bible
ra
🌐 Language
English
Español
Français
Deutsch
Português
Italiano
Nederlands
Русский
中文
日本語
한국어
العربية
Türkçe
Tiếng Việt
ไทย
Indonesia
All Languages
Home
/
Bengali
/
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
/
John 8
John 8
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
← Chapter 7
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 9 →
1
যীশুও চলে গেলেন অলিভ পাহাড়ের দিকে। পরের দিন সকালবেলায় যীশু আবারল মন্দিরে এলেন।
2
লোকেরা তাঁর চারিদিকে এসে জড়ো হল। যীশু এক জায়গায় বসে তাদের উপদেশ দিতে লাগলেন।
3
এমন সময় শাস্ত্রবিদ এবং ফরিশীরা ব্যভিচারের দায়ে অভিযুক্ত এক নারীকে সেখানে নিয়ে এলেন।
4
সবার মাঝখানে তাকে দাঁড় করিয়ে যীশুকে বললেন, গুরুদেব, এই নারী ব্যভিচারে রত অবস্থায় ধরা পড়েছে।
5
মোশির অনুশাসনে এই ধরণের নারীদের প্রস্তরাঘাতে বধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আপনি এ সম্বন্ধে কি বলেন?
6
যীশুর বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ খাড়া করার উদ্দেশ্যে তাঁরা যীশুকে এই প্রশ্ন করেছিলেন। যীশু হেঁট হয়ে আঙুল দিয়ে মাটিতে লিখতে লাগলেন।
7
তাঁরা কিন্তু সমানে তাঁকে প্রশ্ন করে চললেন। যীশু তখন মাথা তুলে তাঁদের বললেন, তোমাদের মধ্যে যে কোন পাপ করে নি সে-ই প্রথমে একে পাথর মারুক।
8
তিনি আবার হেঁট হয়ে মাটিতে লিখতে লাগলেন।
9
তাঁর এই কথা শুনে সবাই একে একে সরে পড়ল। প্রবীণ নেতারাই গেলেন আগে। সেখানে বসে রইলেন একা যীশু আর তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে রইল সেই নারী।
10
যীশু মাথা তুলে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ওরা কোথায়? কেউ তোমায় শাস্তি দেয় নি?
11
সে বলল, কেউ না, প্রভু। যীশু বললেন, আমিও তোমাকে শাস্তি দেব না। যাও, আর কখনও পাপ করো না। ]
12
যীশু আবার লোকদের সম্বোধন করে বললেন, আমি জগতের জ্যোতি। যে আমার অনুসরণ করে সে অন্ধকারে ঘুরে বেড়াবে না। আমার কোন অনুসারী অন্ধকারে ঘুরে বেড়াবে না, সে লাভ করবে জীবনের জ্যোতি।
13
ফরিশীরা তাঁকে বললেন, তোমার সাক্ষী তুমি নিজেই। কাজেই তোমার এই সাক্ষ্য যথার্থ নয়।
14
যীশু তাদের উত্তর দিলেন, আমার সাক্ষী আমি নিজে হলেও আমার সাক্ষ্য যথার্থ কারণ আমি জানি কোথা থেকে আমার আগমন এবং কোথায়ই বা হবে আমার প্রত্যাবর্তন। কিন্তু তোমরা জান না কোথা থেকে আমি এসেছি এবং কোথায়ই বা ফিরে যাব।
15
জাগতিক মানদণ্ডে বিচার করি না।
16
যদি বিচার করি তাহলে আমার সে বিচার যথার্থ কারণ আমি একা নই। পিতা, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তিনি স্বয়ং আমার সঙ্গেই আছেন।
17
তোমাদের বিধান-শাস্ত্রে লেখা আছে যে, দুজনের সাক্ষ্য এক হলে, তা হবে যথার্থ।
18
আমি আমার স্বপক্ষে সাক্ষ্য দিচ্ছি এবং আমার পিতা, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, তিনি আমার অপর সাক্ষী।
19
তারা তাঁকে জিজ্ঞাসা করল, কোথায় তোমার পিতা? যীশু বললেন, তোমরা না জান আমাকে, না জান আমার পিতাকে। যদি আমাকে জানতে তাহলে আমার পিতাকেও জানতে।
20
মন্দিরের দান উৎসর্গের কক্ষে বসে কোষাগারে শিক্ষা দেওয়ার সময় এই কথাগুলি যীশু বলেছিলেন। কিন্তু তা হলেও কেউ তাঁকে গ্রেপ্তার করল না। কারণ তখনও তাঁর নির্ধারিত লগ্ন উপস্থিত হয় নি।
21
যীশু তাদের আবার বললেন, আমি প্রত্যাবর্তন করছি। তোমরা আমার অনুসন্ধান করবে কিন্তু নিজেদের পাপেই তোমাদের মরণ হবে। আমি যেখানে যাচ্ছি, তোমরা সেখানে যেতে পার না।
22
এ কথা শুনে ইহুদী নেতৃবৃন্দ বলল, লোকটা কি আত্মহত্যা করবে? নইলে কেন বলছ, ‘আমি যেখানে যাচ্ছি, তোমরা সেখানে যেতে পার না।’
23
যীশু বলতে লাগলেন, তোমরা এই মর্ত্যলোকের মানুষ কিন্তু আমি ঊর্ধ্বলোকেরয এই জগতই তোমাদের আবাস, আমার নয়।
24
সেই জন্যই তোমাদের আমি বলছি যে নিজেদের পাপেই তোমরা মরবে। আমার এ আত্মপরিচয় যদি তোমরা বিশ্বাস না কর তাহলে নিজেদের পাপেই তোমরা মরবে।
25
তারা তাঁকে জিজ্ঞাসা করল, তুমি কে? যীশু উত্তর দিলেন,,এ কথা তো প্রথম থেকেই আমি তোমাদের বলছি।
26
তোমাদের সম্বন্ধে আমার বলার ও বিচার করার অনেক কিছুই আছে। কিন্তু যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তিনি সত্য। তাঁর কাছ থেকে আমি যা শুনেছি, তাই-ই জগতের সামনে প্রকাশ করছি।
27
যীশু যে তাদের কাছে পিতার কথা বলেছেন, সে কথা তারা বুঝতে পারল না।
28
যীশু তাই তাদের বললেন, যখন তোমরা মানবপুত্রকে উচ্চে স্থাপন করবে তখনই বুঝতে পারবে আমার স্বরূপ। আমি নিজে থেকে কিছুই করি না। পিতা আমাকে যে শিক্ষা দিয়েছেন, আমি তাই-ই বলি।
29
আমার প্রেরণকর্তা আমার সঙ্গেই আছেন, আমাকে একলা ছেড়ে দেন নি কারণ আমি সব সময় তাঁর প্রীতিজনক কাজই করি।
30
তাঁর এই সমস্ত কথা শুনে অনেকেই তাঁকে বিশ্বাস করল।
31
ইহুদীদের মধ্যে যারা তাঁকে বিশ্বাস করল, যীশু তাদের বললেন, যদি তোমরা আমার উপদেশ পালন কর, তাহলেই তোমরা হবে আমার প্রকৃত শিষ্য।
32
তখনই তোমরা সত্যের স্বরূপ জ্ঞাত হবে এবং সেই সত্যই তোমাদের মুক্ত করবে।
33
তারা বলল, আমরা অব্রাহামের বংশধর। আমরা কখনও কারও অধীন ছিলাম না। তাহলে তুমি কি করে বলছ, ‘তোমরা মুক্ত হবে'?
34
যীশু তাদের বললেন, তোমাদের আমি সত্যই বলছি, পাপ যে করবে সে-ই পাপের ক্রীতদাস।
35
পরিবারে ক্রীতদাসের স্থান চিরস্থায়ী নয় কিন্তু পুত্রের স্থান চিরকালের।
36
তাই পুত্র যদি তোমাদের মুক্তি দান করেন তাহলে তোমরা হবে প্রকৃতই মুক্ত।
37
তোমরা যে অব্রাহামের বংশধর তা আমি জানি। কিন্তু তা সত্ত্বেও তোমরা আমাকে হত্যা করতে উদ্যত হয়েছ কারণ আমার উপদেশ তোমাদের হৃদয়ে স্থান পায় নি।
38
আমার পিতার কাছে যা আমি দেখেছি সেগুলিই আমি বলছি। আর তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষের কাছে যা শুনেছ, তাই করছ।
39
তারা উত্তর দিল, অব্রাহাম আমাদের পিতা। যীশু বললেন, তোমরা যদি অব্রাহামের সন্তান হতে তাহলে অব্রাহাম যা করেছিলেন তোমরাও তাই-ই করতে।
40
কিন্তু ঈশ্বরের কাছে যা আমি শুনেছি, সেই সত্য প্রকাশ করার দরুণ তোমরা আমাকে হত্যা করতে উদ্যত হয়েছ। অব্রাহাম কিন্তু এমন কাজ করেন নি।
41
তোমাদের জন্মদাতা যে কাজ করত তোমরাও সেই কাজই করে চলেছ।
42
তারা বলল, আমরা জারজ সন্তান নই। ঈশ্বর একমাত্র ঈশ্বরই আমাদের পিতা। যীশু বললেন, ঈশ্বর যদি তোমাদের পিতা হতেন, তাহলে আমায় তোমরা ভালবাসতে। কারণ ঈশ্বরই আমার সত্তার উৎস, তাঁর কাছ থেকেই আমি এসেছি। নিজের ইচ্ছায় আমি আসি নি, তিনিই পাঠিয়েছেন আমাকে।
43
আমার কথা কেন বুঝতে পারছ না তোমরা? কারণ আমার এ আত্মপ্রকাশ তোমাদের উপলব্ধির অতীত।
44
শয়তানই তোমাদের জন্মদাতার অভিসন্ধি পূরণ করাই তোমাদের অভিপ্রায়। প্রথম থেকেই সে হত্যাকারী। সে সত্যে প্রতিষ্ঠিত নয়। সত্যের লেশ মাত্র নেই তাই অন্তরে। মিথ্যা বলাই তার স্বভাব। সে মিথ্যাবাদী, মিথ্যার জন্মদাতা।
45
কিন্তু আমি সত্য বলছি, সেইজন্য তোমরা আমাকে বিশ্বাস কর না।
46
তোমাদের মধ্যে কে আমাকে পাপী বলে প্রমাণ করতে পার? আমি যা বলি তা যদি সত্য হয় তা হলে কেন তোমরা আমাকে বিশ্বাস কর না?
47
ঈশ্বর থেকে যে জাত, সে ঈশ্বরের আদেশ পালন করে। তোমরা যে পালন করছ না তার কারণ তোমরা ঈশ্বরের সন্তান নও।
48
ইহুদী নেতৃবৃন্দ যীশুকে বলল, আমরা যে বলি, তুমি অন্ত্যজ শমরীয় এবং অপদেবতাগ্রস্ত-এ কথা ঠিকই।
49
যীশু বললেন, আমি অপদেবতাগ্রস্ত নই। আমি পিতাকে গৌরবান্বিত করছি আর তোমরা করছ আমার অবমাননা।
50
আমি আত্মগৌরবের আকাঙ্ক্ষী নই, কিন্তু একজন আছেন যিনি আমার গৌরব চান, তিনিই এর বিচার করবেন।
51
সত্যই আমি তোমাদের বলছি, যদি কেউ আমার উপদেশ পালন করে, সে কখনও মৃত্যু দর্শন করবে না।
52
ইহুদীরা তাকে বলল, এবার আমরা নিশ্চিতভাবে জানলাম যে তুমি অপদেবতাগ্রস্ত। অব্রাহাম মৃত, নবীরাও মৃত। তা সত্ত্বেও তুমি বলছ যে ‘যদি কেউ আমার উপদেশ পালন করে কখনও সে মৃত্যুদর্শন করবে না।’
53
তাহলে তুমি কি আমাদের স্বর্গত পিতা অব্রাহামের চেয়েও মহান? নবীরাও তো মারা গেছেন। তুমি নিজেকে কি মনে কর?
54
যীশু উত্তর দিলেন, আমি যদি নিজেকে মহিমান্বিত করি তাহলে আমার সে মহিমা অলীক। আমাকে মহিমান্বিত করেন পিতা, যাঁকে তোমরা বল, ‘তিনি আমাদের আরাধ্য ঈশ্বর’।
55
যদিও তোমরা তাঁকে জান না, আমি তাঁকে জানি। যদি আমি বলি যে তাঁকে আমি জানি না তাহলে আমি তোমাদেরই মত মিথ্যাবাদী হব। তাঁকে আমি জানি ও তাঁরই নির্দেশ পালন করি।
56
তোমাদের পিতা অব্রাহাম আমার আগমন কাল দর্শনের প্রত্যাশায় আনন্দে উল্লসিত হয়েছিলেন। তিনি তা দর্শন করেছিলেন এবং পরম আনন্দ লাভ করেছিলেন।
57
ইহুদীরা প্রতিবাদ করে বলল, তোমার বয়স তো পঞ্চাশ বছরও হয় নি, তুমি কি করকে অব্রাহামকে দেখলে?
58
যীশু বললেন, আমি সত্য বলছি, অব্রাহামের জন্মের পূর্ব থেকেই আমি আছি।
59
তারা তখন তাঁকে মারধর জন্য পাথর কুড়াতে লাগল কিন্তু যীশু তাদের অগোচরে মন্দির থেকে চলে গেলেন।
← Chapter 7
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 9 →
All chapters:
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
13
14
15
16
17
18
19
20
21