bible
ra
🌐 Language
English
Español
Français
Deutsch
Português
Italiano
Nederlands
Русский
中文
日本語
한국어
العربية
Türkçe
Tiếng Việt
ไทย
Indonesia
All Languages
Home
/
Bengali
/
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
/
Mark 6
Mark 6
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
← Chapter 5
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 7 →
1
সেখান থেকে যীশু ফিরে গেলেন নিজের নগরে। শিষ্যেরাও তাঁর সঙ্গে গেলেন।
2
সাব্বাথ দিনে তিনি সমাজভবনে গিয়ে উপদেশ দিতে আরম্ভ করলেন। তাঁর উপদেশ শুনে লোকেরা খুব অবাক হয়ে বলতে লাগল, এসব কথা এ কোথা থেকে শিখল? এমন জ্ঞান কোথা থেকে পেল যারা সাহায্যে এ এতসব অলৌকিক কাজ করছে?
3
একি সেই ছুতোর মিস্ত্রী নয়? এ তো মরিয়মের ছেলে, যাকোব, যোশি, শিমোন আর যিহুদার ভাই, তাই না? ওর বোনরাও তো আমাদের এখানেই থাকে। যীশুকে তারা গ্রাহ্যই করল না।
4
যীশু তাদের বললেন, বাড়ি, আত্মীয়-স্বজন, স্বগৃহ এবং স্বদেশ ছাড়া কোনও নবী আর কোথাও অসম্মানিত হন না।
5
কয়েকজন অসুস্থ লোককে স্পর্শ করে সুস্থ করা ছাড়া আর কোন অলৌকিক কাজ তিনি সেখানে করতে পারলেন না।
6
তাদের এত অবিশ্বাস দেখে যীশু অবাক হয়ে গেলেন। যীশু গ্রামে গ্রামে ঘুরে শিক্ষা দিয়ে বেড়াতে লাগলেন।
7
তিনি তাঁর বারজন শিষ্যকে ডেকে দু'জন দু'জন করে এক একদিকে পাঠাতে লাগলেন এবং অশুচি আত্মা দূর করার ক্ষমতা তাঁদের দিলেন ।
8
যীশু তাঁদের আদেশ দিলেন যেন পথে লাঠি ছাড়া আর কিছুই সঙ্গে না নেন, খাবার নয়, ঝুলি নয়, এমনকি টাকাকড়িও নয়।
9
তাঁদের পায়ে পাদুকা থাকতে পারে, কিন্তু সঙ্গে জামা যেন দুটো না থাকে।
10
যীশু তাঁদের বললেন, কোথাও কোন বাড়িতে গেলে তেআমরা সেই এলাকা ছেড়ে না যাওয়া পর্যন্ত সেই বাড়িতেই থাকবে।
11
কোনো জায়গায় লোকে যদি তোমাদের স্বাগত না জানায় বা তোমাদের কথা না শোনে, তাহলে সেই জায়গা ছেড়ে চলে যাবার সময় পায়ের ধূলো ঝেড়ে ফেলো, তা-ই হবে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যপ্রমাণ।
12
শিষ্যেরা চলে গেলেন এবং প্রচার করতে লাগলেন যেন মানুষ অনুতাপ করে মন পরিবর্তন করে।
13
তাঁরা অনেক ভূত ছাড়ালেন এবং তৈলাভিষেক করে অনেক রোগীকে সুস্থ করলেন।
14
রাজা হেরোদ যীশুর এ সমস্ত কথা শুনতে পেলেন কারণ যীশুর নাম চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। কেউ কেউ বলছিল, বাপ্তিষ্মদাতা যোহন মৃতলোক থেকে পুনর্জীবিত হয়েছেন। সেইজন্যই তাঁর মধ্যে এই অলৌকিক শক্তি সক্রিয় হয়ে উঠেছে ।
15
আবার কেউ বলল, উনি এলিয়। অন্যেরা বলতে লাগল, পুরাকালের নবীদের মত উনিও একজন নবী।
16
কিন্তু হেরোদ এ কথা শুনে বললেন, আমি যার শিরশ্ছেদ করেছি সেই যোহন আবার বেঁচে উঠেছেন।
17
হেরোদিয়ার কথায় হেরোদ স্বয়ং যোহনকে গ্রেপ্তার করিয়ে কারাগারে বন্দী করে রেখেছিলেন।
18
হেরোদিয়া ছিলেন হেরোদের ভাই ফিলিপের স্ত্রী। হেরোদ তাঁকে বিবাহ করেছিলেন। তাই যোহন হেরোদকে বলেছিলেন, ভ্রাতৃবধূকে বিবাহ করা তোমার পক্ষে সঙ্গত হয়নি।
19
এইজন্য যোহনের উপর হেরোদিয়ার আক্রোশ ছিল। তিনি তাঁকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন কিন্তু পারেননি
20
কারণ হেরোদ যোহনকে ভয় করতেন। তিনি জানতেন যে যোহন একজন ধর্মনিষ্ঠ সাধু ব্যক্তি, তাই তিনি তাঁকে রক্ষা করেছিলেন। যোহনের কথাবার্তা শুনে হেরোদ খুব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়তেন কিন্তু তবুও তাঁর কথা শুনতে চাইতেন।
21
হেরোদিয়ার সামনে একদিন সুযোগ এল। হেরোদ তাঁর জন্মদিনে তাঁর সভাসদ, সামরিক কর্মচারী ও গালীল প্রদেশের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের এক ভোজসভায় আমন্ত্রণ জানালেন।
22
সেই সভায় হেরোদিয়ার কন্যা নৃত্যকলা প্রদর্শন করে হেরোদকে এবং আমন্ত্রিতদের মুগ্ধ করেছিল। রাজা তাই মেয়েটিকে বললেন, তোমার যা ইচ্ছা আমার কাছে চাও, আমি তাই-ই তোমায় দেব।
23
তিনি তার কাছে শপথ করে বললেন, তুমি আমার কাছে যা চাইবে তাই দেব, এমন কি আমার অর্ধেক রাজত্ব পর্যন্ত তোমায় দিয়ে দেব।
24
সে চলে গেল তার মায়ের কাছে, জিজ্ঞেস করল, আমি কি চাইব? তিনি বললেন, বাপ্তিষ্মদাতা যোহনের মাথা।
25
সঙ্গে সঙ্গে সে রাজার কাছে গিয়ে বলল, আমি চাই, এক্ষুণি আপনি বাপ্তিষ্মদাতা যোহনের মাথা থালায় করে আমায় এনে দিন।
26
এ কথা সুনে রাজা খুবই দুঃখিত হলেন। কিন্তু যেহেতু তিনি আমন্ত্রিতদের সামনে শপথে আবদ্ধ হয়েছিলেন এবং আমন্ত্রিতেরা উপস্তিত ছিলেন তাই তিনি তাকে প্রত্যাখ্যান করতে চাইলেন না।
27
রাজা তখনই একজন দেহরক্ষীকে যোহনের মাথা কেটে আনার আদেশ দিয়ে পাঠিয়ে দিলেন। সে কারাগারে গিযে যোহনের শিরশ্ছেদ করে তাঁর মাথা
28
একটা থালায় করে এনে মেয়েটিকে দিল। মেয়েটি গিয়ে সেটি তার মাকে দিল।
29
যোহনের শিষ্যেরা এই খবর পেয়ে এসে তাঁর দেহটি নিয়ে গিয়ে কবর দিল।
30
প্রেরিত শিষ্যেরা ফিরে এলেন যীশুর কাছে। যে সমস্ত কাজ তাঁরা করেছিলেন এবং লোককে যে শিক্ষা তাঁরা দিয়েছিলেন, সব কথা যীশুকে বললেন।
31
সেখানে অনেক লোক যাওয়া-আসা করছিল বলে তাঁদের খাওয়ার পর্যন্ত সময় হচ্ছিল না। তাই যীশু তাঁদের বললেন, চল, আমরা নিজেরা একটা নির্জন জায়গায়া গিয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিই।
32
তাঁরা নৌকায় করে একটা নির্জন জায়গায় চলে গেলেন।
33
বহু লোক তাঁদের যেতে দেখল এবং চিনতে পেরে সমস্ত শহরের লোক দৌড়াতে লাগল সেই দিকে। তাঁদের পৌঁছানোর আগেই তারা সেখানে পৌঁছে গেল।
34
নৌকা থেকে নেমে এই বিরাট জনতাকে দেখে যীশুর খুব মমতা হল, এদের অবস্থা ছিল মেষপালকহীন মেষের মত। যীশু তাদের নানা বিষয়ে শিক্ষা দিতে লাগলেন।
35
সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে শিষ্যেরা যীশুর কাছে এসে বললেন, জায়গাটা খুব নির্জন আর বেলাও নেই একেবারে।
36
এদের সবাইকে এবার বিদায় দিন, আশেপাশের গ্রামে-গঞ্জে গিয়ে নিজেদের খাবার কেনার ব্যবস্থা করুক।
37
যীশু তাঁদের বললেন, তোমরাই এদের কিছু খেতে দাও। তাঁরা বললেন, আমরা কি তাহলে দুশো দীনারের রুটি কিএ এনে এদের খেতে দেব?
38
যীশু তাঁদের বললেলন, তোমাদের কাছে কতগুলো রুটি আছে? যাও দেখে এস। তাঁরা দেখে এসে বললেন, পাঁচখানা রুটি আর দুটো মাছ আচে।
39
যীশু তখন শিষ্যদের বললেলন, সবাইকে দলে দলে লসবুজ ঘালের উপর বসিয়ে দাও।
40
এক এক সারিতে একশো জন, পঞ্চাশ জন করে সবাই বসে পড়ল।
41
যীশু পাঁচটা রুটি আর দুখানা মাছ নিয়ে আকাশের দিকে চেয়ে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলেন। তারপর রুটিগুলো টুকরো টুকরো করে শিষ্যদের হাতে দিলেন পরিবেশন করার জন্য। এইভাবে সবাইকে দেবার জন্য মাছ দুটোও ভাগ করে দিলেন।
42
সকলে খেয়ে পরিতৃপ্ত হল।
43
তারপর তাঁরা রুটি আর মাছের টুকরোগুলো জড়ো করে তুললে বারোটা ঝুড়ি ভর্তি হয়ে গেল।
44
এই রুটি যারা খেয়েছিল তাদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ছিল পাঁচ হাজার।
45
এর পরেই যীশু তাঁর শিষ্যদের নৌকায় তুলে দিয়ে তাঁর আগেই সাগরের ওপারে বেথসৈদায় পাঠিয়ে দিলেন, সেই সঙ্গে তিনি জনতাকেও বিদায় দিলেন।
46
সকলকে বিদায় দিয়ে যীশু প্রার্থনা করার জন্য চলে গেলন পাহাড়ে।
47
সন্ধ্যা নেমে এল। নৌকা তখন মাঝ দরিয়ায়, যীশু তীরে একা।
48
তিনি দেখলেন শিষ্যেরা উজান বাতাসে অতি কষ্টে নৌকা বাইছেন। তখন রাত্রি প্রায় শেষ প্রহর। যীশু সমুদ্রের উপর দিয়ে হেঁটে শিষ্যদের কাছে এলেন। তিনি তাঁদের পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চাইলেন ।
49
কিন্তু তাঁরা যীশুকে সমুদ্রের উপর দিয়ে হাঁটতে দেখে ভূত ভেবে চীৎকার করে উঠলেন।
50
তাঁকে দেখে সকলে খুব ভয় পেয়এ গেলেন। তাই যীশু তাঁদের বললেন, ভয় পেয়ো না, এ আমি! ভয়ের কিছু নেই।
51
যীশু তাঁদের নৌকায় উঠলেন, সঙ্গে সঙ্গে ঝড় থেমে গেল। তাঁরা হতভম্ব হয়ে গেলন।
52
ভোজের ঘটনার মর্মও তাঁরা বুঝতে পারেননি। এসব বোঝার ক্ষমতা তাঁদের ছিল না।
53
সাগরের ওপারে গিনেসরতে গিয়ে তাঁরা নোঙর ফেললেন।
54
নৌকা থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে লোকেরা যীশুকে চিনে ফেলল।
55
এবং যেখানেই তিনি গেলেন সারা এলাকার লোকেরা শুনতে পেয়ে সেখানেই ছুটে যেতে লাগল এবং খাটিয়ায় করে রোগীদের বয়ে আনতে লাগল।
56
শহরে, গাঁয়ে-গঞ্জে যেখানে যীশু গেলেন, সেখানেই লোকেরা রোগীদের বাজারের চকে এনে জড়ো করতে লাগল এবং অনুরোধ করতে লাগল যেন যীশু তাঁর জামার খুঁটটা অন্ততঃ তাদের ছুঁতে দেন। যত জন তাঁকে স্পর্শ করল সকলেই সুস্থ হয়ে গেল।
← Chapter 5
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 7 →
All chapters:
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
13
14
15
16