bible
ra
🌐 Language
English
Español
Français
Deutsch
Português
Italiano
Nederlands
Русский
中文
日本語
한국어
العربية
Türkçe
Tiếng Việt
ไทย
Indonesia
All Languages
Home
/
Bengali
/
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
/
Matthew 26
Matthew 26
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
← Chapter 25
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 22
Chapter 23
Chapter 24
Chapter 25
Chapter 26
Chapter 27
Chapter 28
Chapter 27 →
1
এই সব কথার পরে যীশু তাঁর শিষ্যদের বললেন,
2
তোমরা জান যে আর দুদিন পরে তারণোৎসব শুরু হচ্ছে এবং ক্রুশবিদ্ধ করার জন্য মানবপুত্রকে শত্রুর হাতে ধরিয়ে দেওয়া হবে।
3
সেই সময়ে প্রধান পুরোহিতবৃন্দ ও জাতির প্রবীণর কায়াফা নামে প্রধান পুরোহিতের প্রাসাদে মিলিত হয়ে পরামর্শ করতে লাগলেন,
4
কি করে যীশুকে কৌশলে বন্দী করে হত্যা করা যেতে পারে।
5
তারপর স্থির করলেন, পর্বের সময়ে একাজ করা ঠিক হবে না, কারণ তাহলে জনসাধারণের মধ্যে দাঙ্গাহাঙ্গামা শুরু হয়ে যাবে।
6
যীশু তখন বেথানিতে শিমোনের বাড়িতে ছিলেন।
7
এই শিমোন একসময় কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সেই সময়ে এক নারী শ্বেতপাথরের পাত্রে খুব দামী সুগন্ধি আতর নিয়ে তাঁর কাছে এল। তিনি তখন আহারে বসেছিলেন। মেয়েটি সেই আতর তাঁর মাথায় ঢেলে দিল।
8
শিষ্যেরা তা দেখে রুষ্ট হলেন, বললেন, কেন এই অপচয়?
9
এটা তো অনেক দামে বিক্রি করে সেই অর্থ গরীবদের দেওয়া যেতে পারত।
10
এ কথা শুনে যীশু তাঁদের বললেন, এই নারীকে দুঃখ দিচ্ছ কেন? আমার জন্য সে তো ভাল কাজই করেছে।
11
গরীবরা তো তোমাদের কাছে সব সময়ই আছে, কিন্তু আমাকে তোমরা সব সময়ে পাবে না।
12
আমার সমাধির জন্য এই সুগন্ধি আতর ঢেলে সে আমার দেহ অভিষিক্ত করেছে।
13
আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, সারা জগতে এই সুসমাচার যেখানেই প্রচারিত হবে, সেখানেই তাকে স্মরণ করে তার এই কাজের কথা উল্লেখ করা হবে।
14
তখন বারো জন শিষ্যের অন্যতম, যিহুদা ইসকারিয়োৎ মহাযাজকের কাছে গিয়ে বলল,
15
আপনাদের হাতে তাঁকে ধরিয়ে দিলে আপনারা আমাকে কী দেবেন? তারা তাকে ত্রিশটি রৌপ্যমুদ্রা দিল।
16
তখন থেকে সে যীশুকে ধরিয়ে দেবার সুযোগের সন্ধানে রইল।
17
খামিরবিহীন রুটির পর্বের প্রথম দিনে শিষ্যেরা যীশুর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনার জন্য তারণোৎসবের ভোজ আমরা কোথায় প্রস্তুত করব? যীশু তাঁদের বললেন,
18
তোমরা শহরে অমুক লোকের কাছে গিয়ে বল, ‘গুরু বলছেন, আমার সময় আসন্ন, আমি তোমারই গৃহে আমার শিষ্যদের সঙ্গে তারণোৎসব পালন করতে চাই।
19
শিষ্যরা যীশুর নির্দেশ মত তারণোৎসবের ভোজের আয়োজন করলেন।
20
সন্ধ্যা হলে তিনি সেই বারোজন শিষ্যের সঙ্গে আহারে বসলেন।
21
আহারের সময়ে তিনি তাঁদের বললেন, আমি, তোমাদের সত্যিই বলছি, তোমাদের মধ্যে একজন আমাকে ধরিয়ে দেবে।
22
অত্যন্ত দুঃখিত হয়ে তাঁরা প্রত্যেকে তাঁকে বলতে লাগলেন, প্রভু, সে কি আমি?
23
তিনি বললেন, আমাকে যে ধরিয়ে দেবে সেও আমার সঙ্গে এই পাত্রে হাত ডুবাচ্ছে।
24
শাস্ত্রে যেমন লেখা আছে মানবপুত্র সেইভাবেই বিদায় নিচ্ছেন। কিন্তু মানবপুত্রকে যে শত্রুহস্তে সমর্পণ করবে ধিক্ তাকে। সে যদি না জন্মাত তাহলে তার পক্ষে ভাল হত।
25
যে যিহুদা তাঁকে ধরিয়ে দেবে সে তখন বলে উঠল, গুরুদেব, সে কি আমি? তিনি তাকে বললেন, তোমার কথাই ঠিক।
26
তাঁরা যখন আহারে বসলেন, তখন যীশু রুটি নিয়ে আশীর্বাদ করলেন এবং সেই রুটি টুকরো করে শিষ্যদের দিয়ে বললেন, নাও, খাও, এই আমার দেহ।
27
পরে তিনি পানপাত্র হাতে নিলেন, ঈশ্বরের প্রশস্তি করে তাঁদের বললেন, তোমরা সকলে এই পাত্র থেকে পান কর,
28
কারণ এ আমার রক্ত, ঈশ্বরের সঙ্গে সম্বন্ধ স্থাপনের জন্য এবং অনেকের পাপ মোচনের জন্য পাতিত।
29
আমি তোমাদের বলছি, এখন থেকে এই দ্রাক্ষারস আমি আর পান করব না, যতদিন না আমার পিতার রাজ্যে তোমাদের সঙ্গে নতুন দ্রাক্ষারস পান করি।
30
তারপর তারণোৎসবের একটি স্তোত্র গান করে তাঁরা বেরিয়ে অলিভ পর্বতে চলে গেলেন।
31
তারপর যীশু তাঁদের বললেন, আজ রাত্রে আমার জন্যই তোমরা সকলে বিশ্বাস হারাবে ও আমাকে পরিত্যাগ করবে, কারণ শাস্ত্রে লেখা আছে, ‘মেষ পালককে আমি আঘাত করব, আর মেষপাল ছড়িয়ে পড়বে চারদিকে’।
32
কিন্তু আমার পুনরুত্থানের পর আমি তোমাদের আগেই গালীলে গিয়ে পৌঁছাব।
33
পিতর বললেন, আপনার জন্য সকলের পতন হলেও, আমি কিন্তু অটল থাকব।
34
যীশু তাঁকে বললেন, আমি তোমাকে সত্যিই বলছি, আজ রাত্রেই মোরগ ডাকবার আগে আমাকে তুমি তিনবার অস্বীকার করবে।
35
পিতর তাঁকে বললেন, আপনার সঙ্গে যদি আমাকে মরতেও হয় তাহলেও আমি কখনও আপনাকে অস্বীকার করব না। এভাবে অন্য শিষ্যরাও তাঁকে একই কথা বললেন।
36
এরপর যীশু তাঁদের সঙ্গে নিয়ে গেৎশিমানী নামে একটি স্থানে এলেন। শিষ্যদের তিনি বললেন, তোমরা এখানে বল, আমি ওখানে গিয়ে প্রার্থনা করে আসি।
37
তিনি সিবদীয়ের দুই পুত্র ও পিতরকে সঙ্গে নিলেন। দুঃখে ও উৎকন্ঠায় তাঁর হৃদয় ভরে উঠেছিল।
38
তিনি তাঁদের বললেন, আমার প্রাণ মর্মান্তিক যন্ত্রণায় ম্রিয়মান। তোমরা এখানে অপেক্ষা কর এবং আমার সঙ্গে জেগে থাক।
39
আরও কিছুটা এগিয়ে তিনি মাটিতে উপুড় হয়ে পড়লেন এবং প্রার্থনা করলেন, পিতা আমার! যদি সম্ভব হয় তবে এই পানপাত্র আমার কাছ থেকে সরিয়ে নাও। কিন্তু আমার ইচ্ছা নয়, তোমারই ইচ্ছা পূর্ণ হোক।
40
শিষ্যদের কাছে ফিরে এসে তিনি দেখলেন, তাঁরা ঘুমিয়ে পড়েছেন। পিতরকে তিনি বললেন, একি! তোমরা ঘুমোচ্ছ? তোমরা কি আমার সঙ্গে এক ঘন্টাও জেগে থাকতে পারলে না?
41
জেগে থাক এবং প্রার্থনা কর, যাতে তোমরা প্রলোভনে না পড়। আত্মা আগ্রহী হলেও দেহ দুর্বল।
42
আবার, দ্বিতীয়বার তিনি চলে গেলেন এবং প্রার্থনা করতে লাগলেন, পিতা আমার! যদি এই পানপাত্র সরিয়ে নেওয়া সম্ভব না হয়, যদি আমাকে এই পানপাত্র থেকে পান করতেই হয় তবে তোমার ইচ্ছাই পূর্ণ হোক।
43
আবার এসে তিনি দেখলেন, তাঁরা ঘুমিয়েই আছেন, তাঁদের চোখের পাতা ঘুমে ভারী হয়ে আছে।
44
তাদের কাছ থেকে তিনি আবার চলে গেলেন এবং তৃতীয়বার সেই একই কথা বলে প্রার্থনা করলেন।
45
তারপর শিষ্যদের কাছে ফিরে এসে তিনি তাঁদের বললেন, এখনও ঘুমাচ্ছ, বিশ্রাম করছ এখনও? দেখ, লগ্ন সমাগত। মানবপুত্র পাপীদের হাতে সমর্পিত হতে চলেছেন।
46
ওঠ, চল আমরা3 এগিয়ে যাই। যে আমাকে ধরিয়ে দেবে, ঐ দেখ সে এগিয়ে আসছে।
47
তাঁর কথা শেষ হতে না হতেই, তাঁর বারোজন শিষ্যের অন্যতম যিহুদা এসে উপস্থিত হল। তার সঙ্গে ছিল প্রধান পুরোহিত ও সমাজপতিদের পাঠানো একদল লোক। তাদের হাতে ছিল তরোয়াল ও লাঠি।
48
সেই বিশ্বাসঘাতক তাদের এই সঙ্কেত দিয়ে বলেছিল, আমি যাকে চুম্বন করব, সে-ই হল ঐ লোক। তোমরা গিয়ে তাকে ধরবে।
49
সে সোজা যীশুর কাছে এগিয়ে এসে তাঁকে সম্ভাষণ জানাল, গুরুদেব, মঙ্গল হোক আপনার! তারপর সে তাঁকে চুম্বন করল।
50
যীশু তাকে বললেন, বন্ধু যা করতে এসেছ করে ফেল। তারা তখন এগিয়ে এসে যীশুকে গ্রেপ্তার করল।
51
যীশুর সঙ্গীদের মধ্যে একজন তরবারি দিয়ে মহাযাজকের ভৃত্যের কান কেটে ফেললেন।
52
যীশু তখন তাঁকে বললেন, তোমার তরবারি যথাস্থানে রেখে দাও। কারণ তরবারি যারা ধারণ করে তারা তরবারিতেই ধ্বংস হয়।
53
তুমি কি মনে কর যে আমি আমার পিতার কাছে আবেদন জানালে তিনি কি আমার জন্য বারোটিরও বেশি দূতবাহিনী পাঠিয়ে দেবেন না?
54
কিন্তু তাহলে কি করে পূরণ হবে শাস্ত্রের এই কথা-যে এ সমস্ত অবশ্যই ঘটবে?
55
যীশু তারপর জনতাকে বললেন, লোকে যেভাবে দস্যুকে ধরতে যায় তোমরা কি সেইভাবে তরোয়াল, লাঠি-সোটা নিয়ে আমাকে ধরতে এসেছ? আমি তো প্রতিদিন মন্দিরে বসেই শিক্ষা দিয়েছি, তখন তো তোমরা আমাকে ধরনি?
56
কিন্তু এ সমস্ত এই জন্যই ঘটল যাতে নবীদের লেখা শাস্ত্রবচন পূর্ণ হয়। শিষ্যেরা তখন সকলে তাঁকে ত্যাগ করে পালিয়ে গেলেন।
57
যীশুকে গ্রেপ্তার করে তারা প্রধান পুরোহিত কায়াফার কাছে নিয়ে গেল। সেখানে শাস্ত্রী ও সমাজপতিরা সমবেত হয়েছিলেন।
58
কিন্তু পিতর একটু দূর থেকে তাঁকে অনুসরণ করছিলেন। তিনি প্রধান পুরোহিতের গৃহের প্রাঙ্গণ পর্যন্ত এসে ভিতরে ঢুকে পড়লেন এবং শেষ পর্যন্ত কি ঘটে তা দেখার জন্য ভৃত্যদের সঙ্গে গিয়ে বসলেন।
59
পুরোহিতেরা ও সমগ্র মহাসভা যীশুর বিরুদ্ধে এমন একটা মিথ্যা সাক্ষ্যের সন্ধানে ছিল যাতে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
60
অনেক মিথ্যা সাক্ষী এসে হাজির হলেও সেরূপ সাক্ষ্য প্রমাণ তারা পেল না। অবশেষে দুজন এগিয়ে এল।
61
তারা বলল, এ ব্যক্তি বলেছিল, আমি ঈশ্বরের মন্দির ধ্বংস করে আবার তিনদিনের মধ্যে তা পুনর্নির্মাণ করতে পারি।
62
তখন প্রধান পুরোহিত উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে বললেন, তুমি কি কোন উত্তর দেবে না? এরা তোমার বিরুদ্ধে এসব কি অভিযোগ করেছ?
63
যীশু কিন্তু নীরব রইলেন। প্রধান পুরোহিত তাঁকে, বললেন, জীবনময় ঈশ্বরের দোহাই, আমাদের বল, তুমি কি ঈশ্বরের পুত্র সেই খ্রীষ্ট?
64
যীশু তাঁকে বললেন, আপনি নিজেই বললেন। তাছাড়া আমি আপনাদের বলছি, এখন থেকে আপনারা দেখবেন মানবপুত্র সর্বশক্তিমানের দক্ষিণে উপবিষ্ট। আবার মেঘবাহনে তাঁকে নেমে আসতেও দেখবেন।
65
তখন প্রধান পুরোহিত নিজের পোষাক ছিঁড়ে ফেলে বললেন, এ তো ঘোর ঈশ্বরনিন্দা! অন্য সাক্ষীর আর কী প্রয়োজন? তোমরা তো নিজেরাই এই ঈশ্বরনিন্দা শুনলে।
66
তোমাদের মত কি। তারা উত্তর দিল, হ্যাঁ, এ দোষী, মৃত্যুদণ্ডের যোগ্য।
67
তখন তারা তাঁর মুখে থুতু দিল, তাঁকে ঘুষি মারতে লাগল। কেউ কেউ তাঁকে চড়চাপড় মেরে বলল,
68
ওহে খ্রীষ্ট, ভাববাণী বল, কে তোমাকে মারবে?
69
এদিকে পিতর বাইরের প্রাঙ্গণে বসেছিলেন। একজন দাসী তাঁর কাছে এসে বলল, তুমিও তো সেই গালীলের যীশুর সঙ্গে ছিলে।
70
তিলি সকলের সামনে তা অস্বীকার করে বললেন, তুমি কি বলছ তা আমি জানি না।
71
আর একজন দাসী তাঁকে বাইরের ফটকের দিকে যেতে দেখে সেখানে যারা উপস্থিত ছিল তাদের বলল, এই লোকটাও সেই নাসরতের যীশুর সঙ্গে ছিল।
72
তিনি আবার অস্বীকার করলেন এবং দিব্যি করে বললেন, আমি লোকটাকে চিনিই না।
73
সেখানে যারা দাঁড়িয়েছিল কিছুক্ষণ পরে তারা কাছে এসে বলল, সত্যি তুমিও তাদেরই একজন। তোমার কথা শুনেই তা বোঝা যাচ্ছে।
74
তখন তিনি অভিশাপ দিয়ে ও শপথ করে বলতে লাগলেন, আমি ঐ লোকটাকে চিনিই না। তখনই মোরগ ডেকে উঠল।
75
আর পিতরের মনে পড়ল যীশুর সেই কথাটি, ‘মোরগ ডাকবার আগে তুমি আমাকে তিনবার ও অস্বীকার করবে’। বাইরে গিয়ে আর্তকন্ঠে পিতর কাঁদতে লাগলেন।
← Chapter 25
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 22
Chapter 23
Chapter 24
Chapter 25
Chapter 26
Chapter 27
Chapter 28
Chapter 27 →
All chapters:
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
13
14
15
16
17
18
19
20
21
22
23
24
25
26
27
28