bible
ra
🌐 Language
English
Español
Français
Deutsch
Português
Italiano
Nederlands
Русский
中文
日本語
한국어
العربية
Türkçe
Tiếng Việt
ไทย
Indonesia
All Languages
Home
/
Bengali
/
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
/
Luke 1
Luke 1
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 22
Chapter 23
Chapter 24
Chapter 2 →
1
মহামান্য থিয়ফিল! আমাদের সময় যে সমস্ত ঘটনা ঘটে গেছে, অনেকেই করেছেন।
2
প্রত্যক্ষদর্শীরা এবং সুসমাচার প্রচারকেরা প্রথম থেকে যে ঐতিহ্য প্রবর্তন করে গেছেন, তারই অনুসরণে তাঁরা এইগুলি লিখেছেন।
3
আদ্যোপান্ত সমস্ত ঘটনার বিবরণ পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে অনুসন্ধান করে এ সম্পর্কে একটি আনুপূর্বিক বিবরণ আপনার জন্য রচনা করা আমি সঙ্গত মনে করলাম,
4
যেন যে বিষয়ে আপনি শিক্ষালাভ করেছেন, সেই সত্য সম্বন্ধে পূর্ণজ্ঞান লাভ করতে পারেন।
5
যিহুদীয়া দেশের রাজা হেরোদের রাজত্বকালে পুরোহিত অবিয়ের সেবক দলে সখরিয় নামে একজন পুরোহিত ছিলেন। তাঁর স্ত্রীর নাম ছিল ইলিশাবেত। ইনিও ছিলেন পুরোহিত-বংশের কন্যা।
6
এঁরা দুজনেই ঈশ্বরের দৃষ্টিতে শুদ্ধভাবে জীবনযাপন করতেন এবং প্রভুর সমস্ত আদেশ ও বিধান নিখুঁতভাবে মেনে চলতেন।
7
তাঁদের কোন সন্তান ছিল না কারণ ইলিশাবেত ছিলেন বন্ধ্যা। তাছাড়া তাঁরা দুজনেই খুব বৃদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন।
8
একদিন সখরিয় তাঁর পালা অনুযায়ী মন্দিরে পরিচর্যার কাজ করছিলেন।
9
পুরোহিতদের প্রথা অনুসারে সেই সময় প্রভুর মন্দিরে বেদীর সামনে ধূপ জ্বালাবার জন্য তিনিই মনোনীত হয়েছিলেন। তিনি যখন প্রভুর মন্দিরের মধ্যে ধূপ জ্বালাতে গেলেন,
10
তখন বাইরে জনতা ছিল প্রার্থনায় রত।
11
এমন সময় বেদীর ডান দিকে, যেখানে ধূপ জ্বলছিল, ঠিক সেইখানে প্রভুর এক দূত আবির্ভূত হলেন।
12
তাঁকে দেখে সখরিয় ভয়ে ও বিস্ময়ে বিহ্বল হয়ে পড়লেন।
13
সেই দূত তাঁকে বললেন, ভয় পেয়ো না, সখরিয়। ঈশ্বর তোমার মিনতি শুনেছেন, তোমার স্ত্রী ইলিশাবেত একটি পুত্রের জননী হবে। তুমি তার নাম রেখো যোহন।
14
এর ফলে তুমি পরম আনন্দ লাভ করবে এবং সে জন্মগ্রহণ করলে আরও অনেকেই আনন্দিত হবে।
15
ঈশ্বরের দৃষ্টিতে সে হবে মহান। কোন প্রকার সুরা বা উত্তেজক পানীয় তাকে পান করতে দেবে না। কারণ মাতৃগর্ভ থেকেই পবিত্র আত্মা তার উপরে অধিষ্ঠান করবেন।
16
ইসরায়েল জাতির অনেককেই সে তাদের আরাধ্য ঈশ্বর প্রভু পরমেশ্বরের কাছে পিরিয়ে আনবে।
17
সে প্রভুর অগ্রদূতরূপে নবী এলিয়ের মত ক্ষমতাসম্পন্ন হয়ে ঈশ্বরের কাজ করবে। পিতা ও সন্তানদের ফিরিয়ে এনে সে আবার তাদের মধ্যে মিলন ঘটিয়ে দেবে এবং বিপথগামী সমস্ত লোককে ধর্মস্থানে উদ্বুদ্ধ করবে। এইভাবে সে প্রভুর সমস্ত প্রজাকে প্রভুর জন্য প্রস্তুত করবে।
18
সখরিয় দূতকে বললেন, এ কথা যে সত্য তা আমি কেমন করে বুঝব? কারণ আমি বৃদ্ধ, আমার স্ত্রীরও অনেক বয়স হয়েছে। তখন সেই দূত বললেন,
19
আমি ঈশ্বরের সেবক গাব্রিয়েল, তিনিই তোমাকে এই শুভ সংবাদ জানাবার জন্য আমাকে পাঠিয়েছেন।
20
কিন্তু এই কথা যে উপযুক্ত সময়ে নিশ্চিতভাবে সফল হবেই, তা তচুমি বিশ্বাস করলে না। তাই এই ঘটনা না ঘটা পর্যন্ত তুমি বোবা হয়ে থাকবে।
21
এদিকে বাইরে প্রতীক্ষারত জনতা অবাক হয়ে ভাবছিল, কেন সখরিয় আজ মন্দিরের মধ্যে এত দেরী করছেন?
22
বাইরে বেরিয়ে এসে সখরিয় কোন কথা উচ্চারণ করতে পারলেন না। তিনি ইসারায় সকলকে তাঁর বক্তব্য বোঝাতে লাগলেন। জনতা তখন বুঝতে পারল যে, মন্দিরের মধ্যে তিনি কোন দিব্যদর্শন লাভ করেছেন।
23
মন্দিরে তাঁর পরিচর্যার পালা শেষ হয়ে গেলে সখরিয় বাড়িতে ফিরে গেলেন।
24
কিছুদিন পর তাঁর স্ত্রী ইলিশাবেত অন্তঃসত্ত্বা হলেন এবং পাঁচ মাস প্রকাশ্যে কোথাও বার হলেন না।
25
তিনি মনে মনে বললেন, এতকাল পরে প্রভু আমার প্রতি কৃপা করলেন। লোকসমাজে তিনি আমার অপবাদ দূর করলেন।
26
সখরিয়ের দিব্যদর্শন লাভের ছয়মাস পরে ঈশ্বর তাঁর দূত গাব্রিয়েলকে গালীল প্রদেশের নাসরত নামে এক নগরে প্রেরণ করলেন।
27
এবার তিনি সংবাদ নিয়ে গেলন এক কুমারী তরুণীর কাছে, নাম তাঁর মরিয়ম। দাউদ-কুলের যোষেফ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর বাগদান সম্পন্ন হয়েছিল।
28
দূত গাব্রিয়েল তাঁর কাছে গিয়এ তাঁকে বললেন, শুভমস্তু অনুগৃহীতে, কল্যাণ হোক তোমার, প্রভু তোমার সঙ্গে আছেন!
29
দূতের কথা শুনে মরিয়ম বিচলিত হয়ে পড়লেন। তিনি গভীরভাবে চিন্তা করতে লাগলেন, এ কমন সম্ভাষণ! কি এর অর্থ!
30
দূত তাঁকে বললেন, ভয় পেয়ো না মরিয়ম, ঈশ্বরের অনুগ্রহ তুমি লাভ করেছ।
31
একটি পুত্রের জননী হবে তুমি, তাঁর নাম রেখো যীশু।
32
তিনি হবেন মহান। পরাৎপর ঈশ্বরের পুত্র নামে আখ্যাত হবেন তিনি। প্রভু ঈশ্বর তাঁকে তাঁর পূর্বপুরুষ রাজা দাউদের সিংহাসনের অধিকারী করবেন এবং
33
যাকোব কুলের উপর তিনি চিরকাল রাজত্ব করবেন। তাঁর রাজত্ব কখনও শেষ হবে না।
34
মরিয়ম তখন দূতকে বললেন, কেমন করে এ সম্ভব হবে? আমি যে কুমারী।
35
দূত বললেল, পবিত্র আত্মা তোমার উপর অধিষ্ঠিত হবেন। পরমেশ্বরের শক্তিতে তুমি হবে পরিবৃতা। তোমার গর্ভে যে পবিত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করবেন, তিনি ঈশ্বরের পুত্র বলে অভিহিত হবেন।
36
তোমার আত্মীয় ইলিশাবেত, সকলে যাকে বন্ধ্যা বলে জানে, সেও এই বৃদ্ধ বয়সে সন্তানসম্ভবা হয়েছে —আজ ছয় মাস সে গর্ভধারণ করছে।
37
কোন কাজই ঈশ্বরের অসাধ্য নয়।
38
মরিয়ম বললেন, আমি প্রভুর দাসী, আপনার বাক্য আমার জীবনে সফল হোক। তারপর দূত চলে গেলেন।
39
কিছুদিন পর মরিয়ম যিহুদীয়ার এক পাহাড়ী অঞ্চলের একটি শহরে গেলেন।
40
সেই শহরে ছিল সখরিয়ের বাড়ি। সেখানে গিয়ে মরিয়ম ইলিশাবতকে অভিনন্দন জানালেন।
41
মরিয়মের অভিনন্দন শোনার সঙ্গে সঙ্গে ইলিশাবেতের গর্ভের সন্তানটি চঞ্চল হয়ে উঠল। ইলিশাবেত পবিত্র আত্মায় আবিষ্ট হয়ে,
42
উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলে উঠলেন, নারী সমাজে তুমিই ধন্যা, ধন্য তোমার গর্ভের সন্তান।
43
কি সৌভাগ্য আমার। আমার প্রভুর জননী আমাকে দেখতে এসেছে!
44
তোমার অভিনন্দন শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমার গর্ভের শিশুটি আনন্দে নেচে উঠল।
45
ধন্য তুমি, কারণ তুমি বিশ্বাস করেছিলে যে প্রভুর বাক্য তোমার জীবনে সুনিশ্চিতভাবে সফল হবে।
46
মরিয়ম তখন নিবেদন করলেনঃ হৃদয় আমার প্রভুর প্রশংসায় মুখর,
47
মুক্তিদাতা প্রভুতেই আমার চিত্তের উল্লাস।
48
কারণ তিনি অনুগ্রহ করেছেন তাঁর এই নগণ্যা দাসীর প্রতি। আজ থেকে যুগে যুগে সকলেই আমাকে বলবে ধন্যা।
49
যিনি মহাপরাক্রান্ত তিনিই সাধন করেছেন আমার জন্য মহৎ কর্ম, পবিত্র তাঁর নাম।
50
যারা তাঁকে সম্ভ্রম করে, যুগ পর্যায়ে যুগে যুগে তাদেরই উপর বর্ষিত হয় তাঁর করুণা।
51
অহঙ্কারে হৃদয় যাদের আচ্ছন্ন, তিনি আপন পরাক্রান্ত বাহুর বিক্রমে তাদের করেছেন ছত্রভঙ্গ।
52
পরাক্রান্ত নৃপতিদের তিনি করেছেন সিংহাসনচ্যূত, উন্নত করেছেন দীনহীনদের।
53
তিনি ক্ষুধিতজনকে তৃপ্ত করেছেন উত্তম দ্রব্যে, বিত্তবানকে বিদায় দিয়েছেন রিক্ত হস্তে।
54
আমাদের পিতৃপুরুষদের কাছে, অব্রাহাম ও তাঁর বংশের প্রতি চিরদিন যে করুণা প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি, সেই প্রতিশ্রুতি স্মরণ করে তিনি নিজ দাস ইসরায়েলের সহায়তা করেছেন।
56
মরিয়ম ইলিশাবেতের কাছে তিন মাস কাটিয়ে বাড়িতে ফিরে গেলেন।
57
ইলিশাবেতের প্রসবকাল পূর্ণ হলে, তাঁর একটি পুত্র ভূমিষ্ঠ হল।
58
তাঁর প্রতিবেসী ও আত্মীয়-স্বজনেরা তাঁর প্রতি প্রভুর এই মহান অনুগ্রহের কথা শুনে খুবই আনন্দিত হল।
59
অষ্টম দিনে শিশুটির সুন্নত অনুষ্ঠানে তাঁরা সকলে এলেন এবং তার পিতার নাম অনুসারে তারও নাম সখরিয় রাখাই ঠিক করলেন।
60
কিন্তু তার মা বললেন, না, এর নাম রাখা হবে যোহন।
61
তখন তাঁরা বললেন, আপনার আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে কারও এরকম নাম নেই।
62
এই কথা বলে তাঁরা শিশুর পিতাকে ইঙ্গিতে জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি কি নাম রাখতে চান।
63
তিনি একটি লিপিফলক চেয়ে নিয়ে লিখলেন, এর নাম যোহন। এতে সকলে অবাক হয়ে গেল।
64
সঙ্গে সঙ্গে সখরিয়ের মুখ খুলে গেল, জিভের আড়ষ্টতা দূর হয়ে গেল। তিনি ঈশ্বরের প্রসংসায় মুখর হয়ে উঠলেন।
65
তাঁর প্রতিবেশরীরা এই ব্যাপারে বেশ ভয় পেয়ে গেল এবং এই ঘটনার কথা যিহুদীয়ার পাহাড়ী অঞ্চলের সর্বত্র, লোকের আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়াল।
66
যত লোক এই ঘটনার কথা শুনেছিল, তারা সকলেই মনে মনে ভাবতে লাগল এবং বলাবলি করতে লাগল, ভবিষ্যতে এই শিশুটি কি হবে? কারণ তারা বুঝতে পেরেছিল যে প্রভু স্বয়ং এর সঙ্গে আছেন।
67
শিশুটির পিতা সখরিয় পবিত্র আত্মার আবেশে স্তুতি করে বললেনঃ
68
“ধন্য প্রবু ইসরায়েলের ঈশ্বর, তিনি নিজ প্রজাদের সহায় হয়েছেন, মুক্ত করেছেন তাদের।
69
অতীতে পবিত্র নবীদের মাধ্যমে যে অঙ্গীকার তিনি করেছিলেন সেই অনুযায়ী।
70
নিজ দাস দাউদের কুলে আমাদের জন্য শক্তিমান এক ত্রাণকর্তাকে উৎপন্ন করেছেন।
71
যেন আমরা উদ্ধার পাই শত্রুর কবল থেকে, যারা আমাদের বিদ্বেষ করে, তাদের কবল থেকে।
72
আমাদের সঙ্গে তিনি তাঁর পবিত্র সন্ধিচুক্তি স্মরণে রাখবেন, করুণা প্রদর্শন করবেন আমাদের পিতৃপুরুষদের প্রতি, এই ছিল তাঁর প্রতিশ্রুতি।
73
আমাদের পিতৃপুরুষ অব্রাহামের কাছে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং শপথ করেছিলেনঃ শত্রুর কবল থেকে উদ্ধার করবেন তিনি আমাদের। যেন আমরা তাঁর আরাধনা করতে পারি নির্ভয়ে, আজীবন যেন যাপন করতে পারি পবিত্র জীবন ন্যায়ের পথে তাঁর সাক্ষাতে।
76
বৎস আমার, পরাৎপরের নবী রূপে আখ্যাত হবে তুমি, প্রভুর অগ্রগামী হয়ে তুমি প্রস্তুত করবে তাঁর পথ,
77
তুমি ঘোষণা করবে তাঁর প্রজাদের কাছে এই জ্ঞানের কথা: পাপ মোচনের পথে তারা লাভ করবে পরিত্রাণ।
78
আমাদের ঈশ্বরের কৃপায় আমাদের উপরে হবে স্বর্গীয় জ্যোতির অভ্যুদয়।
79
যারা বাস করছে মৃত্যুর ছায়ায়, হতাশার অন্ধকারে, তাদের মাঝে তিনি বিতরণ করবেন দিব্যজ্যোতি, চালিত করবেন আমাদের পদক্ষেপ শান্তির পথে।”
80
শিশুটি দিনে দিনে বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আত্মিক শক্তিতে শক্তিমান হয়ে উঠতে লাগল এবং ইসরায়েল জাতির সামনে আত্মপ্রকাশের উপযুক্ত সময় না আসা পর্যন্ত বিজন প্রান্তরে বাস করতে লাগল।
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 22
Chapter 23
Chapter 24
Chapter 2 →
All chapters:
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
13
14
15
16
17
18
19
20
21
22
23
24