bible
ra
🌐 Language
English
Español
Français
Deutsch
Português
Italiano
Nederlands
Русский
中文
日本語
한국어
العربية
Türkçe
Tiếng Việt
ไทย
Indonesia
All Languages
Home
/
Bengali
/
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
/
Matthew 13
Matthew 13
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
← Chapter 12
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 22
Chapter 23
Chapter 24
Chapter 25
Chapter 26
Chapter 27
Chapter 28
Chapter 14 →
1
যীশু বাড়ি থেকে বেরিয়ে সেদিন সাগরে ধারে গিয়ে বসেছিলেন।
2
তাঁর চারপাশে ভিড় জমতে লাগল। তখন তিনি একখানি নৌকায় উঠে বসলেন এবং জনতা সাগর পারে দাঁড়িয়ে রইল।
3
উপমার ছলে তিনি তাদের অনেক কথাই বললেন। তিনি বললেন, একজন কৃষক বীজ বুনতে গেল। বীজ বোনার সময় কিছু বীজ পথের ধারে পড়ল
4
এবং পাখিরা এসে সেগুলি খেয়ে ফেলল।
5
আর কিছু বীজ পড়ল পাথুরে জমিতে, সেখানে মাটি বেশী ছিল না। পর্যাপ্ত মাটি না থাকায় বীজগুলি তাড়াতাড়ি, অঙ্কুরিত হল।
6
কিন্তু সূর্য উঠলে অঙ্কুরগুলি রোদে পুড়ে গেল এবং তাদের শিকড় না থাকায় সেগুলি শুকিয়ে গেল।
7
কিছু বীজ পড়ল কাঁটাঝোপের মধ্যে, কাঁটাঝোপ বেড়ে উঠে বীজগুলিকে ঢেকে ফেলল।
8
অন্য বীজগুলি ভাল জমিতে পড়ল এবং ফলবন্ত হয়ে কোথাও শতগুণ, কোথাও ষাটগুণ, কোথাও ত্রিশগুণ ফসল দিল।
9
যার কান আছে সে শুনুক একথা।
10
শিষ্যরা তাঁর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কেন রূপকের সাহায্যে ওদের সঙ্গে কথা বলছেন?
11
তিনি তাদের বললেন, স্বর্গরাজ্যের নিগূঢ় রহস্য জানার অধিকার তোমাদের দেওয়া হয়েছে, কিন্তু ওদের দেওয়া হয় নি।
12
কারণ যার কিছু আছে তাকে আরও দেওয়া হবে, যাতে সে প্রচুর পায়। কিন্তু যার কিছুই নেই, তার যা আছে তার কাছে থেকে তা কেড়ে নেওয়া হবে।
13
এ জন্যই আমি ওদের কাছে রূপকের সাহায্যে কথা বলি, কারণ তারা দেখেও দেখতে পায় না, শুনেও শুনতে পায় না এবং বুঝতেও পারে না।
14
নবী যিশাইয় যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তা তাদের দ্বারাই পূর্ণ হচ্ছে: তোমরা শুনে যাবে, কিন্তু বুঝবে না, চেয়ে থাকবে, কিন্তু কিছুই দেখবে না।
15
কারণ এ জাতির বোধশক্তি লোপ পেয়েছে, তাদের শ্রবণ হয়েছে বধির, দৃষ্টিও হয়েছে আচ্ছন্ন, যদি এরা চোখে দেখতে এবং কানে শুনে অন্তরে উপলব্ধি করে আমার কাছে ফিরে আসতো, তাহলে আমি তাদের সুস্থ করতাম।
16
কিন্তু তোমরা কত ভাগ্যবান! তোমরা চোকে দেখতে পাও, কানেও শুনতে পাও,
17
আমি তোমাদের সত্যই বলছি, তোমরা যা দেখতে পাচ্ছ, বহু নবী ও ধর্মনিষ্ঠ ব্যক্তি তা দেখতে চেয়েও দেখতে পান নি। তোমরা যা শুনছ, তাঁরা তা শুনতে চেয়েও শুনতে পান নি।
18
বীজবপনের রূপকের মর্ম তাহলে শোন।
19
স্বর্গরাজ্যের কথা যে শোনে কিন্তু কিছুই বোঝে না, সে হল পথের ধারে পতিত বীজের মত। তার অন্তরে যা বপন করা হয় শয়তান এসে তা কেড়ে নিয়ে যায়।
20
পাথুরে জমিতে যে বীজ পড়েছিল তা হল তারই প্রতীক যে সেই কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে সানন্দে তা গ্রহণ করে।
21
কিন্তু তার অন্তরে মূল প্রবেশ করতে পারে না বলেই তা ক্ষণস্থায়ী হয় এবং এই বাক্যের জন্য কোন সঙ্কট বা নির্যাতন উপস্থিত হলেই সে পিছিয়ে পড়ে।
22
কাঁটাঝোপের মধ্যে যে বীজ পড়েছিল তা হল তারই প্রতীক যে সেই বার্তা শোনে, কিন্তু তার সাংসারিক চিন্তা ও বিষয়াসক্তি ঐ বাক্যকে চেপে রাখে।
23
আর ভাল জমিতে যে বীজ ছড়ানো হয়েছিল, সেগুলি হল তাদেরই প্রতীক যারা সেই বাক্য শুনে উপলব্ধি করতে পারে। তারা সত্যই ফলবান হয়ে ওঠে, এবং তাদের কেউ শতগুণ, কেউ ষাটগুণ কেউ বা ত্রিশগুণ ফল উৎপাদন করে।
24
যীশু তাঁদের আর একটি উপাখ্যানের মাধ্যমে বললেন, স্বর্গরাজ্যের তুলনা এমন একটি লোকের সঙ্গে করা যায় যে তার জমিতে ভাল বীজ বুনল।
25
তারপর রাত্রে সকলে ঘুমিয়ে পড়লে তার শত্রু এসে গমের মধ্যে শ্যামাঘাসের বীজ ছড়িয়ে দিয়ে চলে গেল।
26
চারাগুলো বড় হবার পর যখন শীষ দেখা দিল তখন শ্যামাঘাসও দেখতে পাওয়া গেল।
27
মালিকের ভৃত্যেরা এসে তাঁকে বলল, কর্তা, আপনি তো আপনার জমিতে ভাল বীজই বুনেছিলেন। তবে শ্যামাঘাস এল কোথা থেকে?
28
সে তাদের বলল, কোন শত্রু এ কাজ করেছে। ভৃত্যেরা তাকে বলল, তাহলে বলুন, আমরা সেগুলো তুলে ফেলি।
29
সে বলল, না শ্যামাঘাস তুলতে গিয়ে তোমরা হয়তো ঘাসের সঙ্গে গমের গাছগুলোই উপড়ে ফেলবে।
30
ফসল কাটার সময় পর্যন্ত দুটোকেই বাড়তে দাও। ফসল কাটার সময়ে ফসল যারা কাটবে তাদের আমি বলে দেব, প্রথমে যেন তারা শ্যামাঘাসগুলো তুলে পোড়াবার জন্য আঁটি বেঁধে রাখে, তারপর গম সংগ্রহ করে আমার গোলায় এনে তোলে।
31
তিনি তাদের আর একটি উপমা দিলেন, স্বর্গরাজ্য এমন একটি সরিষা বীজের মত, যা একজন লোক তার জমিতে বুনল।
32
এই বীজটি অন্য সকল বীজের চেয়ে ছোট, কিন্তু যখন বেড়ে ওঠে তখন অন্য সব গাছকে ছাড়িয়ে যায়। এ তখন বৃক্ষে পরিণত হয়, আর পাখিরা এসে এর ডালে বাসা বাঁধে।
33
তিনি তাদের আর একটি উপমা দিলেন, স্বর্গরাজ্য খামিরের মত, একজন স্ত্রীলোক যা নিয়ে তিন মণ ময়দার মধ্যে রাখল, পরে সমস্তটাই গেঁজে উঠল।
34
উপমার মাধ্যমে যীশু এ সমস্ত কথা জনতাকে বললেন। উপমা ছাড়া তিনি তাদের কিছুই বলতেন না।
35
যাতে নবী যিশাইয়ের এই ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ হয়: উপমাচ্ছলেই আমি কথা বলব, সৃষ্টির প্রারম্ভ থেকে যা গুপ্ত রয়েছে তা ব্যক্ত করব।
36
তারপর যীশু জনতার কাছ থেকে ফিরে এলেন বাড়িতে। তাঁর শিষ্যেরা তাঁর কাছে এসে বললেন, মাঠে ছড়িয়ে দেওয়া শ্যামাঘাসের উপমাটা আমাদের বুঝিয়ে বলুন।
37
তিনি তাঁদের বললেন, ভাল বীজ যিনি বোনেন তিনি হলেন মানবপুত্র,
38
আর জমিটা হল এই জগৎ। স্বর্গরাজ্যের সন্তানেরা হচ্ছে ভাল বীজ, আর শ্যামাঘাস হল শয়তানের সাঙ্গপাঙ্গ,
39
এবং যে শত্রু ঐ বীজ বুনেছিল সে হল স্বয়ং শয়তান। ফসল কাটার সময়টি জগতের অন্তিমকাল এবং স্বর্গদূতেরা হলেন শস্য সংগ্রহকারী।
40
যে ভাবে শ্যামাঘাস তুলে নিয়ে আগুনে পোড়ানো হয়, জগতের অন্তিমকালে তা-ই করা হবে।
41
মানবপুত্র তাঁর দূতদের পাঠাবেন। তাঁরা তাঁর রাজ্য থেকে দুরাচারী ও পাপের প্ররোচনা দেয় এমন সব লোককে আলাদা করে
42
অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করবেন। সেখানে তারা অনুশোচনা ও আক্ষেপ করবে।
43
ধার্মিকেরা তাদের পিতার রাজ্যে সূর্যের মত দ্বীপ্তিমান হয়ে উঠবে। যার বলে আছে সে শুনুক।
44
স্বর্গরাজ্য ক্ষেতের মধ্যে লুকিয়ে রাখা গুপ্তধনের মত। একটি লোক তার সন্ধান পেয়ে তা গোপন করে রাখল। পরে সে মনের আনন্দে ফিরে গিয়ে তার সর্বস্ব বিক্রী করে সেই ক্ষেতটি কিনে নিল।
45
স্বর্গরাজ্যের তুলনা এই ভাবে দেওয়া যায়: এক বণিক যে সেরা মুক্তার খোঁজে ঘুরে বেড়াচ্ছিল।
46
একটি বহুমূল্য মুক্তোর সন্ধান পেয়ে সে গিয়ে তার যা কিছু ছিল সব বিক্রী করে দিল এবং সেই মুক্তাটি কিনে নিল।
47
আবার স্বর্গরাজ্য একখানি টানাজালের মত। জালটি সমুদ্রে ফেলা হল এবং তাতে সব রকমের মাছ ধরা পড়ল।
48
জাল বোঝাই হতে গেলে লোকে সেটিকে টেনে ডাঙ্গায় তুলল। তারা ভাল মাছগুলি বেছে ঝুড়িতে রাখল এবং যে মাছগুলি নেবার মত নয় সেগুলি বাইরে ফেলে দিল।
49
জগতের অন্তিমকালে ঠিক এ রকমই হবে। স্বর্গদূতেরা এসে ধার্মিকদের মধ্যে থেক দুষ্টদের আলাদা করে
50
অগ্নিকুণ্ডে ফেলে দেবে। সেখানেই তারা অনুশোচনা ও আক্ষেপ করবে।
51
যীশু তাঁদের জিজ্ঞাসা করলেন, এ সমস্ত কথা কি তোমরা বুঝতে পেরেছ? তাঁরা তাঁকে বললেন, হ্যাঁ।
52
তিনি তাঁদের আবার বললেন, কাজেই স্বর্গরাজ্য সম্বন্ধে সুশিক্ষিত শাস্ত্রগুরু এমন একজন গৃহস্থের মত যিনি নিজের ভাণ্ডার থেকে নূতন ও পুরাতন রত্ন বার করে আনতে পারবেন।
53
গল্পের ছলে এ সমস্ত কথা শেষ করে যীশু সেখান থেকে চলে গেলেন।
54
নিজের দেশে এসে সমাজভবনে তিনি জনতাকে শিক্ষা দিতে লাগলেন। এতে তারা অবাক হয়ে বলল, এত জ্ঞান এবং এমন সব অলৌকিক কার্যের শক্তি এ কোথা থেকে পেল?
55
এ না সেই ছুতোর মিস্ত্রীর ছেলে? এর মায়ের নাম না মরিয়ম? যাকোব, যোষেফ, শিমোন ও যিহুদা কি এর ভাই নয়?
56
এর বোনেরা কি সকলে আমাদের এখানে নেই? তবে এসব সে কোথা থেকে পেয়েছে?
57
তারা তাঁর প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে উঠল। যীশু তাদের বললেন, একমাত্র নিজের দেশ ও আত্মীয়স্বজন এবং নিজের বাড়ি ছাড়া অন্য কোথাও কোন নবী অসম্মানিত হন না।
58
তাদের অবিশ্বাসের জন্য তিনি সেখানে বেশী অলৌকিক কাজ করলেন না।
← Chapter 12
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 22
Chapter 23
Chapter 24
Chapter 25
Chapter 26
Chapter 27
Chapter 28
Chapter 14 →
All chapters:
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
13
14
15
16
17
18
19
20
21
22
23
24
25
26
27
28