bible
ra
🌐 Language
English
Español
Français
Deutsch
Português
Italiano
Nederlands
Русский
中文
日本語
한국어
العربية
Türkçe
Tiếng Việt
ไทย
Indonesia
All Languages
Home
/
Bengali
/
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
/
Luke 22
Luke 22
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
← Chapter 21
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 22
Chapter 23
Chapter 24
Chapter 23 →
1
খামিরবিহীন রুটির পর্ব এগিয়ে এল —একে বলা হত জাতীয় মুক্তি উৎসব।
2
পুরোহিতদের নেতৃবৃন্দ ও শাস্ত্রবিদরা জনতাকে ভয় করতেন বলে কৌশলে যীশুকে হত্যা করার উপায় খুঁজতে লাগলেন।
3
বারোজন শিষ্যের অন্যতম ঈষ্কারিয়োত নামে আখ্যাত যিহুদার উপর তখন শয়তান ভর করল।
4
সে পুরোহিতদের নেতৃবৃন্দ ও শাসনকর্তাদের কাছে গিয়ে কি করে যীশুকে বিশ্বাসঘাতকতা করে ধরিয়ে দেবে, তাই নিয়ে পরামর্শ করল।
5
তাঁরা খুশি হয়ে তার সঙ্গে টাকা দেবার চুক্তি করলেন।
6
তাতে সে রাজী হল এবং জনতার অনুপস্থিতিতে তাঁকে ধরিয়ে দেবার সুযোগ খুঁজতে লাগল।
7
খামিরবিহীন রুটির পর্বের দিন এসে গেল। এই দিনে জাতীয় মুক্তির স্মরণে মেষশাবক বলি দিতে হত।
8
তাই যীশু পিতর ও যোহনকে এই কথা বলে পাঠিয়ে দিলেন, যাও আমাদের জন্য মুক্তি উৎসবের ভোজের আয়োজন কর।
9
তাঁরা তাঁকে বললেন, কোথায় আমরা আয়োজন করব, আপনি কি বলেন?
10
যীশু তাঁদের বললেন, দেখ, নগরে ঢুকেই দেখতে পাবে, একটি লোক কলসীতে করে জল নিয়ে যাচ্ছে। যে বাড়িতে সে ঢুকবে, তাকে অনুসরণ করে সেখানে যাও, গিয়ে বাড়ির কর্তাকে বল যে, গুরুদেব আপনাকে বলে পাঠিয়েছেন, অতিথিদের জন্য নির্দিষ্ট ঘরটি দেখিয়ে দিতে, সেখানে তিনি তাঁর শিষ্যদের নিয়ে মুক্তি উৎসব পালন করবেন।
12
তিনি তোমাদের ওপরতলায় একটি বড় সাজানো ঘর দেখিয়ে দেবেন, সেখানে তোমরা আয়োজন করো।
13
তাঁরা গিয়ে যীশুর কথামত সব দেখতে পেলেন এবং সেখানে উৎসবের আয়োজন করলেন।
14
নির্দিষ্ট সময়ে যীশু তাঁর প্রেরিত শিষ্যদের নিয়ে আহারে বসলেন।
15
তিনি তাঁদের বললেন, ক্লেশ ভোগ করার আগে তোমাদের সঙ্গে তারণ উৎসবের ভোজে অংশ গ্রহণ করার একান্ত ইচ্ছা ছিল আমার,
16
কারণ আমি তোমাদের বলছি ঈশ্বরের রাজ্যে এই মুক্তি ভোজের মর্ম যতদিন না উদ্ঘাটিত হয়, ততদিন আমি আর এই ভোজ গ্রহণ করব না।
17
তিনি তারপর পানপাত্রটি হাতে নিয়ে ধন্যবাদ দেবার পর বললেন, এই নাও, নিজেদের মধ্যে ভাগ করে পরিবেশন কর।
18
আমি তোমাদের বলছি, আজ থেকে যতদিন না ঈশ্বরের রাজ্য প্রবর্তিত হয় ততদিন আমি দ্রাক্ষাফলের রস আর পান করব না।
19
তারপর তিনি রুটি নিয়ে ধন্যবাদ দেবার পর সেগুলি টুকরো টুকরো করে তাঁদের দিয়ে বললেন, ‘এই হল আমার দেহ যা তোমাদের দেওয়া হল। আমার স্মরণে এইরূপ করো।
20
খাওয়া হয়ে গেলে সেইভাবে তিনি পানপাত্রটি নিয়ে বললেনঃ এই পানপাত্র তোমাদের জন্য নিঃশেষে ঢেলে দেওয়া হল। এই হল আমার রক্তে প্রতিষ্ঠিত নতুন সম্বন্ধের প্রতীক।
21
কিন্তু দেখ যে আমাকে ধরিয়ে দেবে, সেও আমারই সঙ্গে এই ভোজে অংশ গ্রহণ করছে।
22
নির্দিষ্ট পথেই মানবপুত্র এগিয়ে যাবেন। কিন্তু হায়! দুর্ভাগ্য সে, যে তাঁকে বিশ্বাসঘাতকতা করে ধরিয়ে দেবে।
23
শিষ্যেরা তখন নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতে লাগলেন, তাঁদের মধ্যে কে এই কাজ করতে পারে!
24
শিষ্যদের মধ্যে কে বড়, তাই নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিতর্ক উপস্থিত হল।
25
যীশু তাঁদের বললেন, এই জগতের অন্যান্য জাতির রাজারাই তাঁদের প্রজাদের উপর প্রভুত্ব করেন এবং তাঁদের উপর যাঁরা কর্তৃত্ব করেন, তাঁরাই হিতৈষী আখ্যা লাভ করেন।
26
কিন্তু তোমরা সেরকম হয়ো না। বরং তোমাদের মধ্যে যে বড় তাকে হতে হবে ছোট এবং নেতাকে হতে হবে সেবক।
27
তাহলে বড় কে, যে ভোজে আসন গ্রহণ করে, না, যে পরিবেশন করে? যে ভোজে আসন গ্রহণ করে সে-ই নিশ্চয় বড়। কিন্তু আমি তোমাদের মাঝে সেবকরূপে রয়েছি।
28
তোমরাই আমার সমস্ত দুঃখ-কষ্ট ও পরীক্ষার দিনে আমার সঙ্গে রয়েছ।
29
আমার পিতা যে রাজা আমার জন্য নির্দিষ্ট করেছেন, সেই রাজ্যে আমি তোমাদের স্থান নির্দেশ করছি,
30
যেন তোমরা আমার রাজ্যে আমার সঙ্গে ভোজে অংশগ্রহণ করতে পার এবং বিচারাসনে বসে ইসরায়েলের দ্বাদশ বংশের বিচার করতে পার।
31
শিমোন, শিমোন, দেখ, শয়তান তোমাদের গমের মত ঝাড়াই করার অধিকার পেয়েছে।
32
কিন্তু আমি তোমার জন্য প্রার্থনা করছি যেন তুমি বিশ্বাস না হারাও। তুমি যখন পিরে আসবে, তখন তোমার ভাইদের মধ্যে শক্তি সঞ্চার করো।
33
পিতর তখন যীশুকে বললেন, প্রভু, আমি আপনার সঙ্গে কারাগারে যেতে এবং মৃত্যুবরণ করতেও প্রস্তুত।
34
যীশু বললেন, পিতর তোমায় আমি বলছি, তুমি যে আমাকে চেন, একথা আজ মোরগ ডাকবার আগে তিনবার অস্বীকার করবে।
35
তিনি তাঁদের বললেন, তোমাদের যখন আমি টাকার থলি, ঝুলি ও জুতো ছাড়াই কোথাও পাঠিয়েছি, তখন কি তোমাদের কোন কিছুর অভাব হয়েছে? তাঁরা বললেন, কোন কিছুরই নয়।
36
তিনি তখন তাঁদের বললেন, কিন্তু এখন থেকে যার টাকার থলি আছে, সে তা সঙ্গে নিও, সেইভাবে ঝুলিও নিও। যার তরবারি নেই, সে নিজের জামা বিক্রী করে একটি তরবারি কিনে নাও।
37
কারণ আমি তোমাদের বলছি, আমাতেই পূর্ণ হবে এই শাস্ত্রবাক্য: ‘তিনি আমাতেই পূর্ণ হবে এই শাস্ত্রবাক্য: ‘তিনি অপরাধীদের অন্যতমরূপে গণ্য হলেন।’ আমার সম্বন্ধে শাস্ত্রে যা লেখা আছে, তা পূর্ণ হতে চলেছে।
38
শিষ্যেরা তাঁকে বললেন, দেখুন প্রভু, এখানে দুটি তরবারি আছে। তিনি বললেন, এই-ই যথেষ্ট।
39
যীশু সেখান থেকে বেরিয়ে এসে প্রতিদিনেরর মত অলিভ পাহাড়ের দিকে চলতে লাগলেন। শিষ্যেরাও তাঁকে অনুসরণ করলেন।
40
সেখানে পৌঁছে যীশু তাঁদের বললেন, প্রার্থনা কর, যেন প্রলোভনের মুখে না পড়।
41
তারপর সেখান থেকে কিছু দূরে গিয়ে নতজানু হয়ে যীশু প্রার্থনা করতে লাগলেনঃ
42
পিতা, যদি তোমার ইচ্ছা হয় তাহলেল এই পানপাত্র আমার কাছ থেকে সরিয়ে নাও, তবু আমার ইচ্ছা নয়, তোমারই ইচ্ছা পূর্ণ হোক।
43
তখন স্বর্গ থেকে একজন দূত তাঁর কাছে আবির্ভূত হয়ে তাঁকে শক্তি ও সাহস জোগালেন।
44
কিন্তু নিদারুণ মর্মযাতনায় আরও একাগ্র হয়ে যীশু প্রার্থনা করতে লাগলেন। তাঁর ঘাম বড় বড় রক্তের ফোঁটার মত হয়ে মাটিতে পড়তে লাগল।
45
প্রার্থনা শেষ করে শিষ্যদের কাছে এসে তিনি দেখলেন যে তাঁরা দুঃখে ভারাক্রান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছেন!
46
তিনি তাঁদের ডেকে বললেন, কেন ঘুমাচ্ছ তোমরা? ওঠ, প্রার্থনা কর, যেন প্রলোভনে না পড়।
47
যীশু কথা বলছিলেন, এমন সময় তাঁর বারোজন শিষ্যের অন্যতম যিহুদা বহু লোক সঙ্গে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হল। সে যীশুকে চুম্বন করার জন্য এগিয়ে আসতে যীশু তাকে বললেন, যিহুদা, প্রীতি-চুম্বনের ছলেই তুমি শেষে মানবপুত্রকে শত্রুর হাতে তুলে দিলে!
49
তখন তাঁর সঙ্গীরা কি ঘটতে যাচ্ছে তা বুঝতে পেরে যীশুকে বললেন, প্রভু, আমরা কি তরবারি ধরব?
50
তাঁদের মধ্যে একজন তরবারির আঘাতে প্রধান পুরোহিতের ক্রীতদাসের ডান কানটি কেটে ফেললেন।
51
যীশু বললেন, আর নয়, এই যথেষ্ট। তারপর তিনি সেই লোকটির কান স্পর্শ করে তাকে সুস্থ করে দিলেন।
52
পুরোহিতদের নেতৃবৃন্দ, মন্দিরের অধ্যক্ষ এবং জাতির যে সমস্ত প্রবীণ তাঁকে ধরতে এসেছিলেন, যীশু তাঁদের বললেন, আমি কি ডাকাত যে তোমরা লাঠি, বল্লম ও তরবারি নিয়ে আমাকে ধরতে এসেছ?
53
আমি তো প্রতিদিন তোমাদের সঙ্গে মন্দিরেই ছিলাম কিন্তু তখন তোমরা আমাকে ধরনি। কিন্তু এখন তোমাদের সুযোগ এসেছে কারণ অন্ধকারের শক্তি এখন প্রবল।
54
তারা তখন যীশুকে গ্রেপ্তার করে প্রধান পুরোহিতের বাড়িতে নিয়ে গেল। পিতর দূরে থেকে তাঁকে অনুসরণ করলেন।
55
তারা তখন উঠোনের মাঝখানে আগুন জ্বেলে চারপাশ ঘিরে বসল, পিতরও তাদের মধ্যে গিয়ে বসলেন।
56
আগুনের কুণ্ডের কাছে তাঁকে বসে থাকতে দেখে একজন দাসী তাঁর দিকে তাকিয়ে বলল, এই লোকটিও তো ওর সঙ্গে ছিল।
57
তিনি তখন অস্বীকার করে বললেন, ওগো মেয়ে, আমি ওকে চিনিই না।
58
কিছুক্ষণ পরে আর একজন তাঁকে বলল, তুমিও তাদেরই একজন। পিতর বললেন, না হে, আমি নই।
59
ঘণ্টাখানেক পরে আর একজন এসে বেশ জোরের সঙ্গে বলল, এই লোকটা নিশ্চয়ই ওর সঙ্গে ছিল, কারণ এও গালীল দেশের লোক।
60
পিতর বললেন, ওহে তুমি কি বলছ, আমি বুঝতে পারছি না। ঠিক সেই মুহূর্তে মোরগ ডেকে উঠল।
61
প্রভু তখন মুখ ফিরিয়ে সোজাসুজি পিতরের দিকে তাকালেন। পিতরের তখন মনে পড়ল প্রভুর সেই কথা, আজ রাতে মোরগ ডাকার আগে তুমি আমাকে তিনবার অস্বীকার করবে।
62
তিনি তখন বাইরে গিয়ে আকুল হয়ে কাঁদতে লাগলেন।
63
যে লোকগুলি যীশুকে পাহারা দিচ্ছিল তারা তাঁকে উপহাস ও মারধোর করতে লাগল।
64
তারা তাঁর চোখে বেঁধে তাঁকে মেরে জিজ্ঞেস করল, তুই তো একজন নবী, বল দেখি কে তোকে মারল?
65
এইভাবে তারা তাঁকে বিদ্রূপ ও অপমান করতে লাগল।
66
তারপর সকাল হলে জাতির প্রবীণেরা পুরোহিতদের নেতৃবৃন্দ ও শাস্ত্রবিদদের সঙ্গে একত্র হলেন এবং সেখানে যীশুকে আনিয়ে বললেন,
67
তুমি কি সেই খ্রীষ্ট? আমাদের কাছে বল। তিনি বললেন, যদি আমি বলি তাহলে তোমরা বিশ্বাস করবে না এবং যদি আমি তোমাদেরর জিজ্ঞাস্য করি, তোমরা উত্তর দেবে না।
69
কিন্তু এখন থেকে মানবপুত্র সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের পরাক্রমে মণ্ডিত হবেন।
70
তাঁরা তখন বললেন, তাহলে তুমি কি ঈশ্বরের পুত্র? তিনি তাঁদের বললেন, তোমরাই স্বীকার করছ যে আমিই সেই।
71
তখন তাঁরা বললেন, এরপর আমাদের সাক্ষ্যের আর কি দরকার? আমরা তার নিজের মুখ থেকেই একথা শুনলাম।
← Chapter 21
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 22
Chapter 23
Chapter 24
Chapter 23 →
All chapters:
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
13
14
15
16
17
18
19
20
21
22
23
24