bible
ra
🌐 Language
English
Español
Français
Deutsch
Português
Italiano
Nederlands
Русский
中文
日本語
한국어
العربية
Türkçe
Tiếng Việt
ไทย
Indonesia
All Languages
Home
/
Bengali
/
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
/
John 6
John 6
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
← Chapter 5
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 7 →
1
তারপর যীশু গালীল সাগরের তীরে তিবিরিয়ায় চলে গেলেন।
2
বিরাট এক জনতা তাঁকে অনুসরণ করল। অসুস্থদের সুস্থ করার ফলে যীশুর অলৌকিক ক্ষমতার পরিচয় তারা পেয়েছিল।
3
পাহাড়ী এলাকায় গিয়ে যীশু তাঁর শিষ্যদের সঙ্গে এক জায়গায় বসলেন।
4
ইহুদীদের তারণোৎসব তখন এসে পড়েছিল।
5
চোখ তুলে তাকাতেই যীশু দেখতে পেলেন বিরাট এক জনতা তাঁর দিকে আসছে। তিনি তখন ফিলিপকে বললেনঃ এই সব লোককে খাওয়াবার জন্য বলো তো কোথা থেকে খাবার কেনা যায়?
6
তবে তিনি যে কি করবেন তা তিনি আগেই ঠিক করে রেখেছিলেন, কিন্তু এ কথা তিনি বলেছিলেন, ফিলিপকে পরীক্ষা করার জন্য।
7
ফিলিপ বললেন, অল্প করে দিলেও দুশো দীনারের খাবারে এদের সকলের কুলাবে না।
8
শিমোন পিতরের ভাই আন্দ্রিয় ছিলেন যীশুর শিষ্যদের মধ্যে একজন। তিনি যীশুকে বললেন,
9
এখানে একটি ছেলের কাছে যবের পাঁচখানা রুটি আর দুখানা ভাজা মাছ আছে কিন্তু এত লোকের পক্ষে এ কিছুই না।
10
যীশু বললেন, সবাইকে বসিয়ে দাও। প্রচুর ঘাসে ঢাকা ছিল জায়গাটা। লোকেরা সব বসে পড়ল সেখানে। সেই জনতার মধ্যে পুরুষের সংখ্যাই ছিল পাঁচ হাজার।
11
যীশু রুটিগুলি নিয়ে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলেন। তারপর উপবিষ্ট লোকদের মধ্যে সেগুলি পরিবেশন করার জন্য শিষ্যদের দিলেন। মাছের বেলাতেও তিনি তাই-ই করলেন। যে যত চাইল, পেল।
12
যথেষ্ট পরিমাণে সকলের খাওয়া হলে যীশু তাঁর শিষ্যদের বললেন, এবার যা কিছু পড়ে আছে সব জড়ো কর যেন কিছুই নষ্ট না হয়। তাঁরা তখন সব জড়ো করলেন।
13
লোকদের খাওয়াদাওয়ার পর পাঁচখানা যবের রুটি থেকে যে টুকরোগুলি বেঁচেছিল তাতে তাঁদের বারোটি ঝুড়ি ভরে গেল।
14
যীশুর এই ঐশীশক্তির নিদর্শন দেখে লোকেরা বলল, নিশ্চয়ই ইনিই সেই নবী, জগতে যাঁর আবির্ভাব হবার কথা।
15
লোকেরা জোর করে তাঁকে রাজপদে অভিষিক্ত করতে চায়-এ কথা বুঝতে পেরে আবার যীশু একাই পাহাড়ী অঞ্চলে চলে গেলেন।
16
সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে যীশুর শিষ্যেরা সাগরতীরে গেলেন।
17
এবং কফরনাউমে যাবার জন্য একটি নৌকায় উঠে সাগর পাড়ি দিতে শুরু করলেন। ইতিমধ্যে অন্ধকার ছেয়ে গেছে কিন্তু যীশু তখনও তাঁদের সঙ্গে মিলিত হলেন না।
18
প্রচণ্ড গতিতে তখন বাতাস বইছিল, সমুদ্রের অবস্থা ক্রমেই ভয়াল হয়ে উঠেছিল।
19
নৌকা বেয়ে তাঁরা প্রায় তিনচার মাইল যেতেই দেখতে পেলেন যীশু সাগরজলের উপর দিয়ে হেঁটে আসছেন তাঁদের নৌকার দিকে। দেখে তাঁরা ভয়ে পেয়ে গেলেন।
20
যীশু তাঁদের বললেনঃ ভয় নেই, এ আমি।
21
তখন তাঁরা খুব খুশি হয়ে তাঁকে নৌকায় তুলে নিলেন এবং সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা যে জায়গায় যাচ্ছিলেন সেখানে পৌঁছে গেলেন।
22
সাগরের ওপারে যারা থেকে গিয়েছিল পরের দিন তারা সেখানে একটি মাত্র নৌকাই দেখেছিল। তারা জানত যে যীশু তাঁর শিষ্যদের সঙ্গে নিয়ে নৌকায় যান নি, শিষ্যেরা তাঁকে বাদ দিয়ে চলে গেছেন।
23
প্রভুর আশিসপুত্র রুটি তারা যে জায়গায় বসে খেয়েছিল, তারই কাছে তিবিরিয়া থেকে নৌকা এসে ভিড়তে লাগল।
24
জনতা যীশুকে বা তাঁর শিষ্যদের এর মধ্যে কোথাও দেখতে না পেয়ে তারা নিজেরাই ঐ নৌকাগুলিতে উঠে যীশুর খোঁজে কফরনাউমের দিকে চলল।
25
সাগরের ওপারে গিয়ে তারা যীশুকে পেয়ে জিজ্ঞাসা করল, গুরুদেব কখন আপনি এখানে এলেন?
26
যীশু বললেন অলৌকিক নির্দশন দেখেছিলে বলেই যে তোমরা আমার সন্ধানে এসেছ, তা নয়, প্রকৃত পক্ষে তৃপ্তি করে আহার করেছিলে বলেই এসেছ।
27
নশ্বর খাদ্যের জন্য নয়, বরং অনন্তজীবনদায়ী অবিনশ্বর খাদ্যের জন্য পরিশ্রম কর। মানবপুত্র তোমাদের সেই খাদ্য দান করবেন। কারণ পিতা ঈশ্বর তাঁকেই সেই অধিকার দিয়েছেন।
28
তারা তখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করল, ঈশ্বরের কাজ করতে হলে আমাদের কি করতে হবে?
29
যীশু বললেন, ঈশ্বরের কাজ করতে হলে তাঁর প্রেরিতপুরুষকে বিশ্বাস করতে হবে।
30
তারা বলল, আপনাকে বিশ্বাস করার মত কি নিদর্শন আপনি আমাদের দেখাতে পারবেন? এমন কি কাজ আপনি করেছেন?
31
শাস্ত্রে আছেঃ তিনি তাদের আহারের জন্য স্বর্গ থেকে খাদ্য দিয়েছিলেন-আমাদের পূর্বপুরুষেরা মরুপ্রান্তরে মান্না খেতে পেয়েছিলেন।
32
যীশু বললেন, তাহলে বলি, প্রকৃত সত্য হচ্ছে এই-স্বর্গের সেই খাদ্য মোশি তোমাদের দেন নি, আমার পিতাই স্বর্গ থেকে তোমাদের প্রকৃত খাদ্য দেন।
33
ঈশ্বর যে খাদ্য দেন তা স্বর্গ থেকে নেমে আসে এবং পৃথিবীতে জীবন সঞ্চার করে।
34
তারা তাঁকে বলল, মহাশয়, সর্বদা এই খাদ্যই আমাদের দিন।
35
যীশু তাদের বললেন, আমিই সেই জীবনদায়ী খাদ্য। যে আমার কাছে আসবে সে কখনও ক্ষুধার্ত হবে না। যে আমায় বিশ্বাস করবে, তৃষ্ণার্ত সে হবে না কখনও।
36
কিন্তু আমি তোমাদের বলেছি তবু তোমরা আমাকে দেখেও বিশ্বাস কর নি।
37
পিতা যাদের আমাকে দেন তারাই আমার কাছে আসে এবং যে আমার কাছে আসে তাকে আমি কখনও পরিত্যাগ করব না।
38
স্বর্গ থেকে আমার আগমন আমার নিজের ইচ্ছাসিদ্ধির জন্য নয় কিন্তু যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তাঁরই ইচ্ছা পূরণের জন্য।
39
তিনি যাদের আমাকে দিয়েছেন তাদের একজনকেও আমি যেন না হারাই, কিন্তু শেষের দিনে তাদের সকলকে পুনরুত্থিত করি, এই-ই তাঁর ইচ্ছা।
40
আমার পিতার অভিপ্রায় এই যে ‘পুত্রের’ দিকে যে কেউ প্রত্যাশাভরে তাকাবে এবং তাঁকে বিশ্বাস করবে, সে-ই লাভ করবে শাশ্বত জীবন এবং আমি তাকে অন্তিম দিনে পুনরুত্থিত করব।
41
‘আমিই সেই খাদ্য, স্বর্গ থেকে যা নেমে এসেছে'-যীশুর এ কথায় ইহুদীদের মধ্যে অসন্তোষের গুঞ্জন শুরকু হয়ে গেল।
42
তারা বলল, এ তো যোষেফের ছেলে। ওর বাবা মাকে আমরা চিনি। ও কি করে বলে যে ‘আমি স্বর্গ থেকে নেমে এসেছি?’
43
যীশু বললেন, তোমরা এই আলোচনা থামাও।
44
আমার প্রেরণকর্তা পিতা যাকে আকর্ষণ করেন সে-ই শুধু আমার কাছে আসতে পারে। অন্তিম দিনে আমি তাকে পুনরুত্থিত করব।
45
নবীদের গ্রন্থে লেখা আছে ‘ঈশ্বরই তাদের সকলকে শিক্ষাদান করবেন।’ যারা পিতার কথা শুনেছে এবং তাঁর কাছে শিক্ষালাভ করেছে, তারাই আমার কাছে আসবে।
46
আমি বলি না যে পিতাকে কেউ দেখেছে। পিতার কাছ থেকে যাঁর আগমন, একমাত্র তিনিই দেখেছেন পিতাকে।
47
সত্যিই তোমাদের আমি বলছি, যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে সে-ই লাভ করবে অনন্ত জীবন।
48
আমিই জীবনদায়ী খাদ্য।
49
তোমাদের পূর্বপুরুষেরা মরুপ্রান্তরে মান্না ভোজন করেছিল। তারা আজ মৃত।
50
আমি বলছি স্বর্গ থেকে অবতীর্ণ সেই খাদ্যের কথা, যা ভোজন করলে কারও মৃত্যু হবে না।
51
আমিই স্বর্গ থেকে অবতীর্ণ সেই জীবনদায়ী খাদ্য। এই খাদ্য যে গ্রহণ করবে সে হবে চিরজীবী। যে খাদ্য আমি দান করব, তা হল আমারই দেহ। জগদ্বাসীর জীবনলাভের জন্যই আমি এই দেহ দান করব।
52
এ কথায় ইহুদীদের মধ্যে প্রচণ্ড বাকবিতণ্ডা শুরু হয়ে গেল। তারা বলতে লাগল, কি করে এই লোকটা বলে যে সে তার মাংস আমাদের খেতে দেবে?
53
যীশু তখন বললেনঃ আমি তোমাদের সত্য বলছি, মানবপুত্রের দেহ যদি তোমরা না গ্রহণ কর এবং যদি পান না কর তাঁর রক্ত, তাহলে তোমাদের মধ্যে জীবনের কোন অস্তিত্ব থাকবে না।
54
যে আমার দেহ ভোজন করে ও পান করে আমার রক্ত, সে লাভ করে অনন্ত জীবন এবং অন্তিম দিনে আমি তাকে করব পুনরুত্থিত।
55
আমার দেহই প্রকৃত খাদ্য, প্রকৃত পানীয় আমার রক্ত।
56
যে আমার দেহ ভোজন করে এবং পান করে আমার রক্ত সে নিরবচ্ছিন্নভাবে আমারই সত্তায় লীন হয়ে থাকে এবং আমি তার মধ্যে বিরাজিত থাকি।
57
জীবনময় পিতা আমাকে পাঠিয়েছেন। পিতার জন্যই যেমন আমার জীবন ধারণ, ঠিক তেমনি যে আমায় খাদ্যরূপে গ্রহণ করবে সে আমারই জন্য জীবন ধারণ করবে।
58
এ-ই হচ্ছে স্বর্গ থেকে অবতীর্ণ খাদ্য। আমাদের পিতৃপুরুষেরা যে খাদ্য গ্রহণ করেছিলেন, এ তা নয়। তাঁরা আজ মৃত কিন্তু এই খাদ্য যে গ্রহণ করবে সে লাভ করবে অনন্ত জীবন।
59
কফরনাউমে ইহুদীদের সমাজভবনে উপদেশ দেবার সময় যীশু এই কথাগুলি বলছিলেন।
60
যীশুর শিষ্যদের অনেকেই তাঁর এ কথা শুনে বলে উঠল, এ সব দুর্বোধ্য কথা। কার সাধ্য এর মর্ম বোঝে?
61
যীশু বুঝতে পারলেন যে তাঁর শিষ্যেরা তাঁর কথায় বিক্ষুব্ধ হয়ে গুঞ্জন করছে। তিনি তাদের বললেন, এই কথাতেই তোমরা আঘাত পেলে?
62
তাহলে মানবপুত্রকে তাঁর পূর্ববর্তীস্থানে প্রত্যাবর্তন করতে দেখলে কি করবে?
63
একমাত্র ঈশ্বরের আত্মাই জীবনদায়ী। মানুষের শক্তির কোন সার্থকতা নেই। আমার মুখনিঃসৃত বাণীই একাধারে আত্মা ও জীবন।
64
তবু তোমরা কেউ কেউ তা বিশ্বাস কর না। (কারা তাঁকে বিশ্বাস করে না এবং কে তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে, সে কথা যীশু প্রথম থেকেই জানতেন।)
65
তিনি বললেন, সেই জন্যই আমি তোমাদের বলছি, পিতার অনুগ্রহ ছাড়া কেউ আমার কাছে আসতে পারে না।
66
এরপর যীশুর শিষ্যদের মধ্যে অনেকেই তাঁকে ত্যাগ করল, তাঁর সঙ্গে তারা আর মেলামেশা করত না।
67
যীশু তখন তাঁর বারোজন শিষ্যকে জিজ্ঞাসা করবেন, তোমরাও কি আমাকে ত্যাগ করতে চাও?
68
শিমোন পিতর বললেন, প্রভু কার কাছে আমরা যাব? আপনার কাছেই আছে শাশ্বতজীবনের বাণী।
69
আমরা বিশ্বাস করি এবং জানি যে আপনিই ঈশ্বরের সেই পরম পবিত্র পুরুষ।
70
যীশু বললেন, তোমাদের বারোজনকে আমিই মনোনীত করেছি, তাই না? কিন্তু তোমাদেরই মধ্যে রয়েছে একজন শয়তান।
71
ইষ্করিয়তীয় শিমোনের পুত্র যিহুদার সম্বন্ধে তিনি বললেন, একথা। বারোজন শিষ্যের অন্যতম এই ব্যক্তিই যীশুর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল।।
← Chapter 5
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 7 →
All chapters:
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
13
14
15
16
17
18
19
20
21