়িয়ে যীশুকে প্রশ্ন করতে লাগলেন, তোমার বিরুদ্ধে এদের এই অভিযোগ সম্বন্ধে তোমার কি কিছুই বলার নেই?
61
যীশু নীরব, কোন উত্তর দিলেন না। প্রধান পুরোহিত আবার তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমিই কি সেই খ্রীস্ট, পরমধন্য ঈশ্বরের পুত্র?
62
যীশু বললেন, আমিই তিনি। তোমরা দেখবে, মানবপুত্র সর্বশক্তিমানের দক্ষিণে উপবিষ্ট এবং মেঘবাহনে স্বর্গ থেকে নেমে আসছেন।
63
প্রধান পুরোহিত তখন নিজের পোষাক ছিঁড়ে বললেন, আর আমাদের সাক্ষীর কি দরকার?
64
তোমরা তো ঈশ্বরনিন্দা শুনলে! এখন তোমাদের মত কি? সকলেই যীশুকে মৃত্যুদণ্ডের যোগ্য অপরাধী বলে সাব্যস্ত করল।
65
কেউ কেউ তখন যীশুর গায়ে থুতু দিতে লাগল। কেউ বা তাঁর মুখ ঢেকে দিয়ে ঘুসি মেরে বলল, এবার বল কে মেরেছে? প্রহরীরাও যীশুকে ধরে কিল-চড় মারতে লাগল।
66
পিতর তখন ছিলেন বাইরের উঠোনে। সেখানে প্রধান পুরোহিতের একজন দাসী এসে
67
পিতরকে আগুন পোহাতে দেখে তাঁর দিকে চেয়ে বলল, তুমিও তো নাসরতের যীশুর সঙ্গে ছিলে।
68
তিনি কিন্তু অস্বীকার করলেন, বললেন, তুমি কি বলছ তার কিছু জানি না, বুঝতেও পারছি না। তিনি উঠে চলে গেলেন বাইরে ফটকের দিকে। তখনই মোরগ ডেকে উঠল।
69
সেই দাসীটা আবার তাঁকে দেখে পাশে দাঁড়ানো লোকদের বলল, এই লোকটা কিন্তু ওদেরই একজন।
70
তিনি আবার এ কথা অস্বীকার করলেন। কিছুক্ষণ পরে পাশে দাঁড়ানো লোকগুলো পিতরকে বলল, নিশ্চয়ই তুমি ওদেরই একজন, কারণ তুমিও তো গালীলের লোক।
71
তিনি তাদের অভিশাপ দিয়ে শপথ করে বললেন, যার কথা তোমরা বলছ তাকে আমি চিনি না।
72
তখনই দ্বিতীয়বার মোরগ ডেকে উঠল । পিতরের মনে পড়ে গেল যীশুর সেই কথাগুলি যা তিনি তাঁকে বলেছিলেন, “দুবার মোরগ ডাকার আগে তুমি আমায় তিনবার অস্বীকার করবে।” পিতর কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন।
← Chapter 13
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 15 →
All chapters:
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
13
14
15
16