bible
ra
🌐 Language
English
Español
Français
Deutsch
Português
Italiano
Nederlands
Русский
中文
日本語
한국어
العربية
Türkçe
Tiếng Việt
ไทย
Indonesia
All Languages
Home
/
Bengali
/
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
/
Luke 9
Luke 9
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
← Chapter 8
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 22
Chapter 23
Chapter 24
Chapter 10 →
1
যীশু তাঁর বারোজন শিষ্যকে একসঙ্গে ডেকে অপদেবতা বিতাড়ন ও রোগ নিরাময় করার ক্ষমতা তাঁদের দিলেন।
2
তারপর তিনি ঈশ্বরের রাজ্যের কথা প্রচার করার জন্য এবং অসুস্থদের সুস্থ করার জন্য তাঁদের পাঠিয়ে দিলেন।
3
যীশু তাঁদের বললেন, যাত্রা পথে কোন পাথেয় নিও না, লাঠি, ঝুলি, খাবার, টাকা —কিছুই না, দুটো জামাও যেন তোমাদের কাছে না থাকে।
4
যে বাড়িতে তোমরা যাবে, সেইখানেই থেকো এবং পরবর্তী অভিযান সেখান থেকেই শুরু করো।
5
যারা তোমাদের স্বাগত জানাবে না, তাদের নগর পরিত্যাগ করে যাবার সময় তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ স্বরূপ সেখানে পায়ের ধূলো ঝেড়ে চলে যেও।
6
তাঁর আদেশ অনুযায়ী তাঁরা চলে গেলেন এবং গ্রামে গ্রামে গিয়ে সুসমাচার প্রচার ও রোগীদের সুস্থ করতে লাগলেন।
7
সামন্তরাজ হেরোদ যীশুর কার্যকলাপের কথা শুনে খুব বিচলিত হয়ে পড়লেন। কারণ কারও কারও মুখে শোনা যাচ্ছিল যে, বাপ্তিষ্মদাতা যোহন মৃত্যুলোক থেকে পুনরুত্থিত হয়েছেন।
8
কেউ কেউ বলছিল, এলিয়ের আবির্ভাব হয়েছে। আরও অনেকে বলছিল, প্রাচীন কালের নবীদের কেউ একজন পুনরুত্থিত হয়েছেন।
9
হেরোদ বললেন, আমিই যোহনের শিরশ্ছেদ করেছি, কিন্তু ইনি কে, যাঁর সম্বন্ধে এত কথা শুনছি? তিনি যীশুকে দেখবার জন্য খুব চেষ্টা করতে লাগলেন।
10
যীশুর প্রেরিত শিষ্যেরা ফিরে এসে তাঁদের সমস্ত কাজের বিবরণ তাঁকে জানালেন। তিনি তাঁদের সঙ্গে নিয়ে নিভৃতে বেথসৈদা নামে একটি নগরে গেলেন।
11
জনতা একথা জানতে পেরে তাঁর পিছনে পিছনে গেল। যীশু তখন তাদের সাদরে গ্রহণ করে ঈশ্বরের রাজ্যের কথা বলতে লাগলেন এবং যাদের সুস্থ হওয়া দরকার ছিল, তাদের সুস্থ করে দিলেন।
12
দিন শেষে সেই বারোজন শিষ্য তাঁর কাছে এসে বললেন, এবার সবাইকে বিদায় দিন, আশেপাশের গাঁয়ে-গঞ্জে গিয়ে তারা নিজেদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে নেবে, কারণ আমরা বিজন প্রান্তরে রয়েছি।
13
কিন্তু যীশু তাঁদের বললেন, তোমরাই এদের খেথে দাও। তাঁরা বললেন, তাহলে এ সমস্ত লোকের জন্য আমাদের খাবার কিনতে যেতে হবে। পাঁচকানা রুটি আর দুটি মাছ ছাড়া আমাদের কাছে আর কিছুই নেই।
14
সেকানে প্রায় পাঁচ হাজার পুরুষ ছিল। তিনি তাঁর শিষ্যদের বললেন, এক একটা সারিতে পঞ্চাশ জন করে এদের সবাইকে বসিয়ে দাও।
15
তাঁরা সবাইকে সেইবাবে বসিয়ে দিলেন।
16
যীশু তখন সেই পাঁচকানা রুটি ও মাছ দুটি নিয়ে স্বর্গের দিকে চেয়এ সেগুলিকে আশীর্বাদ করেলন। তারপর সেগুলি টুকরো করে জনতাকে পরিবেশন করার জন্য শিষ্যদের হাতে দিলেন।
17
সকলে খেয়ে পরম পরিতৃপ্তি লাভ করল। বাকী যা রইল, সেই খাবারের টুকরোগুলো একসঙ্গে জড়ো করলে, বারোটি ডালা ভরে গেল।
18
একদিন যীশু একলা বসে প্রার্থনা করছিলেন, তখন শিষ্যরা তাঁর কাছে এলেন। তিনি তাঁদের জিজ্ঞাসা করলেন, আচ্ছা, বল তো আমি কে, এ বিষয় লোকে কি বলে?
19
তাঁরা বললেন, কেউ কেউ বলে আপনি বাপ্তিষ্মদাতা যোহন, অন্যেরা বলে আপনি এলিয়, আবার কেউ কেউ বলে প্রাচীনকালের নবীদের একজন পুনরাবির্ভূত হয়েছেন।
20
তখন তিনি বললেন, কিন্তু তোমরা কি বল? আমি কে? পিতর উত্তর দিলেন, আপনি ঈশ্বরের অভিষিক্ত ব্যক্তি, সেই মশীহ।
21
তিনি তখন তাঁদের বিশেষভাবে নির্দেশ দিলেন, যেন একথা তাঁরা কারও কাছে প্রকাশ না করেন।
22
তিনি আর বললেন, মানবপুত্রকে অনেক দুঃখ পেতে হবে। প্রবীণেরা, প্রধান পুরোহিত ও শাস্ত্রবিদেরা তাঁকে অগ্রাহ্য করবেন,ত তাঁকে নিহত হতে হবে এবং তৃতীয় দিনে তিনি পুনরুত্থিত হবেন।
23
তিনি সকলকে বললেন, যদি কেউ আমায় অনুসরণ করতে চায়, তাহলে সে স্বার্থ চিন্তা ত্যাগ করুক এবং প্রতিদিন নিজের ক্রুশ তুলে নিয়ে আমার অনুসরণ করুক।
24
কারণ যে নিজের প্রাণ বাঁচাতে চায়, সে তা হারাবে কিন্তু আমার জন্য যে নিজের প্রাণ হারায়, সে তা রক্ষা করবে।
25
সমগ্র জগত লাভ করেও যদি মানুষ নিজের প্রাণ হারায়, অথবা জীবন থেকে বঞ্চিত হয় তাহলে, তার কি লাভ?
26
যদি কেউ আমার জন্য কিম্বা আমার কথায় লজ্জাবোধ করে, তাহলে মানবপুত্র যেদিন স্বমহিমায় এবং পরম পিতার পবিত্র দূতদের মহিমায় মণ্ডিত হয়ে আসবেন, সেদিন তিনিও তার সম্বন্ধে লজ্জিত হবেন।
27
কিন্তু আমি তোমাদের সত্য বলছি, এখানে যারা দাঁড়িয়ে আছে, ঈশ্বরের রাজ্য না দেখা পর্যন্ত তাদের কারও মৃত্যু হবে না।
28
এই সমস্ত কথাবার্তার প্রায় আটদিন পরে যীশু পিতর, যাকোব ও যোহনকে নিয়ে পাহাড়ে গেলেন প্রার্থনা করতে।
29
প্রার্থনা করতে করতে তাঁর মুখশ্রী বদলে গেল, তাঁর পোষাক আলোকশুভ্র হয়ে উঠল।
30
দেখা গেল দুই ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে কথা বলছেন —তাঁরা মোশি ও এলিয়।
31
তাঁরা গৌরবদীপ্ত রূপে আবির্ভূত হয়ে জেরুশালেমে তাঁর আসন্ন মহাপ্রয়াণ সম্বন্ধে কথা বলছিলেন।
32
পিতর ও তাঁর সঙ্গীরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলেন। তাঁরা জেগে উঠে যীশুকে মহিমান্বিত রূপ এদেখতে পেলেন এবং তাঁর সঙ্গে যে দুজন ব্যক্তি দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদেরও দেখলেন।
33
তারপর তাঁরা যখন তাঁর কাছ থেকে চলে যাচ্ছেন, তখন পিতর যীসুকে বললেন, গুরুদেব, আমরা এখানে থাকলেই ভাল হয়, আমরা তিনটি তাঁবু খাটাই, একটি আপনার জন্য, একটি মোশির জন্য এবং আর একটি এলিয়ের জন্য —কিন্তু তিনি যে কি বলছেন, তা নিজেই বুঝতে পারলেন না।
34
যখন তিনি এই সমস্ত কথা বলছেন, সেই সময় এক খণ্ড মেঘ এসে তাঁদের ঢেকে ফেলল। শিষ্যরা মেঘে ঢাকা পড়তেই ভয় পেয়ে গেলেন।
35
তখন সেই মেঘের ভেতর থেকে এই বাণী উচ্চারিত হল, ইনি আমার পুত্র, আমার মনোনীত, এঁর কথা শোন।
36
এই বাণী উচ্চারিত হবার পর যীশুকে দেখা গেল, তিনি একা। এই ঘটনার সময়ে শিষ্যেরা যা কিছু দেখলেন, সে সম্বন্ধে কাউকে তাঁরা কোন কথা বললেন না।
37
পরদিন তাঁরা পাহাড় থেকে নেমে এলে এক বিরাট জনতার সঙ্গে তাঁর দেখা হল।
38
জনতার মধ্য থেকে এক ব্যক্তি চীৎকার করে বলতে লাগল: গুরুদেব, আমার ছেলেটির দিকে দয়া করে একবার তাকান, এ আমার একমাত্র সন্তান।
39
দেখুন এক অপদেবতা এর উপর ভর করে, আর সে হঠাৎ চেঁচিয়ে ওঠে। ঐ অপদেবতা তাকে মুচড়াতে থাকে, যতক্ষণ না তার মুখ থেকে ফেনা বার হয়। তাকে যন্ত্রণায় ক্ষত-বিক্ষত না করে কিছুতেই সে ছেড়ে যেতে চায় না।
40
একে দূর করে দেবার জন্য আমি আপনার শিষ্যদের অনুরোধ করেছিলাম, কিন্তু তাঁরা পারলেন না।
41
যীশু বললেন, হে অবিশ্বাসী বিকৃতবুদ্ধি জাতি, কতদিন আর আমি তোমাদের সঙ্গে থাকব এবং ধৈর্যধারণ করব? নিয়ে এস তোমার ছেলেকে।
42
সে যখন আসছিল, তখন সেই অপদেবতা তাকে আছাড় মেরে মুচড়ে ধরল। যীশু অপদেবতাটিকে ধমক দিলেন এবং ছেলেটিকে সুস্থ করে তার বাবার কাছে ফিরিয়ে দিলেন।
43
এই ঐশ্বরিক ক্ষমতা দেখে সকলে স্তম্ভিত হয়ে গেল।
44
যীশুর সমস্ত কার্যকলাপ দেখে সকলে বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে গেল। তিনি বললেন, আমার এই কথাগুলি শোন এবং স্মরণে রেখো, মানবপুত্রকে লোকের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হবে।
45
এ কথার অর্থ তাঁরা কিছুই বুঝতে পারলেন না এবং যেন বুঝতে না পারেন সেই জন্যই এর অর্থ গোপন রাখা হয়েছিল, তাছাড়া তাঁরাও তাঁকে এর অর্থ জিজ্ঞাসা করতে সাহস করেননি।
46
শিষ্যদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কে —এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে খুব তর্ক চলছিল।
47
যীশু তাঁদের মনোভাব বুঝতে পেরে, একটি সিশুকে এনে নিজের পাশে দাঁড় করালেন
48
এবং বললেন, যে এই শিশুটিকে আমার নামে গ্রহণ করে, সে আমাকেই গ্রহণ করে এবং যে আমাকে গ্রহণ করে, সে আমার প্রেরণ কর্তাকেই গ্রহণ করে, তোমাদের মধ্যে যে সবচেয়ে ছোট, সেই শ্রেষ্ঠ।
49
যোহন বললেন, গুরুদেব, আমরা আপনার নামে একজনকে অপদেবতা দূর করতে দেখেছি, সে আমাদের সতীর্থ নয় বলে, আমরা তাকে এ কাজ করতে বারণ করেছি।
50
যীশু তাঁদের বললেন, বারণ করো না। কারণ যে তোমাদের বিপক্ষ নয় সে তোমাদের স্বপক্ষ।
51
যীশুর স্বর্গে নীত হওয়ারর সময় যত এগিয়ে আসতে লাগল, তিনি জেরুশালেমে যাবার জন্য তত বেশী ব্যগ্র হয়ে পড়লেন
52
এবং যাওয়ার আগে সংবাদ দিয়ে লোক পাঠালেন, তারা তাঁর খাবার ব্যবস্থা করার জন্য শমরীয়দের একটি গ্রামে গেল।
53
কিন্তু তিনি জেরুশালেমে যাবার জন্য ব্যগ্র ছিলেন বলে কেউ তাঁকে গ্রহণ করল না।
54
এই দেখে তাঁর শিষ্য যোহন ও যাকোব বললেন, প্রভু, অনুমতি দিন, এদের ধ্বংস করার জন্য আমরা আকাশ থেকে আগুন নেমে আসতে বলি।
55
এ কথা শুনে তিনি তাঁদের খুব তিরস্কার করলেন।
56
বললেন, তোমরা কি জান না, কার আত্মা তোমরা পেয়েছ? মানবপুত্র মানুষের জীবন নাশ করতে আসেননি কিন্তু বাঁচাতেই এসেছেন তারপর তাঁরা অন্য গ্রামে চলে গেলেন।
57
তাঁরা রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন, এমন সময় একটি লোক তাঁকে বলল, আপনি যেখানে যাবেন আমিও সেখানেই আপনার অনুসরণ করব।
58
যীশু তাকে বললেন, শিয়ালের গর্ত আছে, আকাশের পাখিদের বাসা আছে কিন্তু মানবপুত্রের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই।
59
তারপর একজনকে তিনি বললেন, আমার অনুসরণ কর। কিন্তু সে বলল, প্রভু, আগে আমার বাবাকে কবর দিয়এ আসতে অনুমতি দিন।
60
যীশু তাকে বললেন, মৃতেরাই মৃতদের কবর দিক। কিন্তু তুমি যাও, ঈশ্বরের রাজ্যের কথা ঘোষণা কর।
61
আর একজন বলল, প্রভু, আমি আপনার অনুসরণ করব কিন্তু তার আগে আমাকে আমার বাড়ির সকলের কাছে বিদায় নিতে দিন।
62
যীশু তাকে বললেন, লাঙ্গলে হাত রেখে যে পিছন ফিরে চায়, সে ঈশ্বরের রাজ্যের যোগ্য নয়।
← Chapter 8
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 22
Chapter 23
Chapter 24
Chapter 10 →
All chapters:
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
13
14
15
16
17
18
19
20
21
22
23
24