bible
ra
🌐 Language
English
Español
Français
Deutsch
Português
Italiano
Nederlands
Русский
中文
日本語
한국어
العربية
Türkçe
Tiếng Việt
ไทย
Indonesia
All Languages
Home
/
Bengali
/
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
/
Matthew 27
Matthew 27
Bengali CL BSI 2016 (পবিএ বাইবেল CL Bible (BSI))
← Chapter 26
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 22
Chapter 23
Chapter 24
Chapter 25
Chapter 26
Chapter 27
Chapter 28
Chapter 28 →
1
পরদিন সকালে পুরোহিত-প্রধানেরা ও সমাজপতিরা সকলে মিলে মন্ত্রণা করতে লাগলেন, কি করে তাঁরা যীশুর মৃত্যু ঘটাতে পারেন।
2
তাঁরা তাঁকে বেঁধে নিয়ে গিয়ে রোমীয় রাজ্যপাল পীলাতের হাতে সমর্পণ করলেন।
3
এদিকে, যীশুকে যে ধরিয়ে দিয়েছিল সেই যিহুদা যখন দেখতে পেল যে যীশুকে দণ্ডিত করা হয়েছে, তখন সে অত্যন্ত অনুতপ্ত হল এবং পুরোহিত প্রধান ও সমাজপতিদের কাছে সেই ত্রিশটি রৌপ্যমুদ্রা ফিরিয়ে দিয়ে বলল,
4
আমি পাপ করেছি, নির্দোষ ব্যক্তিকে ধরিয়ে দিয়েছি। কিন্তু তাঁরা বললেন, তাতে আমাদের কি? সে তোমার ব্যাপার।
5
যিহুদা তখন সেই রৌপ্যমুদ্রাগুলি মন্দিরের মধ্যে ফেলে দিয়ে চলে গেল এবং গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করল।
6
পুরোহিত প্রধানেরা মুদ্রাগুলি তুলে নিয়ে বললেন, এগুলি কোষাগারে রাখা ঠিক হবে না। কারণ এ হল রক্তের মূল্য।
7
তাঁরা পরামর্শ করে বিদেশীদের কবর দেবার জন্য ঐ অর্থ দিয়ে ‘কুমোর ডাঙ্গা’ কিনে নিলেন।
8
এই কারণে ঐ জায়গাটি আজও “রক্ত ক্ষেত্র’ নামে পরিচিত।
9
তাতে নবী যিরমিয়ের এই ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ হল, ইসরায়েলীরা একটি মানুষের মূল্য ধার্য করল ত্রিশটি মুদ্রা, সেই অর্থ তারা গ্রহণ করল এবং
10
তা দিয়ে তারা কিনে নিল কুমোরের জমি-প্রভু আমাকে বলেছেন এ কথা।
11
যীশুকে রাজ্যপালের সামনে উপস্থিত করা হল, রাজ্যপাল তাঁকে বললেন, তুমি কি ইহুদীদের রাজা? যীশু তাঁকে বললেন, আপনি নিজেই বলছেন।
12
প্রধান পুরোহিতদের নেতৃবৃন্দ ও সমাজপতিরা তাঁর বিরুদ্ধে ও অভিযোগ করতে লাগলেন, কিন্তু তিনি তার কোনো উত্তর দিলেন না।
13
তখন পীলাত তাঁকে বললেন, তোমার বিরুদ্ধে এরা এত সব অভিযোগ আনছে, তুমি কি তার কিছুই শুনছ না?
14
যীশু কোনো কথারই উত্তর দিলেন না। এতে রাজ্যপাল অত্যন্ত আশ্চর্য হলেন।
15
পূর্বের সময়ে রাজ্যপাল একটি রীতি অনুসরণ করতেন, জনসাধারণের ইচ্ছানুসারে যে কোন একজন বন্দীকে তিনি মুক্ত করে দিতেন।
16
সে সময়ে যীশু বারাব্বাস নামে একজন কুখ্যাত বন্দী ছিল।
17
জনতা যখন এসে ভিড় করে দাঁড়াল, তখন তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কার মুক্তি চাও-আমি কাকে ছেড়ে দেব, যীশু বারাব্বাসকে না যাকে খ্রীষ্ট বলে সেই যীশুকে?
18
কারণ তিনি ভালভাবেই জানতেন যে ঈর্ষাবশতই তারা তাঁকে ধরিয়ে দিয়েছিল।
19
পীলাত যখন বিচারের আসনে উপবেশন করলেন সেই সময়ে তাঁর স্ত্রী তাঁকে বলে পাঠালেন, ঐ ধার্মিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তুমি সব কিছু করো না, কারণ ওঁর সম্বন্ধে আমি আজ খুব দুঃস্বপ্ন দেখেছি।
20
এদিকে পুরোহিতদের নেতৃবৃন্দ জনতাকে প্ররোচনা দিল যেন তারা বারাব্বাসের মুক্তি ও যীশুর মৃত্যু দাবী করে।
21
রাজ্যপাল তাদের আবার জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কাকে চাও? এ দুজনের মধ্যে আমি কাকে মুক্তি দেব? তারা একসঙ্গে বলল, বারাব্বাসকে।
22
পীলাত তাদের বললেন, তাহলে যাকে খ্রীষ্ট বলে সেই যীশুর সম্বন্ধে আমি কি করব? তারা সকলে বলল, ওকে ক্রুশে দেওয়া হোক।
23
পীলাত আবার তাদের বললেন, কী অপরাধ সে করেছে? তারা আরও বেশি চীৎকার করে বলতে লাগল, ওকে ক্রুশে দাও।
24
পীলাত যখন দেখলেন যে তাঁর চেষ্টায় কোনো ফল হচ্ছে না, বরং গোলমাল ক্রমেই বেড়ে চলেছে, তখন তিনি জল নিয়ে জনতার সামনে হাত ধুয়ে বললেন, এই নির্দোষ মানুষটির রক্তপাতের জন্য আমি দায়ী নই, এ দায়-দায়িত্ব সব তোমাদের।
25
তখন সমগ্র জনতা সমস্বরে বলল, ওর রক্তের দায় আমাদের ও আমাদের সন্তানদের উপর বর্তাক।
26
তখন পীলাত বারাব্বাসকে মুক্তি দিলেন এবং যীশুকে কশাঘাত ও ক্রুশবিদ্ধ করার নির্দেশ দিলেন।
27
তারপর রাজ্যপালের সৈন্যরা যীশুকে রাজভবনে সৈন্যাবাসে নিয়ে গেল এবং সমগ্র সেনাদল তাঁর চারপাশে জড়ো হল।
28
তাঁর জামাকাপড় খুলে নিয়ে তারা তাঁকে একটি গাঢ় বেগুনী পোষাক পরিয়ে দিল।
29
একটি কাঁটার মুকুট গেঁথে তারা তাঁর মাথায় বসিয়ে দিল আর তাঁর ডান হাতে তুলে দিল একটি লাঠি। তাঁর সামনে তারা নতজানু হয়ে উপহাস করে বলতে লাগল, ইহুদী রাজের জয় হোক!
30
তারা তাঁর গায়ে থুতু দিল এবং সেই লাঠি দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করল।
31
এইভাবে বিদ্রূপ করার পর তারা তাঁর গায়ের সেই পোষাক খুলে নিল, আবার তাঁকে তাঁর নিজের জামাকাপড় পরিয়ে তাঁকে ক্রুশে দেবার জন্য নিয়ে চলল।
32
যাওয়ার পথে তারা সাইরিনবাসী শিমোন নামে এক জনের দেখা পেল। তাকেই তারা বাধ্য করল যীশুর ক্রুশ বয়ে নিয়ে যেতে।
33
তারা গলগথা অর্থাৎ ‘মাথার খুলির স্থান’ নামে জায়গায় পৌঁছাল।
34
সেখানে তাঁকে তিক্ত দ্রাক্ষারস পান করতে দিল, কিন্তু একটু আস্বাদন করে তিনি তা পান করতে চাইলেন না।
35
তারাপর তাঁরা তাকে ক্রুশবিদ্ধ করল এবং পাশা চেলে তাঁর জামাকাপড় নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিল।
36
সেখানে বসে তারা তাঁকে পাহারা দিতে লাগল।
37
“যীশু, ইহুদীদের রাজা, “ এই মর্মে একটি অপরাধ-লিপি লিখে তাঁর মাথার উপর টাঙ্গিয়ে দেওয়া হল।
38
তারপর দুজন দস্যুকেও তাঁর সঙ্গে ক্রুশবিদ্ধ করা হল, একজনকে ডানদিকে ও একজনকে বাঁদিকে।
39
যারে সেই পথ দিয়ে যাচ্ছিল তারা মাথা নেড়ে নেড়ে তাকে বিদ্রূপ করতে লাগল,
40
তুমি তো মন্দির ধ্বংস করে আবার তিন দিনের মধ্যে তৈরী করতে পার! এবার নিজেকে বাঁচাও দেখি। তুমি যদি ঈশ্বরের পুত্র হয়ে থাক তবে ক্রুশ থেকে নেমে এস।
41
পুরোহিত প্রধানেরাও অনুরূপভাবে শাস্ত্রী ও সমাজপতিদের সঙ্গে তাঁকে উপহাস করে বলছিলেন,
42
ও অপরকে বাঁচিয়েছে, নিজেকে কিন্তু বাঁচাতে পারছে না। ও নাকি ইসরায়েলের রাজা। তাহলে ক্রুশ থেকে নেমে আসুক, তখন আমরা ওকে বিশ্বাস করব।
43
ঈশ্বরের উপর ও নির্ভর করেছিল, তিনি যদি ওর উপর তুষ্ট থাকেন, তাহলে তিনি ওকে উদ্ধার করুন। কারণ ও তো বলেছিল, ‘আমি ঈশ্বরের পুত্র’।
44
যে দস্যুরা তাঁর সঙ্গে ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিল তারাও তাঁকে উপহাস করছিল।
45
বেলা বারোটা থেকে তিনটে পর্যন্ত সারা দেশ অন্ধকার হয়ে রইল।
46
বেলা প্রায় তিনটের সময় যীশু উচ্চকন্ঠে চীৎকার করে বলে উঠলেন, এলী এলী লামা শবক্তানী, অর্থাৎ ঈশ্বর, আমার, ঈশ্বর আমার, কেন আমায় পরিত্যাগ করেছ?
47
সেখানে যারা দাঁড়িয়েছিল তারা একথা শুনে বলল, ও এলিয়কে ডাকছে।
48
তাদের একজন তখনই ছুটে গিয়ে একটা স্পঞ্জ এনে ভিজিয়ে সেটা একটা নলে লাগিয়ে তাঁকে পান করতে দিল।
49
কিন্তু অন্যেরা বলল, থাক, দেখি এলিয় ওকে বাঁচাতে আসেন কি না!
50
যীশু আবার উচ্চকন্ঠে চীৎকার করে প্রাণত্যাগ করলেন।
51
তখনই মন্দিরের যবনিকা উপর থেকে নীচু পর্যন্ত ছিঁড়ে দুভাগ হয়ে গেল, ভূমিকম্প হল, পর্বত বিদীর্ণ হল,
52
সমাধিগুলি খুলে গেল, বহু মৃত পুণ্যাত্মার দেহ পুনরুজ্জীবিত হয়ে উঠল,
53
এবং যীশুর পুনরুত্থানের পর সমাধি থেকে বেরিয়ে এসে তাঁরা পুণ্য নগরীতে প্রবেশ করেছিলেন।
54
শতপতি সেনানায়ক ও তাঁর সঙ্গে যাঁরা যীশুকে পাহারা দিচ্ছিলেন তাঁরা ভূমিকম্প আর ঐ সমস্ত ঘটানা ঘটতে দেখে ভয়ে অভিভূত হয়ে বললেন, সত্যি ইনি ঈশ্বরের পুত্র ছিলেন।
55
সেখানে অনেক মহিলা দূরে দাঁড়িয়ে এ সব দেখছিলেন। যীশুর সেবা করার জন্য তাঁরা গালীল থেকেই তাঁর সঙ্গে এসেছিলেন।
56
তাঁদের মধ্যে ছিলেন মাগদালার মরিয়ম, যাকোব ও যোষেফের মা মরিয়ম ও সিবদীয়ের পুত্রদের মাতা।
57
সন্ধ্যা হবার পর যোষেফ নামে আরিমাথিয়া শহরের একজন ধনী ব্যক্তি সেখানে এলেন। তিনিও যীশুর শিষ্য হয়েছিলেন।
58
তিনি পীলাতের কাছে গিয়ে যীশুর দেহটি চাইলেন। পীলাত তাঁকে দেহটি দিতে নির্দেশ দিলেন।
59
যোষেফ দেহটি নিয়ে পরিষ্কার ক্ষৌমবস্ত্রে জড়ালেন।
60
তারপর নিজের জন্য পাহাড়ের গায়ে খোদিত একটি নূতন সমাধিতে সেই দেহ রাখলেন। তারপর সমাধির মুখে একখানা বড় পাথর গড়িয়ে দিয়ে তিনি চলে গেলেন।
61
মাগদালার মরিয়ম ও মরিয়ম নামে অপর মহিলাও সেখানে সমাধির সামনে বসে পড়লেন।
62
পরের দিন অর্থাৎ উৎসবের প্রস্তুতি দিবসের পরের দিন পুরোহিত প্রধানেরা ও ফরিশীরা একসঙ্গে এসে পীলাতকে বললেন,
63
হে মহামান্য, আমাদের মনে পড়ছে, সেই প্রতারক তার জীবিতকালে বলেছিল, তিনদিন পরে আমি পুনরুত্থিত হব।
64
কাজেই আপনি আদেশ দিন যাতে তিনিদিন পর্যন্ত তার সমাধি পাহারা দেওয়া হয়, পাছে তার শিষ্যেরা এসে দেহটি চুরি করে নিয়ে যায় এবং জনসাধারণকে বলে, ‘মৃতদের মধ্য থেকে তিনি পুনরুত্থিত হয়েছেন’। তাহলে শেষের প্রতারণা প্রথমের চেয়ে আরও গুরুতর হবে।
65
পীলাত তাদের বললেন, প্রহরী তো তোমাদের দেওয়া হয়েছে। তোমরা গিয়ে তোমাদের ইচ্ছামত পাহারার ব্যবস্থা কর।
66
তখন তারা গিয়ে সমাধির প্রস্তরখানির উপর সীলমোহর করে প্রহরী বসিয়ে সমাধিকে সুরক্ষিত করল।
← Chapter 26
Jump to:
Chapter 1
Chapter 2
Chapter 3
Chapter 4
Chapter 5
Chapter 6
Chapter 7
Chapter 8
Chapter 9
Chapter 10
Chapter 11
Chapter 12
Chapter 13
Chapter 14
Chapter 15
Chapter 16
Chapter 17
Chapter 18
Chapter 19
Chapter 20
Chapter 21
Chapter 22
Chapter 23
Chapter 24
Chapter 25
Chapter 26
Chapter 27
Chapter 28
Chapter 28 →
All chapters:
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
13
14
15
16
17
18
19
20
21
22
23
24
25
26
27
28